সর্বশেষঃ

ভরা মৌসূমেও ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় মিলছে না কাঙ্খিত ইলিশ

মনিরুজ্জামান, বোরহানউদ্দিন ॥ চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম। অথচ ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীতে পাওয়া যাচ্ছে না কাঙ্খিত ইলিশ। সুনসান নীরবতা, উভয় নদীর তীরে জেলে পল্লী, স্থানীয় বাজার ও মাছঘাটগুলো। তাই হতাশায় দিনকাটছে সকলের। আশার ভেলায় বার বার নদীতে গিয়ে হতাশা হয়ে খালি হাতে ফিরে আসছে তাঁরা।
বিভিন্ন মাছঘাট ঘুড়ে দেখা যায়, ঘাটে নোঙর করে আছে সারি সারি নৌকা। জেলেরা কেউ নৌকায় বসে, কেউ নদীর পাড়ে বসে, জাল বুনে সময় পার করছেন। কেউবা মোবাইলে গানশুনে পাড় করছেন অলস সময়। মৎস্য বভিাগ, এ খাত সংশ্লষ্টি ব্যবসায়ী ও জলেরো জানান, নদীতে অসংখ্য ডুব চর, নাব্য সংকট, উজানের প্রবাহ কম থাকা এবং বৃষ্টি কম, তাপমাত্রা বাড়ায় নদীর পানির লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়া, উজানে পাহাড়ি ঢল না থাকায় নদীতে এখনো কাঙ্খতি রুপালি ইলিশ ধরা পড়ছে না।ত াঁরা বলছেন, প্রতি বছর এ সময়ে ইলিশ বিকিকিনির দৌড়ঝাঁপ থাকত। অথচ এ বছর ঘাটগুলোতে তার পুরোই বিপরীত চিত্র।
জেলেরা জানান, ঝাটকা সংরক্ষণ, ২২দিন মা ইলিশ রক্ষা অভিযান, সাগরে টানা ৬৫ দিনের অভিযান শেষে ইলিশ শিকারের আশায় জেলেরা প্রতিদিন দল বেঁধে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাল ফেললে ও মিলছে না কাঙ্খিত রুপালী ইলিশ। সারাদিন নদীতে ঘুরে মাছ না পেয়ে জেলেদের পেরেশানি। অন্যদিকে, ব্যবসা না থাকায় আড়তদাদের দিন কাটছে হতাশায়। ২-৪ টা পেলেও তা দিয়ে ট্রলারের তেলের খরচ উঠছে না। তেলের দাম বৃদ্বির প্রভাব জলে পড়ায় অনেকে নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। অপরদিকে, প্রতিদিনই মহাজন ও তেলের দোকানের দেনা পরিশোধের চাপে বিপাকে পড়তে হচ্ছে জেলেদের।
মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পাড়ের কয়েকটি বড়মাছঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নদীর পাড়ে জাল নৌকা কেউ দাঁড়িয়ে আবার কেউবা চায়ের দোকানে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। মেঘনার পাড়ের আলিমুদ্দিন বাংলাবাজার ঘাটের জেলে রহিজল, মিজান, মির্জাকালু মাছ ঘাটের জেলে হাসান, আরিফ, তেতুলিয়া নদীর কালাম বর্দারের ঘাটের জেলে জুলহাস, রহমান, আকিব, নুর ইসলাম বলেন, নদীতে অহন মাছ পরেনা। গাংগে (নদীতে) গেলে লোকসান। তেল খরচ, মাঝিমাল্লা খরচ লাগে। একই এলাকার জেলে খোকন বলেন, নদীতে অহন মাছ কম পড়ছে। দেউুলা শিবপুর গ্রামরে মোঃ ইদ্রিস মাঝি জানান, এবছর নদীতে মাছ খুবই কম। নদীতে গেলে খরচ উঠানো দায়, তাই জাল সেলাই করে সময় কাটাচ্ছি।
একই এলাকার জুয়েল, আজাহার ও আকবর জানান, মাঝে মধ্যে ৩-৪ হাজার টাকা হয়। বেশি ভাগ সময় খরচ ওঠে না। এনজওি থেকে ঋণ ও মৎস ব্যবসায়ীদরে কাছ থেকে দাদন নিয়ে আমরা বিপাকে। মেঘনার বড় মাছ ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মাঝি, তেঁতুলিয়ার কালাম বর্দার, মোশারফ হোসেন বলেন, লাখ লাখ টাকা দাদন দিয়ে আমরা এখন অসহায়। নদীতে মাছ নেই, তাই আমাদের ব্যবসাও নেই।
উপজেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবি জেলে সমিতির সভাপতি আবু সাইদ মাঝি ও জাতীয় মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি শাহে আলম বলেন, এখন ইলিশের ভরা মৌসুম। তাই, সে অনুযায়ী নদীতে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ মাছ পড়ার কথা। নদীতে চর জাগা, উজানের প্রবাহ কম থাকা এবং বৃষ্টি কম হওয়ায় নদীতে এখনো কাঙ্খিত রুপালী ইলিশ ধরা পড়ছে না।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিন (অ.দা) মো. জামাল হোসাইন জানান, এখানকার অভয়াশ্রমের মোহনায় অসংখ্য ডুবোচর। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সময়মতো বৃষ্টি না হওয়ায় অতিরিক্ত গরম বিরাজমান। মাছের পেটে এখনো ডিম আসেনি। তাই সমুদ্র থেকে নদীতে মাছ আসছে না। তবে কিছুদিন পর মাছ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা মৎস্য র্কমর্কতা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, অধকিাংশ মাছরে পেটে এখনো ডিম আসেনি। তাই সমুদ্র থেকে নদীতে মাছ আসছে না। ডিম আসলে নদীতে কাঙ্খতি ইলিশ ধরা পরবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।