ডেস্ক রিপোর্ট ॥ সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষকদের দাবি, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয় সরকারি কোষাগারে জমা নিলে এই অর্থের মধ্যেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয়করণ সম্ভব। এ জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্টদের শুধু সদিচ্ছা থাকা জরুরি। শিক্ষক নেতারা ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দাবি মেনে নেওয়ার সময়সীমা জানিয়েছেন। অন্যথায় ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচিসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও জানান তারা। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণপ্রত্যাশী মহাজোটের সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সদস্যসচিব এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব জসিম উদ্দিন আহমদ।
লিখিত বক্তব্য পাঠে বলা হয়, সরকারের তহবিল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ভাতায় মাসে এক হাজার কোটি টাকাসহ বছরে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হলে মাসে দুই হাজার কোটি টাকাসহ বছরে বায় হবে ২৪ হাজার কোটি টাকা। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের আয় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। যা সরকারি কোষাগারে জমা দিলে জাতীয়করণের পরও সরকারের কাছে বাড়তি এক হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে।
জাতীয়করণের অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা জানিয়ে বলা হয়, এতে সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার বৈষম্য দূর হবে। শহর ও গ্রামের শিক্ষায় সমতা আসবে। সরকারির মতোই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যয় কমবে। শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাসহ নতুন শিক্ষাক্রম শতভাগ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে শিক্ষক নেতারা বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে সরকারের সদিচ্ছা, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ও সাহসী ভূমিকার প্রয়োজন। যা কেবল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিতে পারেন। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রতিনিধি সরকারের দপ্তরে না থাকা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের অধিকারের দাবি সরকারের কোনো দপ্তরে উত্থাপিত হয় না।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহাজোট সভাপতি অধ্যক্ষ মো. মাইন উদ্দীন, বাংলাদেশ বেসরকারি মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ মওলানা দেলোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য শিক্ষক-কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ