স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে ফের জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে ভোলার দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। গত সোমবার (৫ই ডিসেম্বর ২২) বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড সমাপনী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে। তাতে জেলার ফের ফলাফলে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্থান পেয়েছে ভোলার দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট।
সমাপনি পরীক্ষায় ২শ’ ১১ জন ছাত্র-ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। তার মধ্যে ১১জন জিপিএ-৫ ও ৯৪.৫ শতাংশ পাস করেন এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে সারা বাংলাদেশে পাসের হার ৪৬ শতাংশ। ভোলায় সরকারি-বেসরকারি মোট ৫টি পলিটেকনিকের মধ্যে ভোলা পলিটেকনিকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১টি। ভোলায় সর্বমোট ১২টি জিপিএ-৫ পেয়েছে, তার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-ই পেয়েছে ১১টি। ফলাফল প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীরা আনন্দ উচ্ছ্বাসে পেতে উঠেন। বাধভাঙ্গা আনন্দ উল্লাসে মুখরিত পুরো ইন্সটিটিউট।
দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রী রাবেয়া বশরী বলেন, আমাদের এই ফলাফলের পিছনে পিতা-মাতার পাশাপাশি ইন্সটিটিউটের শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। একজন শিক্ষার্থীর মেধা বিকাশের জন্য যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ ও সঠিক গাইড লাইন পেতে হয়, যা ভোলার দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আমরা পেয়েছি।
এছাড়াও ঐ ইন্সটিটিউটের জিপিএ-৫ পাওয়া ৮ম পর্বের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমীন বলেন, ভর্তির সময় শিক্ষকদের একটা বাণী আজ মনে পড়ে, তারা বলেছিলেন সন্তান আপনাদেও; আর দায়িত্ব আমাদের। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের দায়িত্ব ও নিষ্ঠার কাছে আমরা ঋণী। তাদের সঠিক গাইডলাইন ও শিক্ষাদানের কারণেই আজ আমরা এই ফলাফল অর্জন করতে পেরেছি।
জিপিএ-৫ প্রাপ্ত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হোসেনের পিতা রুহুল আমিন খান বলেন, সন্তানদের পিছনে আর্থিক ও কায়িক শ্রম তখনই স্বার্থক, যখন সন্তানদের লেখা পড়া বা সফলতার খবর শুনি। আমার ছেলের ফলাফলে সত্যি আমি একজন অভিবাবক হিসেবে গর্ববোধ করি এবং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
একাডেমিক ইনচার্জ মো. বেল্লাল নাফিজ বলেন, দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিকের ছাত্র-ছাত্রীদের ফলাফলে প্রথম স্থান অর্জন করায় নিজেকে গর্ববোধ করছি। ইতিপূর্বেও আমরা ফলাফল শীর্ষস্থান অর্জন করি এবং জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২২ সেরা কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচিত হই। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। একজন শিক্ষক সততা, পেশাগত দায়িত্ব পালনে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষাদান দিয়ে আসেন। শিক্ষার্থীদের শেষ্ঠত্ব ও তাদের মুখে সোনালী হাসি সত্যি শিক্ষদের অনেক আনন্দ দিয়ে থাকে। প্রতিষ্ঠানের সুনাম ধরে রাখার জন্য এই অর্জন আরো ইচ্ছা শক্তি বাড়িয়ে তুলবে বলেও জানান তিনি।
পলিটেকনিক প্রতিষ্ঠাতা মাহামুদুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের সফলতায় আমরা আনন্দিত। এই সফলতার পিছনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের নিরলস পরিশ্রম রয়েছে। আশা করছি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে সফলতার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখবে। আমরা প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে আরো এগিয়ে যাবো বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি আরো বলেন, আমরা এই বছরে আরো পাঁচটি ডিপার্টমেন্ট (ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভেয়িং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং) অনুমোদন পেয়েছি। যা সত্যি ভোলাবাসীর জন্য সুসংবাদ। দেশের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান দক্ষিণবঙ্গ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভোলা।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের ফলাফলের শ্রেষ্ঠত্ব সত্যি এটা আমাদের জন্য আনন্দের ও খুশির। শিক্ষার্থীদের সফলতাই আমাদের পরিশ্রমের সার্থকতা।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ