নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে স্বজন হারানোর আহাজারি আর কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। মা-বাবাকে খুঁজতে এসেছেন পাঁচ বোন। এর মধ্যে একজন বলেন, ‘বাবা-মা ডাক্তার দেখাতে নারায়ণগঞ্জে এসেছিলেন। তারা লঞ্চের নিচতলায় ছিলেন। লঞ্চ ডুবার সময় আমাদের গ্রামের একজন সাঁতরিয়ে পাড়ে উঠেছেন। পরে তিনি গ্রামে ফোন করে জানিয়েছেন ঘটনা। আমরা এখনও মা-বাবাকে খুঁজে পাইনি।
দেড় বছরের ছেলেকে খুঁজছেন মো. সোহান। তিনি বলেন, ‘আমার শিশুসন্তান আজমীর তার দাদার সঙ্গে নানির বাড়িতে যাচ্ছিল। লঞ্চ ডুবে যাওয়ার পর থেকে আমার ছেলে আর বাবা নিখোঁজ, তাদের কোথাও পাচ্ছি না।

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীতে মালবাহী কার্গোর ধাক্কায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা হয়েছে। লঞ্চ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৩০ জনে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ৩০ জনের পরিচয় জানা যায়নি। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করছে ফায়ার সার্ভিস এবং মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। সোমবার (৫ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে ডুবে যাওয়া লঞ্চ উদ্ধার করা হয়। এরপরই লঞ্চটির ভেতর থেকে মরদেহ বের করতে শুরু করেন উদ্ধারকারীরা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেক জানান, উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করে মরদেহগুলো ফায়ার সার্ভিসকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা শনাক্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে মরদেহ বুঝিয়ে দেবে।
ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের ঢাকার সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন জানান, জেলা প্রশাসন সমাপ্ত ঘোষণা করলেও আমাদের কার্যক্রম বিকেল পর্যন্ত চলবে। ইতোমধ্যে আমরা ৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছি।
এদিকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ‘সাবিত আল হাসান’ নামে লঞ্চটি তীরে তোলা হয়। এ সময় নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা রবিবার রাত থেকেই নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। মাঝ নদী থেকে সাবিত আল হাসান নামে লঞ্চটি টেনে পারের দিকে নিয়ে আসা হয়। সেসময় আশেপাশে ভিড় করেন স্থানীয়রা। উদ্ধারকর্মীদের পাশাপাশি লঞ্চটি তোলার পর সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে হাত লাগান স্থানীয়রা। এখনও অনেক নিখোজ করেছে এমনটাই দাবী করছেন স্বজনরা। তারা অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনদের ফিরে পাওয়ার।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ