চরফ্যাশনের চর মাদ্রাজ ইউনিয়ন মিয়াজানপুর গ্রামে শিক্ষক পরিবারে কৃষি জমি জবর দখল করে ইটভাটা স্থাপনের অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রভাবখাটিয়ে ভূয়া দলিল দেখিয়ে মিসকেইচ সৃজন করে জমাখারিজ (নামজারী) এবং জীবিত ব্যক্তিকে মৃত দেখিয়ে নোটারীপত্র তৈরী করে শিক্ষক পরিবারের রেকর্ডীয় জমির জবর দখল করা হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক কবির হোসেন অভিযোগ করেছেন।
মিয়াজানপুর গ্রামের অহিদুর রহমান মিয়াজীর ছেলে মাদ্রাসা শিক্ষক কবির হোসেন জানান, মিয়াজানপুর মৌজার দিয়ারা ১৪৫ এবং এসএ ২১২ খতিয়ানে তিনি এবং তার মা ভাই-বোনদের জমির পরিমান ১১.০৫ একর। ওই জমি থেকে বিভিন্ন ক্রেতার কাছে তারা ৮.১৭ একর জমি বিক্রি করেন। বিক্রির পর ২.৮০ শতাংশ জমিতে তারা ভোগ দখলে আছেন।
কবির হোসেন অভিযোগ করেন, চরফ্যাশন পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ইমাম হোসেন নিরবসহ পূর্ববর্তী ৮.১৭ একর জমির ক্রেতারা চরফ্যাশন সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ৫৪৯৪/২০ ভুয়া দলিল দেখিয়ে ৪৫৪৩/১৮-১৯ নামজারী কেইসের মাধ্যমে ১.৪৬ একর জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। পাশাপাশি ভুয়া নোটারীপত্র সৃজন করে অবশিষ্ট ১.৩৪ একর জমি নিজেদের নামে লিখিয়ে নেন। এই নোটারীপত্র তৈরী করতে গিয়ে ৩০ শতাংশ জমির রেকর্ডীয় মালিক ফাজিলত বেগমের স্বামী জীবিত মানিকবাগাকে মৃত দেখানো হয়েছে। এভাবে ৮.১৭ একর জমি ক্রয় করে ভুয়া নামজারী এবং নোটারীপত্র সূজন করে রেকর্ডীয় মূল মালিকদের সমূদয় ১১.০৫ একর জমি জবর দখল করা হয়েছে।
সূত্রে আরো জানা গেছে, প্রভাবশালী ইমাম হোসেন নিরব ও ছাত্রলীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে স্থানীয় মাধ্যমে ক্যাডারদের ব্যাবহার করে অসহায় শিক্ষক পরিবারের সমূদয় জমি দখল করে তাহাতে মা ইটভাটা ও বরফ কল গড়ে তোলেন। এখন শিক্ষক পরিবারটিকে তাদের জমি থেকে সরে যাওয়ার জন্য হুমকী ধামকী দিচ্ছেন। এতে পরিবারটি তাদের পিতৃ পুরুষের বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের হুমকীর মধ্যে পড়েছেন। নিরুপায় হয়ে পরিবারটি স্থানীয় মান্যগন্য ব্যক্তিদের কাছে ঘুরে ফিরে পুলিশের কাছে ধর্ণা দিয়েছেন।
শিক্ষক কবির হোসেন জানান, চরফ্যাশন থানার ওসি দু’পক্ষকে ডেকে কাগজপত্র দেখে প্রভাবশালীদের চাপে কোন সিন্ধান্ত দিতে পারছে না। ফলে হামলা আর উচ্ছেদ আতংকে পরিবারটি চরফ্যাসন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা রুজু করেছেন।
অভিযুক্ত ইটভাটা মালিক ইমাম হোসেন নিরব জানান, কবির গংদের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ইট ভাটা নির্মান করেছি। জালজালিয়তির বিষয়টি সঠিক নয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ জানান, ওই জমি আমি ইমাম হোসেন নিরবের কাছ থেকে খরিদ করে বরফ মিল স্থাপন করেছি। জালজালিয়তির কোন বিষয় আমার জানা নাই।
চরফ্যাশন থানার ওসি মনির হোসেন মিয়া জানান, এক পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে জমি সংক্রান্ত বিরোধীয় বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ