
ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর) : মমের বাবা ব্রাহ্মাবাড়িয়ার একজন প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার। ভদ্রলোকের ৭টা ছেলে-মেয়ে। ঘরে জোয়ান স্বাস্থ্যবতী সুন্দরী স্ত্রী। টাকা পয়সা জিনিস পত্রে ঘর জমজমাট। বাগানে বিভিন্ন ফল-ফুলে ভরপুর। ফুলের মধ্যে বিশেষ করে রজনীগন্ধার ঝাড়ই বেশী। শাক-সবজি ও বাগান ভর্তি। নিজেরা খায়, আত্মীয়-স্বজন সহ পার্শ্ববর্তীদেরকে বিলায়। ঘরে বিধবাশালী দু’টো ছেলে মেয়ে সহ নিজের ভাই, ভাইর বৌ, তাদের ছেলে-মেয়েসহ এক সাথে থাকে। বড় মেয়েটা করাচি থাকে। বিশেষ ছুটি পেলে মাঝে মধ্যে বেড়াতে আসে এ রূপ হাসি খুশি সংসার তাদের মম ডাক্তার সাহেবের যমজ সন্তান মমের সাথে আর এাক ভাই জন্ম গ্রহণ করেছিল। তখন তার মা খুব অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। মহান প্রভু হয়ত সন্তানদের উছিলায় বাঁচিয়ে রেখেছেন।
খাজা সাহেব মমদের বাড়ীর পাশেই থাকতেন। বিদেশী কোম্পানীর বড় অফিসার। ৭টি ছেলে মেয়ে তবু খাজা সাহেবের স্ত্রী এই মম মেয়েটার প্রতি কেন যেন মায়ায় পড়েছিল। অল্প বয়স হতে মিসেস খাজা মমকে মাঝে মাঝে নিজের কাছে রাখতেন। দুধ খাইয়ে দিতেন, ঘুম পড়াতেন। ভারি সুন্দর খুব মমের। সুন্দর টান-টানা দু’টো চোখ, যেন অনাদি অনন্ত কালের স্বপ্ন ওর দু’চোখে, মাথা ভরা কালো কোকড়ানো চুল। সকল সৌন্দর্য যেন তার মধ্যে নিহিত। দেখলে যে কেহ তাকে ভাল না বেসে পারে না। মম আস্তে আস্তে বড় হতে লাগল মমের বয়স যখন আড়াই বছর তখন মমের মা আবার অন্তঃসত্ত্বা হল। মমের মা একদিন গল্প চলছে মিসেস খাজাকে বললেন, ভাবি এ বার বোধহয় বাঁচব না। দোয়া করবেন, আমার মন যেন কেমন ভরসা পাচ্ছে না।
তখন শরৎকাল শেষ হয়ে গিয়ে শীতের আগমনী হওয়া বইছে। শীতের রূপালী পাখা তখন ভাল করে মেলেনি। শীতের হালকা আমেজ তখন যেন মনে প্রাণে শান্তির ছায়া মেলে ধরে। শিশির ধোয়া রাতে শিউলীর মৃদু গন্ধ হালকা সুরতি ছড়িয়ে মাঝে মাঝে মনকে উন্মাদ করে তোলে। ডাক্তার সাহেবের বাড়ীতে বেশ লোকের আসা-যাওয়া চলছে। মিসেস খাজা কতক্ষণ কান পেতে শুনলেন, তারপর একাগ্র মনোভাবে শোনার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলেন না। খুব কাছাকাছি বাড়ী হওয়ায় ওরা কোন সংবাদ দেওয়ার প্রয়োজন মনে করে নি। (চলবে--------)
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ