বর্তমান মহামারী সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে ভোগ্য পন্যের দাম বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশের মতো বিশ্বের প্রায় ৭০টি খাদ্য আমদানী নির্ভর রাষ্ট্রসমূহ পন্যের দাম বেড়েই চলেছে। সে কারণে বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। মূল্যস্ফীতি ঘটতে দেয়া যায় না এমন দেশগুলিতে প্রতিমাসে মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। এমতাবস্থায় গোটা বিশ্ব এখন খাদ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন। এর ফলে বিশ্বব্যাপী খাদ্য মূল্যের উর্ধ্বগতি বাজার ব্যবস্থায় দারুনভাবে প্রভাব ফেলেছে। চাল, ডাল, তৈল, চিনি, আটা, সবজিসহ নিত্য পন্যের দাম বিশ্ব বাজার এর তুলনায় বাংলাদেশে এখনো তুলনামূলক ভাবে কমে যাচ্ছে। এবারে ধান এর বাম্পার ফলন ও সময়মতো তা ঘরে তোলার পদক্ষেপ নেয়ার ধানের অপচয় কম হয়েছে। কৃষক ও ন্যায্যমূল্য লাভ করেছে। কাজেই নতুন করে উৎপাদনে কৃষক উৎফুল্য চিত্তে মাঠে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্ব খাদ্য সংস্থার প্রধানের মতে, বর্তমান বিশ্বব্যাপী প্রায় ১০০ কোটি মানুষ খাদ্য সংকটে রয়েছে। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মুল কথাই হচ্ছে খাদ্য নিরাপত্তা। খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান ঝুঁকিতে রয়েছে এশিয়া। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ঋঅঙ) এর হিসাব মতে দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের ৪০ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তার সম্মুখিন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজন মাওজুদ ও প্রত্যাশিত উৎপাদন। এই মূহুর্তে জনসংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন এর কারণে খাদ্য শস্য উৎপাদন হ্রাস এর প্রবনতা খাদ্য নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় ধরনের হৃমকি সৃষ্টি করেছে। অথচ গবেষকদের মতে, ২০২৫ সাল নাগাদ বাংলাদেশের জন্য খাদ্য শস্যের প্রয়োজন ৪০ মিলিয়ন টন। এমন পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ গড়ে তুলতে সরকারকে আমদানির উপর জোড় প্রদান করতে হবে। কিন্তু বিশ্বের খাদ্য মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বেড়ে যাচ্ছে আমদানি ব্যায়। এই মূহুর্তে খাদ্য বহুমুখী উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকারকে নিতে হবে জরুরী পদক্ষেপ।
প্রথমত : অধিক উৎপাদন এর জন্য ভালো বীজ সরবরাহ করা ও উৎপাদিত ফসলের অপচয় রোধ করার জন্য ব্যবস্থা নেয়া সহ উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ এর জন্য জেলা ভিত্তিক গোডাউন ও সাইলো নির্মাণ জরুরীভাবে করতে হবে। এছাড়া কাঁচামাল সবজি ও ফল সংরক্ষণ এর জন্য বিশ্বসায়িত হীমাগার নির্মাণ সহ ফল প্রক্রিয়াজাত কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
দ্বিতীয়ত : কৃষি জমি হ্রাস এর উদ্যোগ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। দক্ষিণের উপকূল ভাগে জেগে উঠা বিশাল চরগুলিতে দ্রুতগতিতে চাষাবাদ এর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজন কৃষি ও ফসল উৎপাদনে উৎসাহী এন্টার পেনারদের উক্ত কৃষি জমি লীজ প্রদান করে আধুনিক চাষাবাদ এর উদ্যোগকে সকল সুযোগ এর ব্যবস্থা নিতে হবে। বর্তমান সরকারে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের গৃহিত কর্মসূচীর মতো কৃষিকে নিয়ে গ্রহণ করতে হবে কৃষি বিপ্লবের পাচশালা পরিকল্পনা ব্যক্তি খাতকে প্রনোদনা প্রদান করার মাধ্যমে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে তুলতে পারে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকিহীন বাংলাদেশ।
লেখক : ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা
সভাপতি
ভোলা জেলা আওয়ামীলীগ।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ