টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বৈরান নদীর মুশুদ্দি কসাই বাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ ও মুশুদ্দি বাজার সংলগ্ন গাইড ওয়াল ভেঙ্গে ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে করে চলতি আমন মৌসুমের বীজতলা ও শতশত একর সবজি ফসল, মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মুশুদ্দি কামারপাড়া, উত্তরপাড়া, পূর্বপাড়া, ভাতকুড়া, ফুলবাড়ী, কয়ড়া, চরপাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কয়েকশ পরিবার।
স্থানীয়রা জানান, বৈরান নদীর কসাই বাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে মুশুদ্দি বাজারের পূর্ব পাশে হুরমুজ মেকারের বাড়ীর পাশে প্রতি বছরই ভাঁঙ্গন দেখা দেয়। এতে করে দুর্ভোগ পোহাতে হয় ধনবাড়ী ও পার্শ্ববর্তী গোপালপুর উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের। বন্যা থেকে রক্ষা পেতে বাঁধ নির্মাণ করলেও প্রতিবছর তা ভেঙ্গে যায়। বন্যা নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী কোন উদ্যোগ না নেয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন কসাই বাড়ী পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সদস্যরা ও স্থানীয়রা। একই সঙ্গে এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতাকে দায়ী করেছেন তারা।
রোববার (১৯ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৈরান নদীর কসাই বাড়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ তিন স্থানে ভেঙ্গে গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর এই বাঁধের বিভিন্ন স্থান ভেঙ্গে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলের মাঠসহ ভেসে যায় পুকুরের মাছও। এ বছর এ বাঁধের তিন জায়গায় ভেঙে প্লাবিত হয়েছে ১৫ টি গ্রাম। স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক আ. জলিল, কৃষক আলঙ্গীর হোসেন ও পল্লী চিকিৎসক জমির উদ্দিন বলেন, বাঁধ নির্মাণে ক্রটি থাকায় প্রতিবছরই এই বাঁধের একাধিক স্থানে ভাঙন দেখা দেয়। বাঁধ ভাঙার কারণ হলো পানি ব্যবস্থাপনার সমিতি, এলজিইডি ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসীনতা।
ধনবাড়ী উপজেলা প্রকৌশলী জয়নাল আবেদীন জানান, বাঁধ সংস্কারে কোন গাফিলতি নেই। তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপর দুষ চাপিয়ে বলেন, বৈরান নদীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ ভাঙ্গার কারণে এলজিইডির কসাই বাড়ী বাঁধ ভেঙ্গে কয়েকটি গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। তারপরও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে বাঁধ সংস্কারের ব্যাবস্থা নেয়া হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাহাবুবুর রহমান জানান, এ উপজেলায় বন্যার কারণে আউশ ধান ৮ হেক্টর, রোপা আমন বীজতলা ৭৫ হেক্টর এবং ১০৫ হেক্টর সবজি ফসল বন্যার পানিতে নিমুজ্জিত হয়েছে।
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ