
ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত সংখ্যার পর) : অন্যসব দিন এতক্ষণে আমাদের অফিসের ড্রাইভার এসে যায়। আজ তার আসার কোন খবরই পেলাম না। বাবাকে আমার বাসা থেকে একাই বেরিয়ে যেতে দিলাম। কোন কিছু ভেবে দেখার সময়ও পেলাম না সব সময় খুলনা থেকে এসে কাজকর্ম সেরে বাবা আবার চলে যায়। আজ তেমন ভেবে বাবার উপর কোন নিষেধাজ্ঞা জারি করলাম না।
বিধি বোধহয় সেদিন দূর থেকে আমার কাজ কর্মের নিশ্চয়তা দেখে হেসেছিলেন। মানুষ সব অংকের হিসাব মিলাতে পারলেও জীব থেকে হিসাব মিলাতে পারে না। আমি যেন কি কাজে বা অকাজে ব্যস্ত ছিলাম আজ আমার স্মরণ নেই। হঠাৎ দরজায় কলিংবেলে বিকট আওয়াজ হতে লাগল। আমি দৌড়ে গিয়ে দেখি কতগুলো লোক বাবাকে ধরাধরি করে আমার বাসায় নিয়ে এসেছে। আমি স্তম্ভিত, বিস্মিত ও আতংকিত হয়ে বাবার কাছে এগিয়ে দেখি বাবার মাথা থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ছে।
হাতে ও পাজরে অনেক অনেক আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে। বাবার পরনের স্যুট ছিড়ে ছিড়ে কুটিকুটি হয়েছে। বাবা ক্লান্ত, বিমর্ষ ও অস্থির হয়ে আছে। তাড়াতাড়ি আমার স্বামীকে অফিসে ফোন করলাম। বাবার মাথায় যেখান থেকে রক্ত গড়াচ্ছে সেখানে ধুয়ে ডেটল দিয়ে মুছে দিলাম। কিছুক্ষণ বাসায় থাকার পর বাবাকে ক্লিনিকে নিয়ে রাখলাম।
সারারাত বাবা ক্লিনিকে আচ্ছন্নের মত ছিলেন। একটি কাজের ছেলেকে বাবার কাছে রেখেছিলাম। বাবা নাকি মাঝে মধ্যে তার মাথায় টুপি ও হাতের তজবী খুজেছেন। সকাল থেকে বাবা কোথায় যে চলে গেল, হাজার ডেকেও সাড়া পেলাম না। কি করে এত তাড়াতাড়ি মহান শ্রষ্টা আমার কপালে দুর্ভাগ্যের পদচিহ্ন একে দিলেন। আমি আজও ভাবতে গিয়ে স্তম্ভিত হই।
আমি তখন আশায় বুক বেধে আছি বাবা ভাল হেয় উঠবেন। আমাকে হেসে বললেন ঐশ্বর্য, এতই আমি সেরে উঠেছি। কিন্তু বাবা আর ডাকলেন না। আর সেরে উঠলেন না। সেই যে চোখ বুজেছিলেন আর চোখ খোলেন নি।
(চলবে---------------------)
সম্পাদকঃ মো: হারুন অর রশীদ