চরফ্যাশনে ঝুঁকিপূর্ণ ৯ কেন্দ্রে বিশেষ বাহিনী মোতায়েন : পুলিশ সুপার
শেষ হলো ২১ দিনের নির্বাচনী প্রচারের ডামা-ডোল, কে পড়বে বিজয়ের মুকুট

মো: হারুন অর রশীদ ॥
শোডাউন পাল্টা শোডাউন ও শব্দ দূষণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ভোলায় নির্বাচনী প্রচারণার আমেজ। বিএনপি মনোনিত জোটের প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনিত প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা ওবায়দুর রহমানসহ প্রধান এ ৩টি দলের নির্বাচনী শোডাউন ছিল চোখে পড়ার মত। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই শেষ হলো নির্বাচনী প্রচারের ডামা-ডোল। অপেক্ষা এখন ১২ তারিখ। কে হারবে আর কে জিতবে তা নিয়ে নানান গুঞ্জন থাকলেও ভোটারদের সর্বোচ্চ ভোটের মাধ্যমেই বিজয়ের হাঁসি হাঁসবেন বিজয়ী প্রার্থীরা। চোখ এখন ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারীর দিকে। ২১ জানুয়ারী প্রতীক বরাদ্দের পর জমে উঠে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। বাড়ী-বাড়ী, হাটে-মাঠে-ঘাটে, চায়ের আড্ডায় নির্বাচনী আলোচনা জমে ছিল তুখোর। সকল প্রার্থীকেই সৎ ও যোগ্য বলে কর্মী-সমর্থকরা ভোট চেয়েছেন দ্বারে দ্বারে। বাদ পড়েনি মোবাইলে ভোট চাওয়াও। পথে ঘাটে ছিল প্রার্থীদের নির্বাচনী গানের পাল্লা। এ গানে কেউ হয়েছেন বিরক্ত, কেউবা দেখেছেন আশার আলো। কেউ আনন্দে নেচেছেন, কেউবা কান বন্ধ রেখে শব্দ দূষণ থেকে বাঁচার চেষ্টা করেছেন। নানা অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান থাকলেও শব্দ দূষণের ক্ষেত্রে কোন অভিযান চোখে পড়েনি।
ভোলা সদরসহ ৭টি উপজেলা নিয়ে ৪টি সংসদীয় আসন। আসনগুলোতে মূলত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি মনোনিত প্রার্থী ও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দল বলে ভোটাররা মনে করছেন। দু-একটি আসনে সহিংসতার শঙ্কা থাকলেও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ ভাবেই ১২ তারিখের ‘ভোট উৎসব’ হবে বলে আশা করছেন ভোটাররা। দীর্ঘ দেড় যুগ পর পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আনন্দে আত্মহারা ভোটাররা। নতুন ভোটারদের মধ্যে বেশি ভোটের উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। যে কোন মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে নৌবাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন স্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চলমান রয়েছে। জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায় ভোলা জেলায় মোট ভোটারের সংখ্যা ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৬শ’ ৮৮জন। এর মধ্যে পুরষ ভোটার ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮শ’৯৭ জন এবং নারী ভোটার ৮ লাখ ১২ হাজার ৭শ’ ৭৫ জন। এর মধ্যে পুরো জেলায় তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৬ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫শ’ ২৫টি, কক্ষের সংখ্যা ৩ হাজার ৬শ’ ২২টি। কখন আসবে ভোট প্রদানের মাহেন্দ্রক্ষণ, সেই প্রতিক্ষায় ভোটাররা।
