বাংলা হবে আফগান, আমরা হবো তালেবান এটা জামায়াতে ইসলামীর স্লোগান : মেজর হাফিজ
দৌলতখানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ ॥ আহত-৯

স্টাফ রিপোর্টার॥
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে জামায়াতের ৫ জন ও বিএনপির ৪ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভোলা-২ আসনের দৌলতখান উপজেলার মেদুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মুন্সিরহাট এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত জামায়াতের ৫ জনকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিএনপির ৩ জনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় একে অপরকে দুষছে দুই দলের নেতা-কর্মীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা মুফতি ফজলুল করিমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিল। এ সময় আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করা বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ ইব্রাহিমের কর্মী-সমর্থকেরা অবস্থান করছিল। দুই দলের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে আসলে তাদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতন্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তারা উভয় দলের নেতা-কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরে খবর পেয়ে যৌথ বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
দৌলতখান উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাওলানা আশ্রাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতা-কর্মীরা লাঠিসোঁটা-রড নিয়ে আমাদের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের মোট ১৩ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ৫ জনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাজাহান সাজু অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত নেতা-কর্মীরা প্রচারণার নামে পরিকল্পিতভাবে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের গুরুতর আহত ৩ কর্মী স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। আমরাও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

জামায়াতের আহতদের মধ্যে রয়েছেন- মো: রাসেল, মো: নাঈম, মো: বিল্লাল, মো: মিজান ও মো: সিফাত। অন্যদিকে বিএনপির আহতদের মধ্যে রয়েছেন- রাসেল (২৬), মিজান (৩৫), রাকিব (২৭) রিয়াজ (২৭)। তাদের সকলের বাড়ি একই গ্রামে।
দৌলতখান থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: সাইফুল ইসলাম শিকদার বলেন, বিএনপি-জামায়াতের মারামারির খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পরিস্থিতি বর্তমানে আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাইনি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি সকালে একই আসনের বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়ায় বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। ওই সংঘর্ষে উভয় দলের অন্তত ১৫ নেতা-কর্মী আহত হয়েছিল।
