লাখ টাকার মুক্তিপণে মুক্তি পেলো বোরহানউদ্দিনের ৪ জেলে

মনিরুজ্জামান ॥
বোরহানউদ্দিনে মেঘনা নদী থেকে জলদস্যুদের হাতে অপহরণের ১ দিন পর লাখ টাকা মুক্তিপণে জিম্মি দশা থেকে মুক্তি পেলেন ৪ জেলে। মুক্তি পাওয়া জেলেরা হলেন, মহিউদ্দিন মাতাব্বর, মো: সবুজ, বজলু ও শরীফ। এদের সবার বাড়ি বোরহানউদ্দিন উপজেলায়। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলাধীন কাচিয়া মাঝেরচর সংলগ্ন একটি চরে এসে উঠেন অপহৃত জেলেরা। পরে সেখান থেকে থেকে তাদেরকে উদ্ধার করেন নৌ-পুলিশ।
জানা গেছে, মুক্ত হওয়া জেলেরা ১১ জানুয়ারি রাতে উপজেলার পক্ষিয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সংলগ্ন মেঘনা নদীতে মাছ ধরায় নিয়োজিত ছিল। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কতিপয় জলদস্যু ট্রলারযোগে এসে অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে নিয়ে যায়। অপহরণের শিকার জেলেরা হলেন-বোরহানউদ্দিন উপজেলার গংগাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক মাতাব্বরের ছেলে মহিউদ্দিন মাতাব্বর (৪০), টবগী ইউনিয়নের দালালপুর গ্রামের দ্বীন ইসলামের ছেলে মো: সবুজ (২২), একই গ্রামের মো: মোতাহারের ছেলে মো: বজলু মাঝি (৩৮) ও কামাল মাঝির ছেলে মো: শরীফ (৩০)।
মুক্তি পাওয়া জেলে মহিউদ্দিন মাতাব্বর ও মো: শরীফ বলেন, ১১ তারিখ রাতে আমরা ৪ জন জেলে-মাঝি মিলে মেঘনা নদীতে মাছ ধরছিলাম। এসময় একটি ট্রলারযোগে একদল জলদস্যু এসে আমাদেরকে ঘিরে ফেলে। চোখ বেঁধে লক্ষীপুর সংলগ্ন একটি চরে নিয়ে যায়। পরে মুক্তিপণের টাকা চেয়ে আমাদেরকে মারধর করেন, এ সময় তাদের কাছে অস্ত্র ছিল। পরবর্তীতে জলদস্যুরা আমাদের বাড়িতে যোগাযোগ করে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পর (সোমবার) রাত ৯ টার দিকে জলদস্যুরা আমাদেরকে তাদের ট্রলারে উঠিয়ে ট্রলার চালাতে থাকে। এ সময় নদীতে একটি স্পিডবোট দেখে জলদস্যুরা ভয় পায়। আমাদের বহনকারী ট্রলারটি তীরের কাছে নিয়ে জলদস্যুরা পালিয়ে যায়। এ সুযোগে আমরাও রক্ষা পাই। তবে তাদের কাউকে আমরা চিনতে পারিনি।
বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ মো মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানতে পেয়ে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় থানা পুলিশ ও নৌ-পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেদের ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়। জেলেদের জন্য মেঘনা নিরাপদ রাখতে পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাকিমুদ্দিন নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার বলেন, অপহরণের শিকার জেলেদের মোবাইল ট্রাকিং করি। এরপর অভিযান পরিচালনা করা হয়। জলদস্যুরা আমাদের উপস্থিতি বুঝতে পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় আটক করা সম্ভব হয়নি, তবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন এবং মামলা দায়ের হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।