বাংলা হবে আফগান, আমরা হবো তালেবান এটা জামায়াতে ইসলামীর স্লোগান : মেজর হাফিজ
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ
ভোলায় মাদক সম্রাট শামিমের বেপরোয়া চাঁদাবাজী ॥ অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা

স্টাফ রিপোর্টার ॥
ভোলার বিভিন্ন ব্যাবসায়ীদের সাথে প্রতারণা করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে এবং বিভিন্ন মাদক বিক্রি ও মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার নাম করে প্রতিনিয়ত মোটা অংকের টাকা আদায় করছে এস এম শামিম ওরফে (ল্যাংড়া শামিম)। তার অত্যাচারে অতিষ্ঠি ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। সাংবাদিকতার সাথে কোন সম্পর্ক না থাকলেও বিভিন্নভাবে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চলছে তার চাদাবাজি ও প্রতারণার কৌশল।
জানা যায়, শামিম এক সময়ে একটি টিভি চ্যানলে ভোলায় ক্যামারা পার্সন হিসেবে কাজ করতো। সে সময় জড়িয়ে পড়ে মাদক ব্যাবসা ও সেবনে। মাদকের স্বর্গ রাজ্য গড়ে তোলে ভোলায়। প্রশাসনকে অন্যের কয়েকটি চালান ধরিয়ে দিয়ে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে নেয় খুব সহজে। এভাবে চলতে থাকে তার অপকর্ম। মাদকের একটি চক্রের সাথে তার সখ্যতা রয়েছে বলে জানাগেছে। লোকজনকে ভয়ভিতি দেখিয়ে জোরপূর্বক অর্থ আদায় তার মুল পেশা।
কোথাও কোন ঘটনা ঘটলে সেখানে ফেইসবুক লাইভ ও নিজেকে সংবাদিক পরিচয় দিয়ে অসহায় মানুষদের কাছ থেকে লুফে নেয় অর্থ। অন্যদিকে থানায় বিভিন্ন মামলা করিয়ে দেয়ার নামে সাধারণদের করে প্রতারণা। এমনকি থানায়ও দালালি করে আসছে। সম্মান হানির ভয়ে অনেকেই মুখ খুলছেন না ভয়ে। একটি সভ্য দেশে ওপেন বীরদর্পে প্রতারণা কারে চলে আসছে এই শামিম।
নেষাগ্রস্ত অবস্থায় মাতলামি করা অবস্থায় স্থানীয় জনতা তার একটি পা পিটিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে বলে জানা গেছে। আর শামিম এটাকে বলে বেড়াচ্ছে তার দুর্ঘটনায় পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাদক সম্রাট শামিম এর অত্যাচারে ভোলার মানুষ অতিষ্ঠ। মাদক করে দিচ্ছে যুব সমাজকে ধ্বংশ।
ভোলা সদর, রেজিস্ট্রি অফিস, ভূমি অফিস, ইলিশা লঞ্চ ও ফেরীঘাট থেকে এবং শহরের খালপাড়াসহ হলুদ-মরিচের মিল, আটা-ময়দার কারখানা থেকে প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায় করে বেড়াচ্ছে। এ ছাড়াও সরকারী বেসরকারী অফিসে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে নানাভাবে প্রতারণা করে আসছে বলে এমন অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা কেউ না দিলে তাকে খাবার অনুপোযোগি খাবার এনে দোকানে রেখে ধরিয়ে দেয় পুলিশে। নয়তে ফেসবুকে দিয়ে সম্মানহানি করার হুমকি দিয়ে দাবিকৃত চাঁদা আদায় করে নেয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আবার অনেককে মাদক দিয়ে ধরিয়ে দেয়ার নাম করেও চাঁদা নিয়ে নিচ্ছে সে। অথচ শামিম নিজেই একজন মাদক ব্যবসায়ী এবং নিজেও সব সময় মাদক সেবন করে আসছে।
কয়েকদিন পূর্বে জনৈক চিনু বেগম স্বরাষ্ট্র উপদেস্টা, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি এবং ভোলা পুলিশ সুপার বরাবরে তার অপকর্মের ফিরিস্তি তুলে ধরে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন। এ ভুয়া সাংবাদিকদের অপকর্মে মুল ধারার সাংবাদিকরা সমাজে নিগৃহিত হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন জরুরী আইনি ব্যাবস্থা নিয়ে জনগণকে শান্তির নি:শ্বাস ফেলার সুযোগ করে দিবেন বলে ভুক্তভোগিরা আশা করছেন।
এ ব্যাপারে ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার পিপিএম (বার) জানান, এ ধরনের নানান অভিযোগ প্রতিনিয়তই আসে। সুনির্দিষ্টভাবে আমি বলতে পারিনা, তবে অভিযোগ পেলে আমরা সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)’র কাছে পাঠিয়ে দেই।
