ভোলায় দারিদ্র্য হ্রাস ও নারী ক্ষমতায়নে মাইক্রোক্রেডিটের প্রভাব নিয়ে এফজিডি সভা
ভোলার মেঘনায় বালু উত্তোলনে বাঁধা, গুলিবিদ্ধ-৪

ইয়ামিন হোসেন ॥ ভোলার মেঘনা মাঝের চরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে স্থানীয়দের প্রতিবাদের সময় সন্ত্রাসীদের ছোরা গুলিতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের মাঝের চরে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, শাজাহান মীর, মো. আলী মৃর্দা, মো: জিহাদ এবং অপূর্ব পাটোয়ারী। আহত সবাই কাচিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানালে দ্রুতগামী স্পীডবোটে আসা একদল সন্ত্রাসী তাদের ওপর গুলি ছোড়ে। এসময় তাদের ছোড়া গুলিতে ৪ জন গুলিবিদ্ধ হন। গুলিবিদ্ধ ৪ জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে আনা হয়। এসময় ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তারা বাড়ীতে চলে আসে। এদিকে শাজাহান মীর গুরুতর আহত হওয়ায় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি ও জমির মালিক আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মো. আলাউদ্দিনসহ হাসাপতালে চিকিৎসাধীন আহতরা জানান, বিগত কয়েক বছর আগে ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি মৌজা মেঘনা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই জমি আবার জেগে উঠে। বর্তমানে সেখানে চর পড়েছে। এক পর্যায়ে চর বাসযোগ্য হয়ে ওঠে। মেঘনা নদীর বালুখেকো জামাল উদ্দিন ওরফে চকেট জামাল বাহিনী গত ৭ মাস ধরে ওই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। স্থানীয়রা বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করে আসছে। বালু উত্তোলন বন্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন, জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপিও প্রদান করেছে। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার সকাল ১০টার দিকে কাচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলাউদ্দিন, বাংলাদেশ জাতিয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি টিটব বেপারী, কাচিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, মো. এমরান, মহিউদ্দিন বেপারীর নেতৃত্বে শত শত মানুষ ট্রলার নিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করে প্রশাসনকে খবর দেন। এ সময জামালউদ্দিন সকেটের ভাগ্নে মো: শাহিনের নেতৃত্বে ৮-৯ জন স্পিডবোট যোগে এসে গুলি ছুরে জব্দকৃত ড্রেজার ও বাল্কহেড ছিনতাই করে নিয়ে যায়। এ সময় মো: শাজাহান মীরের পিঠে, মোহাম্মদ আলী মৃধার ডানগালে এবং অপূর্ব পাটোয়ারী শুভ ও মো: জিহাদের গায়ে ছররাগুলি লেগেছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানায়।
আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী বলেন, মেঘনার ত্রাস বালুখেকো জামাল উদ্দিন ওরফে জামাল বাহিনী গত ৭-৮ মাস ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় ইউনিয়নের মাঝের চরের প্রায় সাড়ে ৩০০ ঘরবাড়ী মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে বালু উত্তোলন করলে ইউনিয়নের বাকী অংশটিও অচিরেই বিলীন হয়ে যাবে। এ বালু উত্তোলন বন্ধে করে জামালউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, এই সকেট জামাল মেঘনার ডাকাত। সে বালু উত্তোলন, ভূমিখেকো, চর দখল করে আসছে। চরাঞ্চলের মানুষ সকেট বাহিনীর অত্যাচারে আতঙ্কিত। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও পুলিশ তাঁকে কেন ধরছে না তাও আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, মেঘনার ডাকাত এখন বিজেপির মুখপাত্র হয়েছে। প্রকাশ্যে জনসভা করছে।
সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আসিফ আলতাফ বলেন, ধর্ষণ মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি নদীর জলদস্যু জামাল উদ্দিনের মতো লোককে যখন রাজনীতির মাঠে আনা হয় তখনই সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ফলে বালু উত্তোলনে বাধা দেওয়ায় এলাকাবাসীর ওপরে নির্বিচারে গুলি ছুরতে সাহস পায়।
তবে জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি জামাল উদ্দিন সকেট অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার আজকে (গতকাল) ৩টা সালিশ শেষ করে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বাসায় ফিরি। আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার কোনো লোকজন বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত নেই। তিনি আরও বলেন, আমি ষড়যন্ত্রের শিকার। জামাল বলেন, সরকারি ডাক হওয়ার পর বিএনপিসহ আমরা অনেকেই যৌথভাবে কাজ করছি। কিন্তু সেখানে আমার একার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করা হচ্ছে।
ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) এএইচএম মশিউর রহমান বলেন, ভোলার মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় গ্রামবাসী ড্রেজার ও বাল্কহেড জব্দ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানায়। ইউএনও স্যাার তাঁকে ঘটনাস্থলে যেতে বললে তিনি ঘটনাস্থলে যান। এ সময় অবৈধ বালু উত্তোলনকারীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে জব্দকৃত ড্রেজার ও বাল্কহেড নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গ্রামবাসি মামলা করবে।
ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাত মো: হাচনাইন পারভেজ বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
