ভোলায় দারিদ্র্য হ্রাস ও নারী ক্ষমতায়নে মাইক্রোক্রেডিটের প্রভাব নিয়ে এফজিডি সভা
বোরহানউদ্দিনে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

শরীফ হোসাইন ॥ ভোলায় ক্ষুদে হাফেজদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা। জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার খায়েরহাট এলাকায় ‘ফি সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ’র উদ্যোগে মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় শনিবার দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতা শেষে রাতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা ইব্রাহিম খলিলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট আলেম মাওলানা মিজানুর রহমান আজাদী। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি মোঃ রেযাউল কারীম বুরহানী। অনুষ্ঠানে এলাকার আলেম-উলামা, শিক্ষক, ক্ষুদে হাফেজে, অভিভাবক ও সাধারণ মুসল্লিগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন মাদরাসা থেকে মোট ২৫টি প্রতিষ্ঠানের ক্ষুদে হাফেজরা অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্য থেকে ১৫ জন ক্ষুদে হাফেজকে পুরস্কার ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এদের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে ইকরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ আব্দুল্লাহ আল আরাফাত। পুরস্কার হিসেবে তাকে নগদ ৫ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে আলীনগর আজিজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ আনাস। তাকে নগদ ৩ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করে রহিমিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হাফেজ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তাকে নগদ ২ হাজার টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ প্রদান করা হয়। এছাড়া অন্যান্য বিজয়ীদেরকেও উৎসাহমূলক পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হয়।
তরুণ প্রজন্মকে কুরআনের দিকে ফেরাতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করে ফি সাবিলিল্লাহ ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ। তারা জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের কুরআনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা, তাদের হৃদয়ে দ্বীনি চেতনা ও ঈমানি প্ররণা সৃষ্টি করা। আমরা চাই, প্রতিটি গ্রামে অন্তত একজন হাফেজে কুরআন তৈরি হোক। আমাদের সমাজে কুরআনের আলো ছড়িয়ে পড়ুক, যাতে তরুণ প্রজন্ম মাদক, ভোগবাদ ও অনৈতিকতার অন্ধকার থেকে মুক্তি পায়। এ সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, যারা আল্লাহর কিতাব মুখস্থ করছে, তারা আসলে আল্লাহর সেই প্রতিশ্রুতি সংরক্ষণের অংশীদার, যা তিনি নিজেই ঘোষণা করেছেন-‘ইন্না নাহনু নায্জালনাযিকরা ওয়াইন্না লাহু লাহাফিজু’। তারা আরও বলেন, কুরআনের হাফেজ হওয়া শুধু দুনিয়ার সম্মান নয়; এটি আখিরাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা অর্জনের পথ।
