বোরহানউদ্দিনে জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা নিয়ে অসুস্থ্য ৬৪ শিক্ষার্থী !

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলার বোরহানউদ্দিনে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধ টিকা দেয়ার পর প্রায় ৬৪জন ছাত্রী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে উপজেলার জ্ঞানদা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান আহত ছাত্রীদের দেখতে বোরহানউদ্দিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। ঘটনার পর আপাতত ওই স্কুলে টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়টি নিয়ে ভয়ের কোন কারণ নেই বলেছেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা: মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন এটি মনস্ত্বাত্বিক রোগ।
জানা গেছে, জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধে মঙ্গলবার সকালে জ্ঞানদা বালিকা বিদ্যালয়ের প্রায় ১শ’ ৬২ ছাত্রীকে বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) টিকা দেয়া হয়। টিকা প্রয়োগ করার কয়েক মিনিটের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। এরপর শিক্ষক ও পরিবারের লোকজন তাদেরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এরপর একের পর এক শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। দুপুর ২টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৬০-৬৪ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানদা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট, ৭ম ও ৯ম শ্রেণিতে পড়ে। ছাড়াও রয়েছে বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কুলসুমবাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
কুলসুমবাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক স্টাফ জানান, দুপুরের দিকে টিকা দেয়ার পর কিছু শিক্ষার্থীর মধ্যে হাত সীন-সীন ভাব, অস্থিরতা, করো হাত-পা জ্বালাপোড়া করে, কেউ বমি করে, কারো মাথা ব্যথা করছে, কেউ মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। মনে হয় ভয় পেয়েছে। অসুস্থ্য শিক্ষার্থীদেরকে তাই হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে ডাক্তাররা বলেছেন এটা ভয় থেকে হয়েছে, অন্য কোন কারণ নেই।
বোরহানউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ হোসেন জানান, টিকা গ্রহণের পর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে ১৫ জনকে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বাকি কয়েকজনকে ভোলায় প্রেরণ করা হয়েছে।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিরুপম সরকার সোহাগ বলেন, শিশুরা মূলত মাস সাইকোলজিক্যাল ইলনেসে আক্রান্ত হয়েছে। এটি তেমন গুরুতর কোনো রোগ না। আমি ঘটনাটি শোনার সঙ্গে সঙ্গে ওই স্কুলে যাই এবং টিকা বন্ধ করে দিই। এ নিয়ে চিন্তার কোনো কারণ নেই। আশা করি, সবাই সুস্থ হয়ে যাবে। এ সময় তিনি সবাইকে ধৈর্য ধারণ করার পরামর্শ দেন।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা: মনিরুল ইসলাম বলেন, ভয়ের কোন কারণ নেই, এটা মনস্ত্বাত্বিক রোগ। ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে, তবে তাদের কাউন্সিলিং করা হচ্ছে। এ রোগে মূলত একজনকে দেখে অন্যরা অসুস্থ্য হয়ে পড়েন, তবে ভয়ের কোন কারণ নেই।


জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, শিশুরা মূলত “মাস সাইকোলজিক্যাল ইলনেসে” আক্রান্ত হয়েছে। এটি গুরুতর কোনো রোগ না। এখানে এমন শিক্ষার্থীও অসুস্থ হয়ে পড়েছে যাদের শরীরে টিকা প্রয়োগ করা হয়নি। আমরা বোরহানউদ্দিন হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ চিকিৎসক রেখেছি। ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছে।
স্বাস্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় ১ লাখ ২১ হাজার ৫শ’ ৮০ জন কিশোরীকে প্রথমবারের মতো বিনামূল্যে এইচপিভি টিকা দেয়া হবে। এর মধ্যে জেলার ৭ উপজেলায় ৫শ’ ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬শ’ ১৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৮ কর্ম দিবসে এই টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বাংলাদেশে নারীদের স্তন ক্যান্সারের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জরায়ুমুখ ক্যান্সার।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।