খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মধ্যে শৃঙ্খলা সৌহার্দ্য ও ক্রীড়া চেতনা বিকাশে ভূমিকা রাখবে : জেলা প্রশাসক
মধ্যরাত : পর্ব-২৮৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : আমিও আমার বিছানায় উঠে বসলাম। রাজ্যের নানা চিন্তা আমার মাথায় এসে ভিড় করল। এপাশ-ওপাশ করলাম ঘুমের সঙ্গেও আমার সব সময় আড়ি। আজ আর নতুন করে বলার কিছু নাই। তবু ড্রইং রুমে ডোরার বড় ঘড়িটার দিকে চেয়ে থাকলাম। হ্যাঙ্গারে ডোরার স্কার্ট, পেন্ট, কোর্ট, শার্ট, সব ইস্ত্রি করে ঝোলান আছে। শুধু ডোরাই নেই, ডোরার গন্ধ, ডোরার স্পর্শ, ডোরার চলার স্নিগ্ধতা ঘড়ের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমি কাঁদিনা, কিন্তু কান্না আমার সমন্ত অন্তর ছিড়ে বেড়িয়ে আসতে চায়। হৃদয় হাহাকার করে, কতদিন ডোরা আমাকে কাছে পেতে চেয়েছে ও কাছে এসেছে। আমি দূরে চলে গেছি, কেন ? কেন ? আমি কাছে গেছি, ও দূরে চলে যায় ? কেন এমন হল, ভবিতব্য তুমি জান আমি কিছু জানি না, কিছু বুঝিনা। কিন্তু ডোরাকে আমি ভালবাসি। সে ভালবাসে আসমুদ্র হিমাচল ব্যাপী। ডোরাও আমাকে পছন্দ করে, গভীরভাবে ভালবাসে। ভালবাসে বলে সে আমাকে কাছে ডেকেছে। আমার একটু সান্নিধ্যের জন্য, একটু কাছে পাবার জন্য। রাত গভীর হাতে গভীলতম হতে চলল। রাতজাগা পাখি নিম নিম করে উড়ে চলে গেল। তার ডানা ঝাপটাবার শব্দ যেন গভীর আর্তনাদের মত আমার কানের কাছে বাজছে। আমি উঠে গিয়ে জানালাটার পাশে দাঁড়ালাম। মধ্য রাত তার প্রহর ঘোষণা করছে, ডোরার একট বড় ছবি সেই ভার্সিটির সময়কার বোধ হয়। হাতে গ্রেজুয়েশনের ডিগ্রীর সার্টিফিকেট। আজানুলম্বির চুল হাটু ছুই ছুই করছে। বড় বড় ডাগর ডাগর চোখে যেন অনাদি অনন্ত কালের কথা বলছে। গাল দু’খানিতে দু’পাশের হাঁসির লোভনীয় মুগ্ধতার একটি ভাজ পরেছে। বেশ কোমল স্বাস্থ্যের লম্বা ছিপ ছিপে মেয়ে ড্রইং রুমে ঝোলান আছে। আর আজ সেই ডোরা কদিনের জ্বরে শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছে।
আমার বড় কষ্ট হয়, মনে হয় ছুটে আমি হসপিটালে যাই। কিন্তু হসপিটালের আইন-কানুন ডিসিপ্লিন মেনে চলতে হয়। ইরা কখন যে এসে আমার পাশে এসে চুপে চুপে দাঁড়িয়ে ছিল আমি টের পাইনি। একি আপনি ঘুমুন নি ? কাঁদছেন ? বললাম, আমি কাঁদছি কই, আমিত জানি আমি কাঁদিনা। সমস্ত কান্না আমার বুকে পাথর হয়ে জমে আছে। একদিন হয়থ গলে অঝোর ধারায় ঝরে পরবে। সেদিন ইরা থাকবে না, ডোরা থাকবে না, উমা থাকবে না, কেউ থাকবে না। ইরাও দাঁড়িয়ে দিদির অল্প বয়সের বিশেষতঃ গ্রাজুয়েশনের ছবিটা দেখল। বলল দিদি কি সুন্দর ছিল ? আমি কথা বললাম না, নিজের বিছানায় এসে মাথার বালিশটা বুকের ভিতর চেপে ধরে চুপে চুপে কাঁদলাম। সে কান্নার কোন শব্দ নেই, চোখের কোনে কোন জল নেই, নিভৃতে নিরবে গোপনে বুকের রহস্যময় হৃদয়ের নিভৃত কোনে হাহাকারের তুমুল আলোড়ন।
ভোর হল পাখির কিচির-মিচির শব্দে তাকিয়ে দেখি জানালা দিয়ে কখন ভোরের স্নিদ্ধ আলো ঘরে প্রবেশ করছে। ইরা কখন উঠে বাথরুমে গেল আশ্চর্য্য একটু টের পাইনি। নিজের ব্যথায় যেন আমাকে কোন জ্ঞান গম্মি নেই। ও কাপড়-চোপড় পড়ে বেশ ফিট-ফাট হয়ে গেল। যেন ডোরার ছবি ওর চলায়-বলায় চেহারায় কথা বার্তায়। আমার মনে হল মন্ট্রিলে দোলাকে ফোন করে জানিয়ে দেই। আরও আমার দু-চার দিন দেরী হতে পারে। ওরা যেন কিছু মনে না করে। ডোরা খুব অসুস্থ হসপিটালে আছে, ওকে এমনি করে ফেলে আসা যায় না। তাই ফোন দিয়ে বসলাম দোলাকে; সব জানালাম। ও চালাক চতুর মেয়ে, সব এক মুহূর্তে বুঝে নেবে। বাচ্চা কেমন আছে, ও কেমন আছে, উমার শরীর কেমন, কচ চলে গেছে কি না। দোলা বলল, কচ চলে গেছে। হেমন্ত মাঝে মধ্যে এসে খবর নেয়, একটু আস্বস্থ হলাম।
(চলবে———)
