মধ্যরাত : পর্ব-২৮৩

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : ডোরা মাঝে মাঝে চমকে উঠে, ইরা এসছিল ? ফুস ফুস করে বলে, ভাল করে বোঝা যায় না, আমি কান মুখের কাছে নিয়ে বলি কিছু বলছ ডোরা। বলল না, এই ডোরা সেদিন আমার সাথে বড় বড় ফিলজপির কথা বলে আমাকে বিস্মিত করেছে, মুগ্ধ করেছে। আর আজি কি বলছে, সে নিজেই জানে না। গৌতম বুদ্ধ এসব দেখেই বলে গিয়ে তপস্য করেছিলেন। সন্ধ্যার আধার যখন নেমে আসে হাসপাতালের বুকে, ভিজিটররা ৪টায় আসে ৬টায় চলে যায়। তখন সকলের মনেই নিরানন্দ নেমে আসে। প্রত্যেকেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আপন প্রিয়জনদের জন্য। আস্তে আস্তে রাত্রি গভীর হতে থাকে, গভীর মানুষের মন গভীরতায় ভরে উঠে।
আমি ডাক্তারদের বলে কয়ে ডোরার কাছে রাতে থাকার জন্য অনুমতি চেয়েছিলাম। কিন্তু রাত ৮টার পর আর থাকার নিয়ম নেই। মারিয়াকে বললাম, রাতে ওর কাছে থেকে দেখা শুনা করার জন্য। রাতে ৯টার পর বাসায় এসে দেখি ইরা এসেছে। যদিও ওকে আমি দেখেছি বলে মনে হয় না, তবুও মুখের গঠন অনেকটা ডোরার মত। দেখেই বললাম- তুমি বোধহয় ইরা। কি করে বুঝলেন ? ইরা বলল। বললাম- তুমি ছাড়া কে অমন করে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকবে। আমি বললাম, তুমি আসার আগে আমায় ফোন করে বললে না কেন ? তাহলে আমি তোমার জন্য ঘর খুলে রাখতাম। ইরা বলল, ফোন করেছি; কিন্তু ফোন বেজেই চলল, ধরার মানুষ নেই। বললাম, সারাদিন তোমার দিদির ওখানেই থাকি, বাসায় আসি সেই রাত্রে। ইরা বলল, দিদি এখন কেমন ? বললাম, দেখলেই বুঝবে।
ইরা খুব মনভার করে থাকল। ব্রেড জেলী, ফল খেতে বললাম। কিছু খেলনা, খালি বড় বড় দুটি ডাগর চোখ জল ভরে এদিক-ওদিক দেখতে লাগল। গৌরবর্ণ দেহ ও খুব সুস্বাস্থ্যের অধিকারী। কেঁদে বলল, দিদি কত আসতে বলেছে, কোনদিনই আসব আসব করে আর আসা হয়নি। আজ এলাম দিদির শূণ্য ঘরে আমাকে আপ্যায়ন করার কেউ নেই। আচ্ছা আপনি কে বলুন-ত ? আমি বললাম, আমিই আপনাকে ফোন করেছিলাম, আমার নাম প্রশান্ত। ইরা আমার অনেক কাছে এগিয়ে এল। বলল, আপনি প্রশান্ত ? বলে গভীর সজল কাজল দুটি চোখ আমার দিকে মেনে ধরল। দিদির কাছে আপনার কথা অনেক শুনেছি, শুধু দেখিনি। আমার দিদির কেউ নেই, কিছু নেই, শুধু এক বড় একা। আমি বললাম, একা কই; আমি পাশে রয়েছি, আপনি-ত অনেক দূরে থাকেন। আচ্ছা আমার দিদির কাছে আমি এখন যেতে পারি ? দিদি বড় একা। আমি বললাম, মারিয়াকে রেখে এসেছি। মারিয়া ? মারিয়া কে ? আমি বললাম, ওর ছাত্রী। আমি ইরাকে বললাম, ইরা এখন ঘুমাও। কাল সকালে যেও হসপিটালে। ইরা ডোরার বিছানায় কাপড়-চোপড় না ছেলে শুয়ে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে লাগল। আমি বললাম, কি অলুক্ষণের মত কাঁদছ ইরা, তোমার দিদি ভাল হয়ে উঠবে। দেখ সত্যি ভাল হবে, তুমি ঘুমাও।
(চলবে———–)
