মধ্যরাত : পর্ব-২৭৯

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : হেমন্তকে বাসার কিছুটা দায়িত্ব দিতে পারলে বোধ হয় ভাল হয়। উমা ওকে খুব স্নেহ করে। হয়ত ওদের দেখাশুনা করার কথা বললে খুশী হবে। নাশতার টেবিলে বসে উমাকে ডোরার অসুখের কথা বললাম, ও বড় একা, তাও বললাম। উমা বলল, দাদা তুমি যাও, ডোরা দি বড় একা। আমি জানি উমা খুব কোমল মনা, পরে দুঃখে দুখী, সহজ সুলভ উদার মনের পরিচয় দেয়। দোলাকে আনার জন্য মেটানিটির দিকে গাড়ী চালালাম। কচও সাথে চলল। কচের সাথে অনেক গল্প করলাম। কচেরও ছুটি ফুরিয়ে আসছে, ও এখন চলে যাবে সে চিন্তায় অস্থির।
দোলাকে-বাচ্চাকে নিয়ে গেলেই বোধ হয় ও খুব খুশী হত। কিন্তু তা সম্ভব না। দোলা ভাল করে সেরে না উঠা পর্যন্ত ওকে যেতে দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব না। ও আরও সুস্থ্য হোক। আর বাচ্চাকে কে দেখাশুনা করবে, এখানে উমা আছে, তবু বাচ্চাটাকে পেলে পুষে ঝর ঝরে করে দিতে পারবে। দোলা যে কয়দিন উমার কাছে থেকে দেখাশুনা করতে পারবে। সত্যি উমা যে আজ কত উপকার করছে কৃতজ্ঞতায় শ্রদ্ধায় ওর কাছে আমার মাথা নত হয়ে যায়। ভগবান কখন কাকে কখন কি জন্য কার কাছে এনে দেয় তা তিনিই জানেন। উমা খুব লক্ষ্মী শান্তশিষ্ট মেয়ে। মেয়েদের যা-যা গুন থাকা দরকার, সবই ওর মধ্যে বিদ্যমান। গুনে লক্ষ্মী, জ্ঞানে সরস্বতি।
ড্রাইভ করে ভাবতে ভাবতে কখন যে মেটানিটিতে এসে গেলাম। আমি নিজেও অবাক হলাম। অনেক আগে এসে গিয়েছি, কতক্ষণ আমি কত বাইরে ঘোরাঘুরি করলাম। তখনও ডাক্তাররা এসে পৌছেনি বলে কচ অধৈর্য্য হয়ে পরছে, আমিও বার বার ঘড়ি দেখছি। হঠাৎ দেখলাম, মেটানিটির দরজাটা খুলে গেল। আমি নার্সের কাছে পারমিশন চাইলাম দোলার ঘরে যাবার, গিয়ে দেখলাম দোলা ব্রেক ফাষ্ট খাচ্ছে। বাচ্চাটাকে বেবী খাটে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছে। দোলা আমাকে দেখে হেসে উঠল। দোলার এখন আনন্দ আরাম শান্তি অনেক ফিরে এসেছে। তাড়াতাড়ি দোলা ব্রেকফাষ্ট সেরে নিজে তৈরী হয়ে নিল। বাচ্চাটা বেশ সুন্দর হয়ে উঠেছে, চোখগুলো বেশ বড় বড়। নাভিও শুকিয়ে গিয়েছে। মেটানিটির আইন কানুন, নিয়ম সব সেরে দোলাকে নিয়ে বাসায় এলাম। হেমন্তকে ফোন করলাম।
বিকেলের দিকে হেমন্ত এল, ওকে সব বললাম। সপ্তাহ খানেক বাড়ী, ঘর-দোর একটু দেখে-শুনে রাখবে। দোলার, উমার খোঁজ-খবর নিতে, আমি কোন বিশেষ কাজে ভার্জিনিয়ায় যাচ্ছি। তারপর দিনই বাস এর টিকিট কেটে রাখলাম, ভার্জিনিয়ায় যাওয়ার জন্য। সারাদিন সারারাত দুশ্চিন্তায় আমার ঘুম এলনা, নানা কথা, নানা স্মৃতি, আমাকে অস্থির করে তুলল। ডোরাকে ফোন করলাম। কাঁপা কাঁপা গলায় কথা বলল। এখন জ্বর উঠা-নামা করছে। কিছুই খাওয়ার রুচি নেই। তাও বলল, প্রশান্ত তুমি আসছত ? আমি বললাম, হ্যাঁ, নিশ্চয় নিশ্চয়। আমি কাল খুব ভোরের বাসে রওয়ানা হচ্ছি, সত্যি ? আমি ফোন রেখে দিলাম। কচও ভোরে তার চাকরী স্থানে পাড়ি জমাবার জন্য তৈরী হচ্ছে। আমি তার আগেই উমা ও দোলাকে বলে রওয়ানা দিলাম।
(চলবে——-)
