ভোলার সড়কগুলোতে হাজারো মানুষের বিজয় উল্লাস

শরীফ হোসাইন ॥ ভোলার সব সড়কে মিছিল নিয়ে উল্লাস করছেন হাজারো মানুষ। সোমবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ভোলার প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে বিজয় উল্লাশ করেছে সাধারণ মানুষ। এ সময় সাধারণ মানুষের মাঝে দীর্ঘদিনের যে চাঁপা ক্ষোভ ছিল তা যেন নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে এবং স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এ সয়য় হাতে ছিল জাতীয় পতাকা, মাথায় বাঁধা ছিল দেশের মানচিত্র। মনে হয় যেন পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে জাতি মুক্তি পেয়েছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে রাস্তায় নেমে আসে হাজার হাজার মানুষ।


এর আগে অবশ্য খবর আসে যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বেলা ২টায় জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য দেবেন। আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে এ তথ্য জানানো হয়। আইএসপিআর বলেছে, সে সময় পর্যন্ত জনসাধারণকে সহিংসতা পরিহার করে ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করা হলো। এর পরই সাধারণ মানুষের আর বুঝতে বাকি রইল না যে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। দেড়টার দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটও চালু করা হয়, যা সকালে বন্ধ করা হয়েছিল। মোবাইল ইন্টারনেটও চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে বেলা পৌনে ২টার দিকে জানা যায়।


এরপর বিকাল ৩টার দিকে দেশের সকল টিভিতেগুলোতে খবর আসে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করে নিরাপদ স্থানে গেছেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই সাধারণ মানুষ বিজয়োল্লাশে ফেটে পড়েন। দুপুরের দিকে ভোলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ে শত শত মানুষ অবস্থান নিতে থাকেন। ভোলার বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ রিকশা, হোন্ডা, বোরাক যোগে ভোলা শহরের আসতে থাকে। সবাই স্লোগান দিচ্ছেল “পালিয়েছে পালিয়েছে, খুনি হাসিনা পালিয়েছে”। বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভোলা শহরে জড়ো হয়ে বিজয় মিছিল করে। শহরের কালিনাথ রায়ের বাজার, বরিশাইল্যা দালান, বাংলাস্কুল মোড়, নতুন বাজার হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় কিশোর, যুবক, নারী, বৃদ্ধ, ছাত্র-জনতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, এমনকি ছোট ছোটদেরও এ মিছিলে অংশগ্রহণ এবং বিভিন্নস্থানে মিষ্টি বিতরণ করতেও দেখা যায়।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।