মধ্যরাত : পর্ব-২৭৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কতকি স্বপ্ন দেখলাম। দেখলাম সুশান্ত আর আমি কোথায় কোথায় অচিন দেখে ঘুরে বেড়াচ্ছি সে দেশ আমি কোনদিন চোখে দেখিনি। দু’জনে কত খোশ গল্প করলাম। সুশান্ত বলল, প্রশান্ত- আমি ওর গন্তব্য পথের দিকে তাকিয়ে থাকলাম। ঘুম ভেঙ্গে গেল। প্রভাতের ¯িœগ্ধ সুন্দর সতেজ হাওয়া জানালার ফাঁক দিয়ে প্রবেশ করে আমার শরীর মন জুড়িয়ে গেল। আমি বিছানা ত্যাগ করলাম, কতক্ষণ ঘরে পায়চারি করলাম। আজকের নিউজ পেপারটার উপর চোখ রাখলাম। বাথরুমে গেলাম, ¯œান সারলাম, নাশতার টেবিলে এসে নাশতা খেলাম। উমা বলল, দাদা দোলা কথন বাসায় ফিরবে। আমি বললাম, আর দু’দিন থাক আর সুস্থ্য হোক। উমা বলল আমি বিকালে দোলা ও বাচ্চাকে দেখতে যাব। আমি বললাম বেশ-ত, যাবে। আমি বিকালে একবার যাব, তখন যাওয়া যাবে। আমি নাশতা খাওয়ার পর ড্রইং রুমে বসে বসে রাজ্যের বই ঘটলাম। তারপর ভার্সিটিতে যাওয়ার কথা ভাবলাম, দোলার অসুস্থ্যতার জন্য কদিনের ছুটি নিয়েছিলাম। আর থাকা যায় না, আজ একবার ঘুরে আসি ভার্সিটি থেকে।
বাস ধরে ভার্সিটি গেলাম। বিশেষ কোন জরুরী ক্লাশ ছিল না। আমি যেতে যোতে দেরী হয়ে গিয়েছিল বলে ভার্সিটি ঢুকে প্রথমে ক্লাশ নিলাম। কেমন যেন মনটা তত ভালনা, কমনরুমে বসলাম। অমিয়, বিজন, পবিত্র বিদ্যুৎ, অলক, দেবতোষ ওরা সবাই এসে পরল। বলল কি; আমাদের মিষ্টি কই ? আমি বললাম আরে ভাই, কয়দিন আমি আমার নাতনীর জন্য ভেবে আধখানা হয়ে গেছি। তোমরা আছ ভাই তোমাদের তালে। ওরা বলল বারে এত দেশের প্রথা। আমি বললাম খাবে খাবে খাবে, সময় চলে যায় নি। নাতনীটাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ী নিয়ে আসি, তখন তোমাদের মিষ্টি কেন, অনেক কিছু খাওয়াব।
ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে এলাম। দেখি অর্কিড ও হেমন্ত বসে আছে। আমি মনে মনে খুশী হলাম ওদের দু’জনকে দেখে। যেন আমার দোলার জায়গায় আমার হৃদয়ে ওরা আসন পাততে চায়। হেমন্ত আমাকে দেখে উঠে দাঁড়াল। অর্কিডকে আমি বললাম বস বস। আমি আমার কাপড় চোপড় ছেড়ে বেশবাস পরি করলাম। হাত, মুখ ধোবার জন্য বাথরুমে গেলাম। উমা চা ও কচুরী দিল, আমার সাথে অর্কিড ও হেমন্তকে চা খেতে ডাকল। ওরা এসে হাসিতে-খুশীতে টেবিল সরগরম করে তুলল। অর্কিডকে আমি যত দেখি তত বিস্ময় বোধ করি। বিধাতা দু’হাত উজার করে যেন ওর শ্যামল অঙ্গে যত ¯িœগ্ধতা ছড়িয়ে দিয়েছে। হাটতে গেলে যেন ওর দু’পায়ের তলার জল পদ্ম ফুটে। দুখানি সুন্দর পা ওর যেন দুটি কমল। দুটি ডাগর ডাগর কাজল কালো চোখ যেন রাজ্যের ব্যথার কথা বলতে চায়। অনাদি অনন্ত কালের সজল চোখ দুটিতে অসংখ্য অসংখ্য কথা ছলছল করে।
(চলবে——-)
