সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-২৬৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : কচ বসে বসে গল্পের ফুলঝুড়ি খুলে দিয়েছে, ওর কোন শ্রান্তি নেই, ক্লান্তি নেই, অসুস্থতা নেই। বহাল তবিয়তে খাচ্ছে-দাচ্ছে, ঘুরে বেরাচ্ছে। যত কষ্ট মেয়েদের মেয়েরাই যত বোঝা বহন করে বেড়ায়। সে জন্য পৃথিবীর সব খানে সব জায়গায় মেয়েদের মর্যাদা বেশী দেয়। ডোরা ঘরে গিয়ে শুয়ে পরল। উমা ওর ঘরে দোলার জন্য পারিপাটি করে বিছানা করে রেখেছিল। দোলার শরীরটা যেন কেমন ভাল মনে হচ্ছিল না। তবু আমি চুপ করে থাকলাম। ভাবলাম হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে রাখব। উমা অনেক রাত অবধি গল্প করে কচকে আমাকে খেতে দিল। দোলাকে খেতে ডাকাডাকি করে উঠানো গেল না। আমি বললাম, থাক ও ঘুমিয়ে পরেছে, সকালে খাবে।
আমি ঘুমুতে গেলাম। কচ আমার পাশের খাটে ঘুমিয়ে পরল। অনেক রাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে, কেন জানি দোলার জন্য আমার মনটা ছট-ফট করতে লাগল। ও এত চঞ্চল-চপল-উচ্ছল ঝরনার মত ছিল, আজ মা হতে চলেছে, সে আনন্দে আমারও আনন্দ। তবু ওর যেন বড় কষ্ট হচ্ছে। উমা কতটুকু অনুভব করতে পারে জানি না। কারণ সে কখনও মা হয়নি। যে কখন কোনদিন মাতৃত্বের স্বাদ অনুভব করেনি। সে কি করে বুঝবে উমার এ মাতৃত্ব কত গর্বের ও আনন্দের। কত কষ্টে এ ভার বহন করে বেড়াচ্ছে। এ মাতৃত্ব লাভ করবার জন্য আমি অনেক সকালে ঘুম থেকে উঠার জন্য চেষ্ট করলাম। কিন্তু রাতে ভাল ঘুম হয়নি বলে আমার দুটো চোখ যেন ঘুমে জড়িয়ে এল। আবার শুয়ে পরলাম। শুয়ে শুয়ে রাজ্যের স্বপ্ন দেখলাম।
অনেক বেলা হল দোলার ডাকে চোখ খুললাম, দোলা বলল দাদু একি ? তুমি এত বেলা পর্যন্ত ঘুমিয়ে আছ ? তোমাকেত কোনদিন আমি এত বেলা ঘুমুতে দেখিনি। তোমার হয়েছে কি ? আমি বললাম, না এমনি এতদিন পর্যন্ত আমার কেন জানি মোটেই চোখ বন্ধ হয় না। তারপার তোর আসার আনন্দে আজ একটু তন্দ্রা এল। দোলা মুচকি মুচকি হেসে চলে গেল। কচ ততক্ষণে উঠে হাত-মুখ ধুয়ে আমার জন্য টেবিলে অপেক্ষা করছিল। আমি হাত-মুখ ধুয়ে ওর সাথে খেতে বসলাম। দোলা এসে আমার পাশের চেয়ার দখল করল। খেতে খেতে অনেক গল্প করল, ও নিজে হাসছিল; আমাকেও হাসাল। কচ মুখ বুজে খেয়ে যাচ্ছিল, উমা আমাদের সকলের খাবার দাবার তদারক করছিল। আমি বললাম, উমা তুমি বসবে না ? উমা বলল, না দাদা আপনারা খেয়ে যান, আমার কাজ আছে পরে খাব। দোলা বলল, উমাদি আপনি বসুন না; লাগে আমরা পরে নিয়ে নেব।
উমা কিছুতেই বসলনা, সুশান্ত মরে যাওয়ার পর থেকে উমা আমাদের সাথে খেতে বসতে বেশ যেন আপত্তি দেখায়। তবু অনেক সময় আমি তাকে অনুরোধ করি। কচ বলল, উমাদি অনেক বদলে গেছে। আমি বললাম, স্বাভাবিক; স্বামী রমনীর অলঙ্কার। অনেকক্ষণ খাবার টেবিলে দোলা কত রাজ্যের গল্প করল। আমার যেন খুব ভাল লাগল। কতদিন পরে দোলা এসে আমার বাড়ীতে আনন্দের গল্পের রূপকথা খুলে দিয়েছে। ভেবে আমার যেন শান্তি ও স্বস্তি এল। উমা বলল, দোলা কি পিঠে খাবে ? দোলা বলল, তুমি যা খাওয়াবে তাই খাব। দোলা বলল, পাটি সাপটা বানাতে পার। উমা ঘার নাড়িয়ে সম্মাতি জানিয়ে চলে গেল। দোলা ড্রইং রুমে ঢুবে বুক শেলফ থেকে বই নামিয়ে গোছাতে বসেছে। বলল দাদু বুক শেলফটাকে কি করে রেখেছ; যেন আস্তাকুড়, আমি হাসলাম। বললাম, তুই কাছে না থাকলে কে আবার নজর দেয়, উমার মন মনসিকতা ভাল নয়, তাই ওকে আমি বলিনা। কচ খবরের কাগজের উপর চোখ রাখছিল। আমি ভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য কাপড় চোপড় পড়ছিলাম। ঘড়ি দেখে বুঝলাম যে বাসের সময় হয়ে গিয়েছে। তাড়াতাড়ি বাইরে বেরিয়ে আসার জন্য পা বাড়ালাম। দোলা বলল, দাদু যাচ্ছ ? বললাম হ্যা। বলল তাড়াতাড়ি এস। বললাম আসব রে আসব। এখন তুই এসছিস, এখনকি আর বাইরে সময় কাটাই। দোলা দরজার কাছে দাঁড়িয়ে মৃদু মৃদু হাসছিল।

(চলবে————)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।