রেমালের প্রভাবে ভোলায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি

ইয়ামিন হোসেন ॥ সদ্য ঘটে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রিমালের তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে দ্বীপজেলা ভোলায়। বিদ্যুৎ বিহীন এবং নৌ-পথে যোগাযোগ বন্ধসহ বন্দীদশা কাটিয়েছে দ্বীপের মানুষ। ৬ জনের প্রাণহানীসহ বহু বাড়ীঘর বিধ্বস্ত, কাঁচা-পাকা সড়ক জোয়ারের পানিতে চলাচলে অনুপযোগী, মাছের ঘের, গবাদিপশু, রবিশস্য ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভোলার বিচ্ছিন্ন মনপুরা দ্বীপের মানুষরা। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহযোগিতা ও প্রদান করা হয়েছে।
ভোলা জেলা প্রশাসক আরিফুজ্জামান বলেন, প্রাথমিক ভাবে ঘূর্ণিঝড়ে ভোলায় ৭ হাজার ৪৬৫টি বাড়ী-ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ঘরবাড়ি আংশিক ও ২ হাজার ৪৬৫টি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিতে ভেসে গেছে ৫ হাজার ৮৬০টি পুকুর ও ৯৫০টি মৎস্য ঘের। এ ছাড়া ক্ষতি হয়েছে ১০ হাজার ৭৯১ হেক্টর জমির সবজি ও আউশ এবং বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে ১৪ হাজার ১০১ হেক্টর জমি।
তিনি আরো বলেন, এখন পর্যন্ত দুর্গত মানুষের জন্য ৩৭৫ টন চাল, নগদ ১৮ লাখ টাকা, শিশু খাদ্য, গো-খাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। এই দুর্যোগে দুর্গত মানুষের পাশে প্রশাসন কাজ করছে। সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি।
ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নত হওয়ায় দুইদিন বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার দুপুর (২৮শে মে) থেকে সব ধরনের নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় রিমেলের তান্ডব শেষ হলেও ভোলায় জোয়ারে ভেঙ্গে যাওয়া রাস্তায় চলাচলে কষ্ট ও অনেক গ্রামে জোয়ারের পানি থাকায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া মঙ্গলবার সকাল থেকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক গতি কিছুটা ফিরে পেয়েছে, পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বুধবার সময় লাগবে বলে জানিয়েছে গ্রাহকরা।
