মধ্যরাত : পর্ব-১৭৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : আর ইনি ম্যাগগিরের প্রফেসার, মন্ট্রিলের কানাডার সমগ্র মন্ট্রিলবাসীর নিউজ পেপার মিষ্টার রাহাত খাঁন। দোলা সেদিন পড়েছিল সন্দুর একখানা লাল তানচুই জরির কাতান। বিয়ের সমল গহনা সেদিন পড়েছিল। সকলের দৃষ্টি দোলার উপর ন্যস্ত। সুন্দর করে কুসুম খোপা করে দিয়েছিল। মুদ্ধ দৃষ্টিতে বার বার সকলেই দেখছিল, যেন শরতের মেঘমুক্ত আকাশের পূর্ণিমার চাঁদ। কুসুমও মাস খানেক আগে বিয়ে হয়েছিল। ও একখানা বট্টলগ্রীণ জরির কাতান পড়েছিল। বড়দার দেওয়া গহনা গা ভর্তি। উমা সাধারণ সতি সাবিত্রির মত বেশ ভুষা দেখলে শ্রদ্ধা জাগে। বিজন অমিয়ের স্ত্রীরাও সাধারণ ড্রেসে এসেছে। অনেক মুখরোচক গল্পে সেদিনের খাওয়া খুব সু-স্বাদু হয়েছিল। মিষ্টার রাহাত খাঁন বললেন, খাওয়ার ব্যাপারটা একটি বড় জিনিষ নয়। মিস ডোরার নিমন্ত্রণে আমাদের এই বাঙ্গালী বন্ধুদের কঙ্ক্রোডিয়া ভার্সিটি, ভার্জিনিয়া ভার্সিটি, টরেন্টো ভার্সিটি। তাদের স্ত্রীরা ও ইঞ্জিনিয়ার আকাশ চৌধুরী, কুসুম চৌধুরী, দোলা-কচ। বাঙ্গালীদের মহামিলনে আমাদের বাঙ্গালী চৈতন্যতার কথা স্মারণ করিয়ে দেয়। বাঙ্গালীর হাব-ভাব, বাঙ্গালীদের শাড়ী, গহনা, বাঙ্গালী চৈতন্যতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
এই বিদেশে বিভুঁয়ে যখন বাঙ্গালীদের আমি কোথাও একত্রে দেখি, আমার মন বারবার শ্রদ্ধার-ভালবাসায় নত হয়ে আসে। রবীঠাকুরের একটি কবিতা আছে না ? আমাদের মাথা নত করে দাও হে তোমার চরণ ধুলার তলে। আর অথচ যখন ইষ্ট পাকিস্তান ওয়েষ্ট পাকিস্তান যুদ্ধে যখন ইষ্ট পাকিস্তানের বাঙ্গালীরা ওয়েষ্ট পাকিস্তানকে হারিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের পতাকা বাংলাদেশে ওড়াল, তখন পাকিস্তানিরা কানাডা মন্ট্রিলে পাকিস্তান দিবস পালন করেছে। আর তখন আমাদের বাঙ্গালী ভাইয়েরা সেই পাকিস্তান দিবসের উৎসবে যোগদান করেছে, কিন্তু দু’জন বাঙ্গালী ইঞ্জিনিয়ার শিমু, প্রফেসার ডাক্তার মালেক, তাদের বাঁধা দিয়েছেন পাকিস্তানীদের পাকিস্তান দিবসে যোগ না দিতে। বাঙ্গালীদের যদি বাঙ্গালী চৈতন্যতা না থাকে তবে কেহ তাদের রোধ করতে পারবেনা।
অমিয় বলল, এইবার আমার দাদা রাহাত খাঁন মুখ খুলল। জানেন, দাদারা আমাদের মন্ট্রিলের নিউজ পেপার। সকলেই মুখ চাওয়া চাওয়ি করে বললেন, ওনি খাটি কথা বলেন। সেদিনের মত হাসি-ঠাট্টায়-আনন্দে ডোরার এপার্টমেন্টটা সরগরম হয়ে উঠেছিল। আমারও খুব ভাল লেগেছিল। অনেক রাত হতে চলল, সকলেই বিদায় নিয়ে যে যার জায়গায় চলে গেল। আমি সুশান্ত যে যার রুমে শোওয়ার জন্য চলে গেলাম। সেদিন রাতে শরীরটা আমার ভাল ছিল না। বার বার মাথা কেমন গরম হয়ে উঠেছিল। তাড়াতাড়ি উঠে প্রেসারের ঔষধ খেলাম। কাকেও ডাকলাম না, এমনিতে ওরা সারাদিন পরিশ্রম করেছে। ডেকে হয়রান, পেরেশান করতে ইচ্ছে করছিলনা। পাশের রুমে থেকে সুশান্ত উমা কোন সারা শব্দ পেলাম না। উঠে ড্রইং রুমে জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। ঠান্ডা বাতাসে মাথাটা একটু আরাম বোধ করেছিলাম। ডোরা ড্রইং রুমের ফ্লোরে চাদও পেতে নিশ্চিন্তে ঘুমুচ্ছে। মুখ খানা শান্ত ¯িœগ্ধ, বড় করুণ, দেখলে মায়া হয়। অনেকক্ষণ একটা করুণ রূপ আছে। সেরূপ নিরর্থক নয়, অর্থপূর্ণ। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে আর ভালো লাগছিলনা। গিয়ে বিছানায় আশ্রয় নিলাম।

(চলবে——-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।