মধ্যরাত : পর্ব-১৭৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন ), 

(গত পর্বের পর) : তখন ভোর হয়ে আসছে। না জানা কতগুলো পাখি কিচির মিচির করে গাছে এ ডাল থেকে ও ডালে ছুটাছুটি করছে। সুশান্ত, উমা, ডোরাও তাড়াতাড়ি উঠে মুখ-হাত ধুয়ে কাপড়-চোপড় গুছিয়ে, ব্রেকফাষ্ট খাবার জন্য ডাকাডাকি করছে। আমি বাথরুমে ঢুকে মুখ হাত ধুয়ে খাবার টেবিলে বসে পরলাম। এর মধ্যে দোলা, কচ ও কুসুম-আকাশ চৌধুরী এসে পরল। বলল, ও মাই গড; এখনও ব্রেকফাষ্ট সারেননি ? দেখুনত আমাদের দেবযানী কত তাড়াতাড়ি সবকিছু সমাধা করে, আমাদের নিয়ে বেরিয়ে পরেছে। আর আপনারা, আপনাদের নিয়ে কিচ্ছু হবে না। উমা ডোরা খুব হাসছিল। বলল, ইস দেবযানীর কত প্রশংসা করছেন মিষ্টার চৌধুরী। দোলার মত ভাগ্য এ রকম ননদ, ননদ জামাই পেয়েছে।
আমারও তযদুর সম্ভব তাড়াতাড়ি করলাম। দোলা, কুসুম, কচ, আকাশ চৌধুরী ওদের গাড়ীতে বসল। আমরা সুশান্ত আমি গাড়ীর আসনের সিটে পাশাপাশি দু’জনে থাকলাম। সুশান্ত ড্রাইভ করছিল। ডোরা, উমা পিছনের সিটে বসেছিল। তখন প্রায় ৯টা বাজে। ডিজনীর পথে গাড়ী স্টার্ট দিল। কতদিনের সাধ ছিল সকলে মিলে একবার মায়ামি, ডিজনী যাব। তাই আ জবড় বাসনা নিয়ে পাড়ি জমালাম। পথে কত সুন্দর সুন্দর দৃম্য মনকে আকৃষ্ট করল, সুন্দরের রাজ্য মনকে জয় করে ফেলল। আমার চিরদিনই বড় ঘুরে বেড়াতে ভালো লাগে। কোন খানে বেশিদিন আমার একদম ভালো লাগে না। কোন মানুষের সান্নিধ্য আমার বেশিদিন, বেশিক্ষণ, বেশি সময় কোনদিনই ভালো লাগতনা। আজও যেন ভার্জিনিয়া ছেড়ে হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। জর্জিয়া এসে ম্যাক ডোনালে দুপুরের লাঞ্চ খেলাম, সকলেই হৈ-চৈ করে ওখানের একটা পার্কে বসে একটু সুশীতল বাতাস গ্রহণ করলাম।
উমা টিফিনবক্স থেকে চীজ ফল, কোক বের করে দিল। প্রশান্ত দা কোন কোনটা খাবেন ? ডোরা ছুরী দিয়ে আপেলটা কেটে দিল। সুশান্ত বলল, আরে আমার বৌ খালি প্রশান্ত প্রশান্ত করে। সুশান্তর কথা কেউ বলে না। আর সকলেই হো হো করে হেসে উঠল। কচ বলল, আরে আমাদের সুশান্ত দাদু দেখছি বেশ মজার মজার কথা বলে লোককে হাসাতে পারে। আমি বললাম, সুশান্ত বড় রসিক। ও ইউনিভার্সিটি থাকাকালীন যা হাসাতে পারত। ও চলে যাওয়ার পর থেকে আর রসিকতা করার মত, একটা ছেলেকেও খুঁজে বের করতে পারিনি। আধা ঘণ্টার মত একটু বিশ্রাম নিয়ে আবার আমাদের গাড়ী গন্তব্য পথের দিকে ছুটে চলল। পথে যেতে যেতে সুশান্ত কলেজ জীবনের অনেক টুকিটাকি কথাগুলি বলে যেতে লাগল। মালবীকার কথা তুলল। ওর বাবার কথা তুলল। মালবীকা গানের কথা তুলে বলল, এত ভাল গাইয়ে আজ পর্যন্ত ও আমার চোখে পরেনি। অত ভাল ভদ্র মেয়েও আমি আর একটাও দেখিনি। মেয়েটি খুব সম্ভ্রান্ত ঘরের ছিল। রিচমন্ডের উপর দিয়ে গাড়ী চলতে থাকল।
প্রথমেই কচ দোলার সাথে ইউনিভার্সিটি ভার্জিনিয়ার প্রফেসারদের পরিচয় করে দিল। এই আমার নাত জামাই। মিষ্টার কচ, নাতনী দোলা। এও এক নাত জামাই, মিষ্টার আকাশ চৌধুরী, তার স্ত্রী কুসুম চৌধুরী আজকের প্রথম অতিথি। আমার বাল্য বন্ধু প্রশান্ত, কঙ্ক্রোডিয়া ইউনিভার্সিটির প্রেফসার। আমার বন্ধু টরেন্টো ভার্সিটির প্রফেসার। আর বিজন অমিয় ভবতোষকে দেখিয়ে ভার্জিনিয়ার ভার্সিটির প্রফেসারদের বলল, ওনারা প্রশান্তর কলিগ। কঙ্ক্রোডিয়া ভার্সিসিটর প্রেফসার, ডিজনী যাচ্ছেন। দয়া করে আমার এখানে ক্ষণিকের জন্য আতিথ্য করতে সম্মত হয়েছেন, আমি ধন্য।

(চলবে——-)

 

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।