মুক্তিপণে মনপুরার অপহৃত দুই জেলে উদ্ধার

মনপুরা প্রতিনিধি ॥ ভোলার মনপুরার অপহৃত দুই জেলেকে মুক্তিপণের দেড় লক্ষ টাকা দেওয়ার পর ছেড়ে দিয়েছে হাতিয়ার জলদস্যু মহিউদ্দিন বাহিনী। মুক্তিপণে উদ্ধার হয়ে ফিরে আসায় জেলে পরিবারের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে। অপহৃত জেলেদের উদ্ধার হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন অপহৃত জেলেদের আড়তদার বাবু মোহনলাল চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪ টায় ট্রলারযোগে মনপুরায় আসে মুক্তিপণে উদ্ধার হওয়া দুই জেলে। উদ্ধার হওয়া জেলেরা হলেন, সুজন মাঝি ও রহিম মাঝি। এদের দুইজনার বাড়ি উপজেলার ৪ নং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের রহমানপুর গ্রামে।
আড়তদার মোহনলাল চক্রবর্তী ও অপহৃত জেলে পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মুঠোফোনে জহলদস্যুদের সাথে জেলে পরিবারের সদস্যদের সাথে মুক্তিপণের ৩ লক্ষ টাকা নিয়ে দর কষাকষি শুরু হয়। দরকষাকষির এক পর্যায়ে দুই জেলের মুক্তিপণ বাবদ দেড় লক্ষ টাকা নির্ধারণ হয়। পরে ওই রাতে মুক্তিপণের দেড় লক্ষ টাকা ট্রলার করে হাতিয়ায় যায় জেলে পরিবারের সদস্যরা। পরে মুক্তিপণের টাকা জলদস্যু মহিউদ্দিনের কাছে পৌছালে অপহৃত দুই জেলেকে ছেড়ে দেয় জলদস্যুরা। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে ট্রলারে করে উদ্ধার হওয়া জেলেরা মনপুরায় ফিরে আসে।
উদ্ধার হওয়া জেলে সুজন মাঝি জানান, জলদস্যুরা চোখ বেঁেধ গহীন জঙ্গলে নিয়ে গাছের সাথে বেঁেধ বেধড়ক মারধর করে। পরে আমাদের কাছ থেকে আড়তদার ও পরিবারের সদস্যদের নাম্বার নিয়ে ফোন করে মুক্তিপণের টাকা দাবী করে। আমাদের মারধরের করার সময় পরিবারের সদস্যদের ফোন দিয়ে শোনায়। মুক্তিপণের টাকা না পেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে মুক্তিপণের টাকা দিলে জলদস্যুরা আমাদের ছেড়ে দেয়।
এ ব্যাপারে অপহৃত জেলে পরিবারের সদস্যরা জানান, মুক্তিপণের বিনিময় জেলেদের ছেড়ে দিয়েছে জলদস্যুরা। জেলে অপহরণের বিষয়টি পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করেনা কেন এমন প্রশ্নে পরিবারের সদস্যরা জানান কোস্টগার্ড ও পুলিশকে অবহিত করলে জলদস্যুরা অপহৃত জেলেদের মেরে ফেলার হুমকী দেয় তাই তারা জানান না। তবে তারা কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের কারণে মেঘনায় একের পর এক ডাকাতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।
এ ব্যাপারে হাতিয়ার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা এস.আই আল আমিন এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কিছু বলতে রাজি নন। বরং হাতিয়া কোস্টগার্ডের সাথে আলাপের পরামর্শ দেন।
এ ব্যাপারে হাতিয়া কোস্টগার্ডের সাথে একাধিকার বার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্ঠা করলেও কেউ ফোন না ধরায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মনপুরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জহিরুল ইসলাম জানান, অপহৃত জেলেরা ফিরে আসার খবর পেয়েছি। তবে কেউ মামলা করেনি। উদ্ধার হওয়া জেলেরা ছবি তুলতে রাজি হয়নি। তাই ছবি দেওয়া যায়নি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।