সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-১৬২

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : দোলার রূপই যেন কচ এর কাছে সমুদ্র হয়ে ধরা দিয়েছে। দোলা অনর্গল কথা বলে চলেছে। যেন ফুল ঝুড়ি, সমুদ্রের ঢেউয়ের মতই আছড়ে পরে ভেঙ্গে খানখান হয়ে যাচ্ছে। কচ কোন কথা বলছেনা, দোলা যে এতকথা বলতে জানত আমি আগে বুঝিনি। আমি দোলাকে বাঁধা দিলাম না। বলুক যতকথা ওর মনের গভীরে বেঁধেছিল, সব মানস প্রিয়ার কাছে বলে যাক।
কিছুক্ষণের ভিতর আমরা স্টাচু অব লিবার্টির কাছে এসে গেলাম। জাহাজ থামা মাত্রই সব লোকজন হুড়মুঢ় করে নেমে গেল। যেন পিঁপড়ার পাল, সকলেই লনে সবে কেনটোকি, পটেটো চিপস, হাম বরগার, কোক, সেভেন আপ এসব এসব দুপুরের লাঞ্চ সেরে ফেলল। আমি সুশান্ত উমা কয়েকটা চেয়ার দখল করলাম। উমার হাতের তৈরী কিছু নাশতা ছিল, তা দিয়ে খাওয়া শুরু করলাম। দোলা-কচ আমাদের সকলের জন্য অনেক অনেক কেনটোকি, হাম বরগার, পটেটো চিপস, কোন নিয়ে আমার পাশের চেয়ারে বসল। দোলা বলল দাদু, তোমরা কি খাচ্ছ ? আমরা এনেছি এগুলো খাও। আমি বললাম, তোমরা খাও। আমাদের যেগুলি আছে তা খেয়েই শেষ করতে পারবো না।
কচ বলল দাদু এতগুলি খাবার আপনারা না খেলে কে খাবে ? খেয়ে নিন, সুশান্ত দাদু খান, উমাদি খাননা ? বারে সব যেন পর পর ভাব। আপনাদের সাথে জোর করে ধরে নিয়ে এলাম। আমাদের হানিমুনের আসর জমিয়ে তোলার জন্য গল্পে গানে কাব্যে কবিতায় দু’দাদু মিলে জাকিয়ে তুলবেন, কোথায় যেন আপনারা দু’দাদুই কেমন ¤্রয়িমান। ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে মনের গহীনে অতলান্তে তলিয়ে যাচ্ছেন। আমি বললাম, কচ তোমরা ফুর্তি কর, খাও। স্টাচু অব লিবার্টির উপর উঠ, দেখ। সুশান্ত তুই উমাকে নিয়ে যা। সুশান্ত বলল, ওরে বাবা, আমি এত উপরে উঠতে ভয় পাব। উমাও এত সাহস পাবে কিনা জানি না।
সে আবার লাইনে দাঁড়ালাম। প্রায় দু’তিন ঘণ্টার ব্যাপার। সেই জাহাজের লাইনের মত লাইন। ধৈর্য্য হারালাম না, কচ-দোলা এক পায়ে দাঁড়িয়ে আছে। আমি কতক্ষণ গাছের নীচে, পার্কের লোহার চেয়ারগুলোয় বসি। আবার এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি। সুশান্ত ধৈর্য্যচ্যুত হয়ে একবার বসে, একবার দাঁড়ায়। উমা পার্কে শেষ পর্যন্ত বসেই থাকল। আস্তে আস্তে লাইন কেটে গেল, সবলোক লিবার্টির উপর উঠার জন্য ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ল। আমিও ঘরের মধ্যে সুশান্ত-উমাকে নিয়ে ঢুকে স্টাচু অব লিবার্টির অর্ধেক পর্যন্ত উঠলাম। কিছু সিড়ি বেয়ে, কিছু লিফটে নামা-উঠা করলাম। কিন্তু দোলা ও কচ লিবার্টির মাথা পর্যন্ত সিড়ি বেয়ে উঠেছে। ৩৫৪ সিড়ি ভেঙ্গে তবে লিবার্টির মাথা পর্যন্ত উঠা যায়। ওরা দু’জনে রেকর্ড সৃষ্টি করেছে। ওদের এই বয়ষ অসাধ্য সাধনের বয়স। এই বয়সে মানুষ অনেক কিছু করতে পারে। দোলা আনন্দে কচের হাত ধরে আমার কাছে টেনে নিয়ে এল। দাদু দেখ কি সাহস এই কচের, আমাকে টেনে টেনে স্টাচুর মাথা পর্যন্ত উঠেছে, ভীষণ সাহসী ছেলে।

 (চলবে———-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।