ভোলায় সরকারি কর্মচারির সরকারি খাল দখল !

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউপির মহাজনেরপুল সংলগ্ন সরকারি খাল দখল করার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল কর বিভাগের কর্মচারি সুমনের বিরুদ্ধে। খালের ভিতরে অবৈধ পিলার স্থাপন করে খালের মধ্যে পাইলিং করছেন তিনি। একজন সরকারি কর্মচারি হয়ে অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
রবিবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভোলা শহর থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে পৌরসভার সীমানার কাছে মহাজনেরপুল সংলগ্ন এলাকায় বরিশাল কর অফিসে পেশকার পদে কর্মরত সুমন খালের মধ্যে পিলার স্থাপন করে পাইলিং করছে। যার ফলে খালের প্রস্থ কমে গেছে। ভোলা শহরের কাছের এই খালের উপর নির্ভর করে শত শত কৃষক সেচ কাজে পানি ব্যবহার করছে। এছাড়াও এই খাল দিয়ে বর্ষা মৌসুমে পানি নেমে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পাচ্ছে খাল সংলগ্ন এলাকার মানুষ। অথচ এই খালটি প্রভাবশালীরা দখল করে খালের ঐতিহ্য নষ্ট করেছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, ইলিশা সড়কের পাশের এই খালটি আরো চড়া ও প্রস্থ ছিলো। প্রভাবশালীরা তাদের সুবিধার্থে অবৈধভাবে খালটি দখল করে নেয়। দিনদিন খালটি ড্রেনের মতো হয়ে যাচ্ছে। অথচ এই খাল দিয়ে পানি নিস্কাশন হয় এবং এই খালের পানি শত শত কৃষকরা সেচ কাজে ব্যবহার করছেন। কিন্তু প্রতিনিয়ত প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবৈধভাবে খাল দখলের ফলে খালের ঐতিহ্য দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। একজন সরকারি কর্মচারি কিভাবে আইন অমান্য করে এভাবে খাল দখল করছেন এটা নিয়ে সাধারন জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তারা এই ব্যাপারে জেলা প্রশাসক, ইউএনও, এসিল্যান্ড মহোদয়ের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
অভিযুক্ত বরিশাল কর অফিসের পেশকার সুমনের সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি বলেন, আমার জমিনের সীমানায় আমি পিলার স্থাপন করে বাউন্ডি ওয়াল দিচ্ছি। সরকারী খালের মধ্যে কোন পিলার স্থাপন করা হয়নি।
এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, কেউ যদি সরকার খাল দখল করে স্থাপনা তৈরি করে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সে যতই প্রভাবশালী হোক না কেন সরকারি খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।