ভালোবাসায় বসন্ত উৎসব

ভোলায় ফুলের দোকানে তরুন-তরুনীদের ভীড়

মনিরুল ইসলাম ॥ আজ ঋতুরাজ বসন্ত। আর তাই দোলা দিচ্ছে মন। সেই সাথে প্রকৃতিও যেন সেজেছে নতুন সাজে। বাহারি ফুল ফুটেছে গাছে গাছে। সারি সারি ফুলের সমারোহে দোল খাচ্ছে গোলাপ, গেন্ধা, গাদা আর রজনীগন্ধা। বাতাসে সুভাষ ছড়াচ্ছে এসব ফুল। নার্সারি ও ফুলের দোকানে শোভা পাচ্ছে বাহারি রংয়ের এসব মনমুগ্ধকর ফুল। ফুল চাষীরা জানালেন, ভোলাতে বানিজ্যিকভাবে ফুল চাষ হয়না, যেগুলো পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো যশোর থেকে আনা হয়। আর তাই ফুলের দাম কিছুটা চড়া। বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস এই দুটি দিবস এবার এক সাথেই হচ্ছে। আর তাই ফুলের কদরও বাড়ছে। তাই ফুলের দোকানে দেখা গেছে তরুন-তরুনীদের ভীড়।
প্রিয়জনদের ফুল উপহার দিতে ভীড় করছেন তারা। তবে এ বছর ফুলের দাম অনেক বেশি হলেও ফুলকে ভালোবেসে চড়া দাম দিয়েই কিনতে হচ্ছে তাদের। পাশাপাশি বিপনীগুলোতে দেখা গেছে বাহারি ফুলের সমারোহ। শেষ মুহুর্তে তাদের প্রস্তুতি চলছে। ফুলকে তরতাজা রাখতে পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা।
সদরের বিয়ে বাজারের কর্ণদার জানালেন, ভালোবাসা দিবসে ফুলের চহিদা থাকে সবচেয়ে বেশি। আমরা গত কয়েকদিন আগে থেকেই এই আয়োজনকে স্বার্থক করার জন্য ব্যস্ত থাকি। এখন সেই আয়োজনের পরিচর্যা করছি। তিনি আরো জানালেন, দ্বীপজেলা ভোলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুলের চাষ হয়না, তবে অর্ধ-শতাধিক নার্সারি রয়েছে যেখানে দেখা মেলে বাহারি আকারের ফুল। যাদের মধ্যে গোলাপ, রজনীগন্ধা আর গাদা ফুলের ভালোবাসায় মুগ্ধ ক্রেতারা।
এসব ফুলের চাহিদা থাকায় তাই আগাম ফুল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন তারা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় বসন্ত ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে ফুলের কেনা বেচা জমে উঠে। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই ফুলের দোকান বা নার্সারীতে ভীড় বাড়ছে তরুন-তরুনীদের। ফুল কিনতে পেরে খুশি তারা।
প্রিয়াঙ্কা বনিক বলেন, বিশেষ দিনে প্রিয়জন কে ফুল দিতে ফুলের দোকানে এসছি, ফুল কিনেছি। আমার মত অনেকেই এসছেন ফুল কিনতে। আরেক তরুনি সাবরিনা মমতাজ বলেন, ফুল হলো ভালোবাসার প্রতীক। আমার কাছে অনেক বড় উপহার হলো ফুল। তাই ফুল উপহার হিসেবে পেতে যেমনি খুব ভালোলাগে, তেমনি উপহার দিতেও প্রিয় মানুষকে ফুল উপহার দিতে ফুলের দোকানে আসা।
এদিকে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ি সব ধরনের ফুলের পসরা সাজানো হয়েছে দোকান গুলোতে। কেনা-বেচাও বেশী বলে অভিমত বিক্রেতাদের। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে কেনা-বেচার ধুম।
ইভেন ম্যানেজমেন্ট বিয়ে বাজারের স্বত্তাধিকারি প্রভাষক মনিরুল ইসলাম আরো বলেন, বিগত সময় করোনার কারনে ক্রেতাদের সমাগম হয়নি কেনাবেচাও হয়নি। তবে এবার ক্রেতাদের ভীড় বাড়ছে। আশা করা যায় ফুলের বিক্রি ভালো হবে। ভোলা শহরের সদর রোডে প্রতি মার্কেটের সামনেই এই ভ্রাম্যমান ফুলের পসরা সাজিয়ে বসেছে দোকানিরা। বসন্ত-ভালোবাসা দিবসে লাখ লাখ টাকার ফুল বিক্রির আশা তাদের।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।