ভোলায় জমে উঠেছে নারী উদ্যোক্তা মেলা

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোলায় জমে উঠেছে নারী উদ্যোক্তা মেলা। ৩ দিনব্যাপী মেলার প্রথম দিন গত শনিবার (২১ জানুয়ারি) ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দ্বিতীয় দিন রবিবার বিকেলেও ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা দেখা গেছে। মেলায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষদের সরব পদচারণা ছিল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। ভোলা শহরের চিলি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ৩ দিনব্যাপী এই নারী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করেছে ভোলা ওমেন্স ই-কমার্স প্লাটফর্ম।
প্রায় ১৬টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে ২১-২৩ জানুয়ারি প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নারী উদ্যোক্তা মেলা চলবে। মেলার বিভিন্ন স্টলে ছিল দেশি-বিদেশি শাড়ি, রেডি-আনরেডি থ্রিপিস, পাঞ্জাবি, টি-শার্ট, শীতের পোষাক, কসমেটিক্স, জুয়েলারি সামগ্রি, শিশুদের খেলনা, হোমমেড খাদ্যপণ্য ও পিঠা-পায়েসসহ বিভিন্ন পণ্যের সমাহার। মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত ও সকলের জন্য শুভেচ্ছা উপহার রয়েছে। এ ছাড়া রয়েছে বিশেষ ছাড়।
অনলাইন ওয়াম্যানস ই-কমার্স প্লাটফমের সভাপতি এসবি বিথি বলেন, আমাদের ভোলার নারীরা অনলাইন ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছেন। এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। নারীরা উৎসাহিত হচ্ছেন, বর্তমানে দুই শতাধিক নারী অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। যাদের বেশিরভাগ সফলতা পেয়েছেন।
সহ সভাপতি ও চাঁদেরহাট বস্ত্র মেলার সত্বাধিকারী মুজিয়া রহমান পূন্য বলেন, আমার অনলাইন পেইজের বয়স এক বছর পূর্ণ হলো। তাই এ মেলায় আমি আমার সব পণ্য শতকরা ১০ ভাগ ছাড়ে বিক্রি করছি।
সাধারণ সম্পাদক পাপিয়া চৌধুরী বলেন, আমি অনলাইনে মাত্র ২৪ হাজার টাকা নিয়ে প্রথম ব্যবসা শুরু করি। এখন আমার পুঁজি ২০ লাখ টাকায় এসে পৌঁছেছে। আমার ফ্যাশন হাউজে কর্মসংস্থান হয়েছে আরও ৪ নারীর। তৃণমূল নারীদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করতে এই মেলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সেই ধারাবাহিকতায় ভোলায় ৩ দিনব্যাপী এই নারী উদ্যোক্তা মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
হোমমেড খাদ্যপণ্য ও পিঠা-পায়েসের স্টল চকলেট এন্ড পেস্টির সত্বাধিকারী উম্মে হাবিবা বলেন, এ মেলায় গত দুই দিনে প্রায় ৮ হাজার টাকার পিঠা বিক্রি হয়েছে। নারী উদ্যোক্তা মেলায় সর্বস্তরের মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করার জন্য অনলাইন ওয়াম্যানস ই-কমার্স প্লাটফমের সভাপতি এসবি বিথি বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন।
মেলায় আসা লিজা বেগম নামে এক ক্রেতা বলেন, ভোলায় প্রথম বারের মতো নারী উদ্যোক্তা মেলায় এসে খুব ভালো লাগলো। বিভিন্ন ধরণের অনেক পণ্য রয়েছে এ মেলায়। তবে, এখনো কিছু কেনাকাটা করিনি। আশা আছে রবিবার শেষ দিনে কিনবো। এ ধরনের নারী মেলা যেন প্রতি বছর হয় সেই দাবি জানিয়েছেন তিনি। আরেক ক্রেতা সামিয়া বলেন, মেলায় এসে চাঁদেরহাট বস্ত্র মেলা স্টল থেকে ৩৭৫ টাকা দিয়ে একটি শাল কিনেছি। যেটা আগামী শীতে পরবো।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।