সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-১২৪

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

(গত পর্বের পর) : চোখ বুজে সেই ছোট বেলা বড়দিকে জ্বালিয়েছি সে সব কথা আমার মনের মুকুরে ভেসে উঠল। যেন মাকে মনে পরল, বাবার কথা বাবার বার কানে ভেসে আসতে লাগল। এতদিন সুস্থ্য ছিলাম, কাজের মধ্যে ডুবে রয়েছি। তাও মাঝে মধ্যে বাবা-মা’র কথা মনে পরত। ভাবতে ভাবতে আমি ঘুমের রাজ্যে হারিয়ে গেলাম। অনেকক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম। বিকেলে দিকে আমি একটু উঠে বসলাম। দরজার বেল বেজে উঠল। আমাদের ভার্সিটির প্রফেসাররা কয়েকজন আমার সাথে দেখা করতে আসল। দোলা দরজা খুলে দিয়ে বিচেনে গেল। বন্ধুরা সব বলল, আমাদের খোজ নিতেও নেই দাদা। আপনার এত অসুখ, বলললাম আমার বন্ধু সুশান্ত কাল আসছে। ওকে খবর দিলাম ও নিজের থেকেই আসতে চেয়েছে।
বন্ধু-বান্ধবরা বলল তবুও আশা করি আমরা যে প্রশান্ত বাবু বিয়ে থা করেনি, কোন অসুবিধা হলে নিশ্চয় আমাদের জানাবে। আমি বললাম, আমার অসুখের মধ্যে কোন খেয়াল নেই। শুধু দোলাকে বললাম, দোলা সুশান্তকে আমার নোট বুক-এ ফোন-এর নাম্বার আছে, তা দেখে ফোন কর। ভাই আপনারা আমায় ক্ষমা করুন, এত জ্বরের মধ্যে আমার মাথা ঠিক ছিল না। বন্ধুরা সব লজ্জ্বা পেয়ে গেল, বলল ছিঃ ছিঃ আপনি বোধ হয় আমাদের চেয়ে বয়সে বড় হবেন। আপনি ক্ষমা চেয়ে আমাদের লজ্জ্বা দিবেন না।
আমি দোলাকে ডেকে ওদের চা দিতে বললাম। দোলা কয়েক কাপ চা বিস্কুট দিয়ে ওদের সামনে এসে দিয়ে গেল। ওরা কেউ চা খেল, কেউ খেল না। আমার গায়ে তখনও জ্বর। শরীর অসম্ভব রকম দুর্বল। শুধু সুশান্তর আশায় আমি পথ চেয়ে আছি। আমার বন্ধুরা আমার গায়ে হাত গিয়ে দেখল। সকলে বলল, এখনও জ্বও হান্ড্রেড এর উপর। ওরা অনেকক্ষণ বসে গল্প গুজব করল। চলে যাওয়ার জন্য উঠতে চাইল। আমি বললাম, আর কিছুক্ষণ থাকেন। সকলেই আর কিছুক্ষণ বসল। সকলেই বলল, একজন কেউ বেটা ছেলে থাকলে ভাল হয়। আমি বললাম, সুশান্ত আসুক। দেখি ও কি বলে যদি থেকে চিকিৎসা চালাতে বলে থাকব। না হলে টরেন্টো চলে যাব। বন্ধুরা সব বলল সে কি ? আপনার নিজের বাড়ী ঘর ছেড়ে বন্ধুর কাছে যাবেন ? এখানে থেকে ডাক্তার দেখান। আমি চুপ করে আকাশ-পাতাল ভাবছিলাম। ওরা চলে গেল। আমি স্যুপ কারি মুরগির মাংস দিয়ে ভাত খেয়ে চাইলাম। দোলা তৈরী করে সামনে রাখল।

 (চলবে—-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।