সর্বশেষঃ

নগদ টাকাসহ ৩ লাখ টাকা ক্ষতি ॥ মামলা দায়ের

হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা, সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করাই মুল লক্ষ্য

ভোলার বাণী রিপোর্ট ॥ ভোলা সদর উপজেলার বাপ্তা ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের হাজিরহাট এলাকায় হাজী বাড়ীর মৃত আবু তাহের মিয়ার দুই স্ত্রী’র ১১ সন্তান। বড় স্ত্রীর ঘরে ১ ছেলে (মনির মেম্বার, ৫নং ওয়ার্ড, বাপ্তা) এবং ৬ মেয়ে। দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে ১ মেয়ে, ৩ ছেলে। ২০১৮ সালে পিতা আবু তাহের মিয়ার মৃত্যুর পর সম্পত্তি নিয়ে দুই স্ত্রী-সন্তানদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারন করে। মরহুম আবু তাহের মিয়ার বিভিন্ন জায়গায় সম্পত্তি রয়েছে। ভোলা শহরের মহাজনপট্টিতে ২টি ভিটি, বাপ্তা মুছাকান্দি এলাকায় তার নিজ নামে মার্কেট ও বাড়ী। হাজী বাড়ীর আশ-পাশে প্রচুর সম্পত্তি রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত : ২০১৮-২০১৯ সালের মধ্যে পারিবারিকভাবে বাপ্তা ৫নং ওয়ার্ড মুছাকান্দি এলাকায় মরহুম আবু তাহের মিয়ার নামে মার্কেট তৈরী করা হয়। যার দায়িত্বে ছিলেন প্রথম স্ত্রীর ছেলে মনিরুল ইসলাম (মনির মেম্বার) এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর প্রথম সন্তান মোশারেফ হোসেন। মার্কেট তৈরীর শেষ পর্যায়ে এসে মনির মেম্বার তার ছোট ভাই মোশারেফ (সৎ ভাই) এর কাছে এককভাবে একটি মোটরসাইকেল দাবী করেন। মোশারেফ হোসেন এই দাবী মানতে রাজি না হওয়ায় মার্কেট তৈরীর হিসাবের খাতা ছিড়ে ফেলেন এবং ১৯টি দোকান ঘরের ১৭টি নিজ দখলে নেন। ২টি রাখেন দ্বিতীয় পক্ষের সৎ ভাই মোশারেফ হোসেন এর জন্য। এরপর থেকেই শুরু হয় জমি দখল, জুলুম এবং নির্যাতনের হুমকি। এর কিছুদিন পর ক্ষিপ্ত হয়ে সৎ ভাই মোশারেফ হোসেন, মাকসুদুর রহমান,মাহাবুব এর নামে ওকরাইত মোস্তফার স্ত্রী আনোয়ারাকে দিয়ে নারী নির্যাতনের মামলা করান। এরপর থেকেই মামলা, পাল্টা মামলা, ধাওয়া এবং সৎ ভাইদেরকে পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার বিভিন্ন পায়তারা চলে।
গত ২৫ নভেম্বর সকালে মনির মেম্বারের সৎ ভাই মাকসুদ প্রাণ কোম্পানীর ৮০ হাজার টাকা নিয়ে তার বাবার নামে (আবু মিয়া)’র মার্কেটের সামনে আসলে (যদিও তারা মার্কেটের পিছনে বাপের সম্পত্তিতে ঘর করে থাকেন) মনির মেম্বারের ভগ্নিপতি মনির (পিতা আব্দুল কাদের) মাকসুদের উপর অতর্কিত হামলা করে। মাকসুদকে বাঁচাতে তার স্ত্রী ফাতেমা খাতুন এগিয়ে আসলে মনিরের হাতে থাকা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ দিলে মারাত্মক যখন হন এবং নাভির উপরিভাগে ওই ধারালে অস্ত্র দিয়ে পোচ দেন। এসময় ফাতেমা খাতুনের গলায় থাকা ১০আনার চেইন, ও মাকসুদের কাছে থাকা কোম্পানির ৮০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। এছাড়াও মনিরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী গ্রুপ মাকসুদের দোকানে প্রবেশ করে মালামাল লুট, ভাংচুরসহ ১লাখ ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে।
এদিকে মারাত্মক যখন ফাতেমা খাতুনকে উদ্ধার করে ভোলার ২৫০ শয্যা হাসপাতালের আন্তঃ মহিলা ওয়র্ডের বি-৬৭ নং বেডে ভর্তি করে চিকিৎসা করানো হয়। পরবর্তীতে ১৭/০১/২২ তারিখে ফাতেমা খাতুন ভোলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মনির (পিতা আব্দুল কাদের) কে প্রধান করে ৬ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার অপর আসামিরা হলেন- মনির মেম্বার, ভাড়াটিয়া ইব্রাহিম, রিপন, নিরব, খোকন। যার নং-জিআর-৬৪৮/২২। বিজ্ঞ আদালত ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তাৎক্ষনিকভাবে মামলা রুজু এবং তদন্ত করে আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন। অপরদিকে মনির মেম্বার তার ভাড়াটিয়া এবং নিরবের নেতৃত্বে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় নিজেদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য থানায় লোকজন নিয়ে এসে অভিযোগ করেন।
এদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে মনির মেম্বারের বিরুদ্ধে একাধিক অপকর্মের তথ্য। তিনি সৎ ভাই-বোনদেরকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেই ক্ষ্যান্ত হয়ননি, তার আপন বোনদেরকেও সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার পায়তারা চালাচ্ছেন। তার আপন ভাগ্নে আরমান, আফজালকে চাকুরী দেয়ার নাম করে ১৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। যা উপর মহল থেকে নিচের মহল পর্যন্ত সবাই অবগত। মাকসুদা নামের এক কাজের মহিলার কাছ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে তা আজও পরিশোধ করেন নি। এছাড়াও জমি দখল, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে মুছাকান্দি এলাকায়। তার এসব অপকর্মের প্রধান সেনাপতি হলেন ভগ্নিপতি মনির।
জানা গেছে, আসামীরা জামিনে এসে বাদীকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে বাদী পক্ষ ভয়ে পলায়নরত আছেন। প্রশাসনের কাছে এ ঘটানার সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক বিচার দাবী করছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
১নং আসামি মনির, পিতা-আব্দুল কাদের (মনির মেম্বারের ভগ্নিপতি) কে সরাসরি বা ফোনে পাওয়া যায়নি। তবে ২য় আসামি মনিরুল ইসলাম মনির মেম্বার বিষয়টি অস্বীকার বলেন, আমি একজন ৩ বারের জনপ্রতিনিধি, আমি অন্যায় করতে পারিনা। এসব মিথ্যা বানোয়াট। আমার ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য এসব মামলা হামলা হচ্ছে। তদন্ত চলছে আইন অনুযায়ী সবকিছু হবে।
বাপ্তা ইউপি চেয়ারম্যান ইয়ানুর রহমান বিপ্লব মোল্লা জানান, এদের সমস্যা দীর্ঘদিনের। আমার কাছে বহুবার এসছে। ওরা কারো কথাই শুনছে না। এ ব্যাপারে ভোলা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহিন ফকির জানান, বিষয়টি নিয়ে কোর্টে মামলা হইছে, তদন্ত চলমান।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।