৯৪ বস্তা সরকারি বীজ জব্ধ ॥ গ্রেপ্তার-১, মামালা দায়ের

ভোলায় বিএডিসি’র ডিলারদের কারসাজিতে কৃষকরা দিশেহারা

হারুন অর রশিদ ॥ ভোলা শহরের নতুন বাজারে মানিক ট্রেডার্স থেকে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)’র ৯৪ বস্তা সরকারি বীজগমসহ মানিক নামের এক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় পুলিশ সরকারি গমবীজসহ স্থানীয়রা আটক করে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে ৭৯ বস্তা সরকারি গমবীজ, ১৫ বস্তা আলু ও ধানবীজ জব্দ করে। গ্রেপ্তারকৃত ব্যবসায়ী মানিক জব্দকৃত মালামালের স্বপক্ষে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে জনৈক ডিলার সুলতান আহমেদ এর কাছ থেকে নিজেকে বাঁচাতে একটি চালান নিয়ে আসে। যা প্রমানে ব্যর্থ হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বোরহানউদ্দিন উপজেলার দাদা বীজ ভান্ডারের সত্বাধিকারী নাজিমুদ্দিন নামের এক ডিলার সরকারি ওই বীজগুলো উত্তোলন করে চোরাই পথে ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেন। ফলে কৃষকরা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশী মূল্যে ক্রয় করতে হচ্ছে।
গ্রেফতারকৃত নাজিম উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বোরহানউদ্দিন দাদা বীজ ভান্ডারের সত্ত্বাধিকারী নাজিম উদ্দিন বিএডিসি থেকে বীজগুলো উত্তোলন করে তার কাছে এবং ভোলার আরেক ডিলার সুলতান আহম্মেদ এর কাছে বিক্রি করে। কিন্তু সাংবাদিকদের তিনি এর সপক্ষে কোন কাগজ দেখাতে পারেন নি। এ ঘটনার আধাঘণ্টা পর বীজ ডিলার সুলতান আহম্মেদ এর কাছ থেকে আনা একটি চালান দেখানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, ভোলার বীজ ডিলার সুলতান আহম্মেদ ও বোরহানউদ্দিনের বীজ ডিলার নাজিম উদ্দিন স্ব-নামে, বে-নামে একাধিক বিএডিসি’র ডিলারশীপ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে বীজ না দিয়ে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে অধিক মুনাফায় বিক্রি করে দেন। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি বীজের কৃত্রিম সংকট তৈরী করে অধিক মুনাফা লুফে নিচ্ছে। এ চক্রের সাথে বিএডিসি’র স্থানীয় কর্মকর্তাও জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরো জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত ৫১ টাকা গমবীজ খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কৃষকদের কিনতে হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা করে, এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন বীজ ক্রেতা। এ সকল চক্র বীজের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকারের দেয়া সুবিধাগুলো থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করার সাথে সাথে কৃষি বান্ধব সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপগুলোও ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বিএডিসি’র বীজ ডিলার সুলতান আহম্মেদ এর বক্তব্য নেয়ার জন্য ফোন করা হলে তিনি কলটি রিসিভ করেন। যখন সাংবাদিক এর পরিচয় পেয়েছেন তখন তিনি ব্যস্ত আছেন বলে সংযোগটি কেটে দেন। তিনি বলেন, আমি এখন ব্যস্ত আছি; আপনাকে একটু পরে ফোন দিব। কিন্তু তারপর থেকে তাকে বিভিন্ন নাম্বার থেকে (রাত ৯টা পর্যন্ত) একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি কলগুলো রিসিভ করেননি।
ভোলা সদর মডেল থানার এস আই কবির উকিল জানান, জব্দকৃত মালামাল দিয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ব্যাপারে ভোলা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিন জানান, এ বিষয়টি তাদের নয়।
ভোলা সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন ফকির জানন, উদ্ধারকৃত সরকারি মালামাল এবং গ্রেফতারকৃত মানিককে বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করা এবং তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।