ভোলায় জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মানববন্ধন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

শিক্ষা সিলেবাস থেকে ইসলামি শিক্ষা তাহজীব তামাদ্দুন ধ্বংসের চক্রান্ত, মাদরাসার পাঠ্যপুস্তকে বিজাতীয় সাংস্কৃতির অন্তর্ভুক্তি, মাদরাসা শিক্ষার মধ্যেও হিন্দুত্ববাদী শিক্ষা সংযোজন করে ইসলামি ও মাদরাসা শিক্ষার স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্য নষ্টের গভীর ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদ এবং মাদরাসার জন্য স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন সহ ১৩ দফা দাবী আদায়ের লক্ষ্যে মাদরাসা শিক্ষকদের সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের কেন্দ্রীয় ঘোষিত কর্মসূচী হিসেবে ভোলা জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীন উদ্যােগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সোমবার বেলা ১১ টায় শহরের কে জাহান শপিং কমপ্লেক্সের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচী পালন করেন।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা জেলা সভাপতি ও করিমজান মহিলা কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আবদুল খালেক।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীনের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও ভোলা জেলা সাধারণ সম্পাদক এবং ভোলা দারুল হাদিস কামিল (স্নাতকোত্তর) মাদরাসার উপাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ মোবাশ্বিরুল হক নাঈম।
বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদাররেছীন ভোলা জেলা সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বোরহানউদ্দিন উপজেলা সভাপতি এবং বোরহানউদ্দিন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহাম্মদ উল্লাহ আনছারী,জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সহ সভাপতি ও লালমোহন উপজেলা সভাপতি এবং লালমোহন কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা মোঃ মোশারেফ হোসেন,জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চরফ্যাশন উপজেলা সভাপতি এবং হাজারীগঞ্জ হামিদিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ মঈনউদ্দীন,জেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনের সহ সভাপতি ও দৌলতখান উপজেলা সভাপতি এবং দিদারুল্লাহ ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুছ ছামাদ,
বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ ভোলা জেলা সভাপতি মাওলানা মোঃ মিজানুর রহমান।
ভোলা জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি ও পরানগঞ্জ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার আলহাজ্ব মাওলানা মীর মোঃ বেলায়েত হোসেন,ভোলা জেলা মুসলিম ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার,আলহাজ্ব মাওলানা আব্দুর রহিম জসিম,ভোলা সদর উপজেলা জমিয়াতুল মোদাররেছীনর সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ আবদুল লতিফ,পাঙ্গাশিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ আমির হোসেনপ্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন ৯১ ভাগ মুসলমানের দেশে পাশ্চাত্য ও দেব-দেবীর বিশ্বাস ও তাদের আরাধনার শিক্ষা সংস্কৃতির আদলে তৈরি বইগুলো স্কুলের জন্যও উপযোগী নয়। মাদ্রাসার এসকল বই পাঠ্যপুস্কক হিসেবে গ্রহন ও ব্যবহারের প্রশ্নেই আসেনা।
এধরনের পাঠ্যপুস্তক মাদরাসায় পাঠদানের জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক প্রেরিত এবং নির্দেশিত হলে, মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর সকল অর্জনকে ম্লান করে দিবে, যা কোন অবস্থাতেই মেনে নেয়া যায় না।

মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে জেলা নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
১৩ দফা দাবীর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য দাবীতে উল্লেখ করেন, মাদরাসা শিক্ষার জন্য এ সরকারের প্রণীত ও জাতীয় সংসদে গৃহীত জাতীয় শিক্ষা নীতি-২০১০ এ বর্ণিত মাদরাসা শিক্ষার স্বকৃয়তা লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য পূরণের উপযোগী স্বতন্ত্র শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচী এবং পাঠ্যবই, এনসিটিবি, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও জমিয়াতুল মোদাররেছীনের বিজ্ঞ ও বিশেষজ্ঞ আলেমদের সমন্বয়ে প্রণয়ন করার বিকল্প নেই। অনতিবিলম্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে এ কাজ শুরু করতে হবে। দাবীকৃত শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠ্যবই প্রণয়নের পূর্বপর্যন্ত প্রচলিত পাঠ্যপুস্তকসমূহ পাঠদান অব্যাহত রাখতে হবে।
সাধারন শিক্ষায় এসএসসি পরীক্ষা দশটি বিষয়ে ১০০০ নম্বরের অনুষ্ঠিত হবে। মাদরাসা শিক্ষার জন্য মূল বিষয় ঠিক রেখে সমন্বয় সাধন করে ১০০০নম্বর নির্ধারণ করতে হবে।
বেসরকারি সকল স্তরের শিক্ষক-কর্মচারীগণের চাকুরী জাতীয়করণ করতে হবে।
সংযুক্ত ইবতেদায়ী প্রধান সহ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষকদের উপযুক্ত বেতন/ভাতা প্রদান করতে হবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায় স্বতন্ত্র ও সংযুক্ত ইবতেদায়ী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, টিফিনসহ সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক অনুমোদিত ২০১৮ সালে প্রণিত স্বতন।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।