মধ্যরাত : পর্ব-১০০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন), 

গত পর্বের পর : এতক্ষণ দম বন্ধ করে আমার বক্তবগুলো সকলেই গল্পের মত শুনে যাচ্ছিল। যদিও গল্প নয় সত্য, ইতিহাস কথা বলবে। অনেক বেলা হয়ে গেল। সেদিনের মত কমন রুম থেকে সকলেই বিদায় নিলাম। বাস ধরে বাসায় ফিরতে ৪টা বেজে গেল। এসে দেখি কচ তার বউ দিদি বেড়াতে এসেছে, কচ প্রনাম করল। আমি বললাম, সেকি হঠাৎ ফোন না করেই ? আমি এগিয়ে নিয়ে আসতাম। কচ বলল, আপনি ব্যস্ত মানুষ। বউদি বলল, চল আমরা ওদের না জানিয়ে গিয়ে একেবারে দোলাকে অবাক করে দিব। দোলাকে স্তম্ভিত করার জন্য আমাদের এই কলা কৌশল। আমি হেসে ফেললাম, ভারিত মজার লোক তোমরা। কচ বলল, দাদু মজা না করলে কোন কিছুই জমে না।
দোলা কিচেনে বসে দাঁড়িয়ে রান্না বান্না করছিল। বৌদি বলল, দোলা তোমার রাধতে হবে না। আমিই রান্না বান্না করব। তুমি পড়াশুনো কর। গল্প কর, যাও দাদুকে চা দাও। কচকে আমার ঘরে রেখে বউদিকে দোলার ঘরে বিছানা করে দিলাম। সেদিন ছিল শারদিয় পূর্ণিমা, সন্ধ্যা থেকেই আকাশ তারায় তারায় ভরে গেল। চাঁদের আলোয় মন্ট্রি শহর যে ¯œান করে উঠল। যদিও এসব ধনীদের দেশে চাদের আলোক অনুভব করা যায় না। এদের দেখলে মনে হয় এরা যেন প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে স্বীকার করতে গরমিল করে।
দোলা ও কচ বেলকুনিতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ পড়াশুনোর ব্যাপারে আলাপ আলোচনা করছিল। কচ বলল, চল দোলা এত চাঁদের আলোয় একটু বাহির থেকে ঘরে আসি। দোলা আমার কাছে এসে বলল, দাদু একটু বাইরে থেকে ঘুরে আসি। আমি বললাম, যাও। দোলা কচকে নিয়ে বেড়িয়ে গেল। চাঁদের আলোয় সারা পৃথিবী হাসছে, ওরাও আনন্দ করুক। তাছাড়া দোলা বড় হয়েছে, ভালমন্দ বুঝতে শিখেছে, ওর জীবনের সাথী নিজেই যাচাই করে নিক। কে ভাল হবে; শ্যামল না কচ। কচ অবশ্য খুব ভাল গান জানে, এদিক থেকে একটু উচুতে। কচও লেখা পড়ায় ভাল, শ্যামলও তাই। কিন্তু শ্যামল গান জানে না, শ্যামলকে আমার খুব ভাল লাগে।
শ্যামল গরীব, খুবই গরীব। তবে খুব ভদ্র, বিনয়ী, খুব উচ্চ অভিলাশী। ডোরাকে সেও ভালবাসে, সে ভালবাসা ¯িœগ্ধ গোলাপের মত কোমল মসৃণ। যুইয়ের মত মিষ্টি সুরভিতে ভরা। কচ ? কচ এর ভালবাসা বড় উগ্র, বড় মডার্ণ, বড় বাচালতা, বড় অনধিকার চর্চায় ভরা, তবে গাসে নে ওস্তাদ। পড়াশুনায় নাকি অনেক ষ্ট্যান্ড করা ছাত্র থেকে পি.এইচ.ডি পর্যন্ত এসে ঠেকেছে। লোককে এক মূহুর্তে আপন করে নিতে পারে। বৌদির আদরের ছোট দেবর। দোলা কিছুক্ষণ বাইরে থেকে তাড়াতাড়ি চলে এল। এসে বলল, দাদু কি রে ? তোমার সাথে কথা আছে। আমি বললাম ব্যাপার স্যাপার কি ? হঠাৎ দাদুর সাথে এত গোপন আলাপ ? এতদিন এসেছিস দাদুকেত তোর দরকার হয়নি। দোলা মুখ টিপে টিপে হাসছে। আমি বললাম, বল তোর কি অভিপ্রায়।

(চলবে—–)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।