প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আর পৌরসভার নেই কোন তৎপরতা

ভোলায় ছাড়পত্র বিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চলছে মাংস বিক্রি

ভোলায় ছাড়পত্র বিহীন বিক্রির উদ্দেশ্যে যত্রতত্র জবাই হচ্ছে গবাদি পশু। এসব পশুর মাংসের দোকান রয়েছে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। প্রাণিসম্পদ বিভাগে চিকিৎসকের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ছাড়পত্র ছাড়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসছে মাংসের দোকান। গ্রাম্য হাটবাজারে অবাধে গবাদি পশু জবাই করে মাংস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখাযায়, ফুটপাত এমনকি হাইওয়ে সড়কের পাসে বসেছে মাংশের দোকান। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দেদারসে চলছে মাংস বেচা-কেনা। ভোলা-বরিশাল এবং ভোলা-লক্ষ্মীপুর সড়কের মাঝখানে গড়ে উঠেছে মাংসের দোকান। তিন দিকে হাইওয়ে সড়কের যানবাহন চলাচলের উড়ন্ত ধুলোবালিতে আচ্ছাদিত অবস্থায় ঝুলানো রয়েছে গরুর মাংস। ভোলা সদর উপজেলার পরানগঞ্জ বাজার, জংশন বাজার, জনতা বাজার, ব্যাংকের হাট, ভেলুমিয়া বাজার সহ প্রায় সকল বাজারেই রয়েছে এমনটা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জবাই করা, বিক্রিকরা পশুর শরীরে কোনো রোগ-বালাই রয়েছে কিনা এমন কোনো ধারণাও রাখেন না ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবে কিছু বিক্রেতা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদারকি কামনা করেন।
একদিকে সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা, অন্যদিকে জনসচেতনতার অভাবে বিভিন্ন বাজারে চলছে পশু জবাইসহ মাংস ক্রয়-বিক্রয়। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ও পৌরসভার হলেও তাদের কোনো তৎপরতা নেই বলে দাবি করেন মাংস বিক্রেতারা। এতে রোগাক্রান্ত কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন সাধারণ ক্রেতারা।
জানা গেছে, শহরের পৌরসভা এলাকায় প্রতিদিন অন্তত ১০টি গরু এবং ২৫টি ছাগল ও ভেড়া জবাই করা হয়। তবে মাংসের দোকানিরা বলেন, শুক্রবার সরকারি ছুটিরদিন হওয়াতে এ দিনে ভোলায় গরু, ছাগল ও ভেড়া জবাই করা হয় বেশি। প্রতিটি গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্বে একজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও এই নিয়ম মানা হচ্ছে না।


জবাইকৃত পশু অসুস্থ নাকি সুস্থ ছিলো তা জানেন না মাংস ক্রেতারা। নিয়ম অনুযায়ী পশু জবাই করার আগে চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ছাড়পত্র এবং পশুর শরীরে সিল করে জবাই করার অনুমোদন দেবার আদেশ থাকলেও তা শুধু কাগজে। সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো ধরনের তদারকি না থাকায় লোকজন মারা যাওয়া পশুর মাংস, নাকি রোগাক্রান্ত গরু-মহিষ-ছাগল-ভেড়ার মাংস খাচ্ছে, তা বোঝার কোনো উপায় নেই।
পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার কোনো ছাড়পত্র আছে কি নেই, এমন প্রশ্নের জবাবে পরানগঞ্জ বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মোঃ মাইনুদ্দিন বলেন, আমরা সুস্থ-সবল-রোগমুক্ত ভালো গরু জবাই করি। তবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তদারকি করে ছাড়পত্র দিয়ে জবাই করার আদেশ দিলে সবচেয়ে ভালো হতো। ভালো হওয়ার কারণ ব্যাখা দিয়ে তিনি বলেন, এতে করে অবৈধভাবে চোরাই বা অসুস্থ পশুর মাংস বিক্রি বন্ধ হতো। তিনি আরো বলেন, অসাধু কিছু মাংস বিক্রেতা সুস্থ-অসুস্থ পশু মিলিয়ে কারচুপি করেন, তদারকি থাকলে এরকমটা করতে পারতেন না। তবে আমি নিজে যেই মাংস খাবোনা তা আমি অন্যকে বিক্রি করা বা খাওয়ানো ঠিক নয় বলে মনে করছি।
একই বাজারের আঃ রব কসাই বলেন, আমরা সুস্থ-সবল-রোগমুক্ত পশু জবাই করি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা নিরিক্ষা করে ছাড়পত্র দিলে ভালোই হতো। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের লোকের তদারকি নেই। এমনকি কেউ আসেনা বলেই আমরাও ছাড়পত্র প্রয়োজন মনে করছি না।
ভোলার  স্যানিটারি ইন্সপেক্টর বলেন, মাঝে মধ্যে বাজার তদারকি করে থাকি। গবাদি পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কাজ। এ ব্যাপারে মাংস বিক্রেতাদের আমরা শুধু বোঝাতে পারি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ ইন্দ্রজিৎ মন্ডল বলেন, প্রতিদিন বাজারে গিয়ে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মতো জনবল আমাদের নেই। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা ও ছাড়পত্র দেওয়া স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব, তবে ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের উপসহকারী রয়েছেন তারা মনিটরিং করে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরিক্ষা করা হয়না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভোলাতে পৌর এরিয়ায় ৭ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি স্বাস্থ্য সম্মত আধুনিক কসাইখানা স্থাপন করার পরিকল্পনা ছিলো, জায়গা না পাওয়ার কারণে করা সম্ভব হয়নি। তবে দেশে মোট ১৮টি আধুনিক কসাইখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। তার মধ্যে বরিশাল বিভাগের বরিশাল ও বরগুনায় নির্মিত হচ্ছে আধুনিক কসাইখানা।
এ বিষয়ে ভোলা স্যানেটারী ইন্সপেক্টর মোঃ ফারুক এর মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।