মধ্যরাত : পর্ব-৯০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

 (গত পর্বের পর) : আমি বললাম, না-ওে কেউনা, কিছুনা, এমনিই বললাম। আমি ভাত খাচ্ছিলাম আর ডোরার কথা আমার বার বার মনে হচ্ছিল। ও কেন আমার কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। কেন আমার স্মৃতি ও মন থেকে মুছে ফেলতে চাইছে। কেন ও আমা হতে দূরে থাকতে চেষ্টা করে। ডোরা টরেন্টোতে আমাকে ফোনে ডাকলে আমি ভার্জিনিয়ায় একবার নামতাম। অথচ ফোনে আমাকে ডাকল না। ছুটি কাটিয়ে এসে মন্ট্রিলে ফিরে ওর চিঠি পেলাম। ওকি আমার সান্নিধ্যকে ভয় পায় ? কেন ? কেন ? কেন ?
এমন ভয় পাওয়ার তেমন কিছুই করিনি। তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে বিছানায় কাগজটা হাতে নিয়ে পড়ার ভান করলাম। দোলা গুন গুন করে গান গাচ্ছে, আমরা দু’জন স্বর্গ খেলনা। এ গানটা রবিঠাকুরের। আমিও ঘুমিয়ে পরলাম। দিন যায়, রাত আসে কলেজ খোলার সময় হয়ে আসছে। দীর্ঘ মাসগুলো আমি কাটিয়ে দিলাম অথচ ডোরার সান্নিধ্য থেকে কত দূরে থেকে ডোরা আমাকে ডাকল না। আর আমিও অভিমান করে গেলাম না। ভালবাসার লোকের কাছে অভিমান করতে ভাল লাগে। আজ আমার অনুতাপ হয়ে কেন, ডোরার কাছ থেকে আমিও দূরে থাকলাম। কেন অনাধিকার চর্চা প্রকাশ করলাম না।
কলেজ খুলে গেল, রোজই সকালে কলেজে যাই (ইউনির্ভার্সিটি) সেই ঘানি টানার মত কমন রুমে আমাকে নিয়ে বন্ধুদের বিরাট প্রেমের অগুনতি গভীরতার মুখ রোচক আলাপ হয়। অথচ আমি কিন্তু এর থেকে বর্তমানে অনেক অনেক দূরে। সেদিন আমার এক বন্ধু বলল, তা প্রশান্ত বাবু আপনি এবার ছুটিটা কেমন এনজয় করলেন ? মিসত পাশে ছিল নিশ্চয় ? মায়ামি কেমন লাগল, নিবিড় প্রেমের সান্নিধ্যতে। আমি হেসে উঠলাম, যার বিয়ে তার খোঁজ নেই, পাড়া পড়শির ঘুম নেই। কেন কেন ? ভবতোষ বলল। আমি বললাম, মিস এর সাথে আমার দেখাই হয়নি। সত্যি ? হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ, তিন সত্যি। অমিয় বলল, আরে প্রশান্ত বাবু, আমাদের একটু বললে কি দোষ হয়। আমাদের বিয়ে সাদী হয়ে বাচ্চা-কাচ্চা হয়ে জীবনটা এক ঘেয়ে হয়ে চলছে। আপনি বিয়ে না করে রোমাঞ্চ করে চলছেন। ত একটু মজার মজার গল্প আমাদের একটু অনুভব করতে দেন না।
বন্ধুরা বস বলে উঠল, চলনা এবার বড়দিনের ছুটিতে আমরা মিস ডোরার ওখান থেকে ঘুরে আসি। মিস ডোরাত আমাদের ইনভাইট করেছিল। ওনার ওখানে যাওয়ার জন্য, প্রশান্ত বাবু চলুন এবার আমরা ভার্জিনিয়ায় ঘুরে আসব। সবাই হৈ হুল্লোর করে উঠল, বেশ মজা হবে, বেশ মজা হবে। অলক বলল, বেচারা বউরা কি দোষ করল। ওদের সাথে না নিলেত আসল মজাই থেকে যাবে। সুশীল বলল, আমরা সকলেই মোটেলে থাকব, বউরা রান্না করবে। অমিয় বলল, বাড়ীতে সবাই রান্না করে, ছেলে-মেয়ে হৈ চৈ করে, সময়ই পায়না। বেড়াতে নিয়ে যাব তাও আমার রান্না, তাহলেত বেচারাদের আমরা একটু ফুর্তি করার সময় দিতে চাই না। ঠিক হল ডালে চালে খিচুরী, ডিম ভাজা। অমিয় বলল, এবার মেয়েরা রান্না করবেনা, এবার আমরা সব করব। ওরা এবার ভার্জিনিয়ায় যেয়ে বেড়াবে খাবে।

(চলবে——)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।