তেলের দাম বৃদ্ধিতে দিশেহারা ভোলার নিন্মমধ্যবিত্ত মানুষ

জ্বালানি তেলের মূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারনে ভোলায় নিন্ম মধ্যবিত্ত মানুষে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। আয়ের সাথে ব্যায়ের কোন মিল নেই। ক্ষুদ্র ও মাঝারি মানের ব্যাবসায়িরা ভুগছেন পূঁজি সংকটে। এই তালিকায় সবার উপরে জ্বালানি ব্যাবসায়িরা। মহাবিপাকে আছেন মৎস ও কৃষক পরিবারগুলো। সিমিত আকারে চলছে মটরযান। অতিপ্রয়োজন ছাড়া কেউ এখন আর জ্বালানি তেল ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছেননা। দাম বৃদ্ধির পূর্বে ভোলায় গড়ে প্রতিদিন ১ লাখ ৫০ হাজার লিটারের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে দাম বৃদ্ধির ফলে এর চাহিদা এসে দাড়ায় ৫০ হাজার লিটারে। অসাধু তেল মজুদদারদের কারসাজিতে ভোলায় জালানি তেল সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশ’র নিচে নেমে এসেছে। এর প্রতিবাদে ভোলায় রাস্তায় নেমে এসেছেন সাধারণ মানুষ। তারা জ্বালানি তেলের বেপরোয়া দাম বৃদ্ধির কারনে প্রতিনিয়ত সরকারের সমালোচনা করছেন।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, জ্বলানি তেলের মুল্যে বৃদ্ধির ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ভোলার নিন্ম মধ্যবিত্ত মানুষের মনে। নিত্যপণ্যর দাম আকাশ চুম্বি প্রায়। ডিজেলের বাড়তি দামের সাথে আমদানি রপ্তানিতে সমন্বয় না থাকায় ভোলায় অনেক ব্যাবসায়ি বড় অংকের লোকসানের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেক ক্ষুদ্র ব্যাবসায়ি ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। আয়ের সাথে ব্যায়ের সমন্বয় না থাকায় নিন্ম মধ্যবিত্তরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
পর্যাপ্ত চাহিদা না থাকায় লরি মালিকরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। মের্সাস নিশাত এন্টার প্রাইজের মালিক মোঃ ইসমাইল মিয়া বলেন, ৭ লাখ টাকায় গাড়ি লোড করতে পারতাম এখন সেই গাড়ি লোড করতে ১১ লাখ টাকা লাগে। পূঁজি বেড়ে গেলেও লাভের মার্জিন অনেক কমে গেছে। আগে সপ্তায় আমার ৪০ হাজার লিটারের চাহিদা ছিল এখন সপ্তাহ পেড়িয়ে গেলেও ১ লিটার তেলের অর্ডার পাইনি। গাড়ির খরচ আর ষ্টাফদের বেতন কোথা থেকে দেব এই চিন্তায় আছি। এই অবস্থার পরিবর্তন না হলে ভাবছি পেশা পরিবর্তন করবো।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তেলের দাম এক লাফে বাড়িয়ে সরকার আমাদের সাথে তামাশা করলো। গতবছর এক ব্যারেল তেল কিনতাম ১২ হাজার টাকায় এখন সেই তেলই কিনতে হয় ২৩ হাজার টাকায়। ব্যাবসার মূলধন শতভাগ বাড়লেও লাভের অংশ অর্ধেকের নিচে নেমে আসলো। তখন ৬০ হাজার টাকার পূঁজিতে স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাতে পারতাম আর এখন সোয়া লাখ টাকার পূঁজি খাটিয়ে বাসায় চাল কিনেও নিয়ে যেতে পারিনা।
কথা হয় জ্বালানি তেল সরবরাহকারি প্রতিষ্ঠান জেলা ট্যাংক লড়ি মালিক সমিতির সভাপতি মো. রুহুল আমিনের সাথে। তিনি ভোলার বাণীকে জানান, আমরা সরকারের ঘোষিত বাজার মূল্যে তেল সরবরাহ করে যাচ্ছি। কিন্তু অসাধু মজুদদারদের কারনে আমাদের সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশের নিচে নেমে এসেছে। বর্তমানে ভোলায় দৈনিক গড়ে ৫০ হাজার লিটার জালানি তেলের চাহিদা রয়েছে। অথচ দাম বৃদ্ধির আগেও গড়ে দের লাখ লিটার তেলের চাহিদা ছিল। অবৈধ মজুদদারদের মুজুদদারি কমলে আশা করা যায় তেলের চাহিদা পূর্বের ন্যায় ফিরে আসবে।
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে জেলা বাস মালিক সমিতির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। মালিক পক্ষ বলছেন সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেয়া হয়না। আর সাধারণ যাত্রিরা বলছেন সরকারের নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বহুগুন ভাড়া আদায় করছেন মালিকরা।
ভোলার মৎস চাষি মো. মোশারেফ হোসেন ও পোল্ট্রি ব্যাবসায়ি আব্দুর রহমান বলেন, জ্বালানি তেলের প্রভাবে মাছ ও পোল্ট্রি উৎপাদনে খরচ বেড়ে গেছে। প্রতি বস্তা খাদ্য ৩’শত থেকে ৫’শত টাকা বেড়ে গেছে। জানিনা কি ভাবে সামনের দিন গুলো চলবে।
জেলা মৎস কর্মকর্তা বি এম মোস্তফা কামাল বলেন, জ্বালানি তেলের প্রভাবে খাদ্যর দাম বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে সেই ক্ষেত্রে ন্যায্য দাম পেলে চাষিরা লাভবান হতে পারবে। তাছাড়া তেলের দামের প্রভাব নদীতে তেমন একটা পড়ে নাই।
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে ভোলার কৃষকরাও আছেন বিপাকে। সারের দাম বাড়ছে। উৎপাদনের চেয়ে খরচ বেশি হওয়ায় এবারের লক্ষমাত্রা ব্যহত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। এই বিষয়ে সদর উপজেলার কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর কারনে ডিলাররা সারের দাম বাড়ায়া দিছে। প্রতিবস্তা সার উচ্চ মুল্যে কিনতে হচ্ছে। ভাবছি এবার বাণিজ্যিক ভাবে ফসল উৎপাদন ছেড়ে দিয়ে শুধুমাত্র নিজের খোড়াকির ফসলের জন্য ফলনে কাজ করবো।
জেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হাসান ওয়ারিসুল কবির বলেন, জ্বালানি তেলের প্রভাবে কৃষিতে লক্ষ্যমাত্রা স্বাভাবিক থাকবে আশা করছি। উৎপাদনে কোন সমস্যা হবেনা। ভোলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাহমুদুল হাসান জানান, প্রতিদিন বাজার মনিটরিং চলছে কোথাও কোন ধরনের অনিয়ম করা হলে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।