এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে: মেজর হাফিজ
দৌলতখানে লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধিতে যাত্রীদের চাপ নেই ঘাটে, ফাঁকা যাচ্ছে কেবিন

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পরপরই বেড়েছে লঞ্চের ভাড়া। হঠাৎ করে লঞ্চের ভাড়া ৩০ ভাগ বাড়ানোর কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন ভোলার দৌলতখানের লঞ্চে চলাচলকারি সাধারণ যাত্রীরা। দৌলতখানের ঐতিহ্যবাহী বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ঢাকা ও নোয়াখালিসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। কিন্তু আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন এ রুটে চলাচলকারি ওই সব যাত্রীরা। কমে গেছে যাত্রীর সংখ্যাও। বেশিরভাগ লঞ্চের কেবিনও ফাঁকা যাচ্ছে।
দৌলতখান বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট গিয়ে দেখা যায়, লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ঘাটে যাত্রীদের চাপ নেই। এ ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী ঢাকা ও নোয়াখালিসহ বিভিন্ন রুটে চলাচল করে কিন্তু আকস্মিক ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এখন দৈনিক ৩০০ থেকে ৪০০ যাত্রী এ রুটে চলাচল করে। এতে যাত্রীসহ ঘাট ইজারাদার পড়ছেন বিপাকে।
জানা গেছে, প্রতিদিন দৌলতখান-ঢাকা রুটে বিলাসবহুল লঞ্চ চলাচল করে ৬টি, দৌলতখান-নোয়াখালি রুটে ১টি চলাচল করে। ওইসব লঞ্চগুলোতে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করতো। কিন্তু ভাড়া বৃদ্ধির কারণে এ রুটে কমতে বসেছে যাত্রীর সংখ্যাও। আবার যারা চলাচল করছেন তাদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে অসন্তেষ।
ফারহান ৪ লঞ্চের সবুজ নামে এক যাত্রী জানান, আমি ডাক্তার দেখাতে ঢাকা যাবো। লঞ্চ ভাড়া বাড়ছে আমি জানিনা। কিন্তু ঘাটে এসে শুনি লঞ্চের ভাড়া বাড়ছে। বাড়ি থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে আসি নাই। এখন কি চিকিৎসা করাবো। না লঞ্চ ভাড়া দিবো। একটা সিঙ্গেল কেবিনের দাম ২হাজার টাকার বেশি। চিকিৎসা করাবো, না ঢাকা যাবো। এ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় আছেন। তবে দেশের সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে সরকারের সকল পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

জাবের হাছনাইন নামে তাসরিফ-২ লঞ্চের এক যাত্রী জানান, জরুরি কাজে ঢাকা যেতে হচ্ছে। লঞ্চে এসে দেখি ভাড়া বেশি। সরকারের কাছে অনুরোধ আমাদের সাধরণ মানুষের কথা চিন্তা করে যেন ভাড়া না বাড়ানো হয়। কারণ লঞ্চে নিরাপদ বাহন হিসেবে আমরা বেশি যাতায়াত করি।
ফারহান-৪ লঞ্চের সুপারভাইজার জহিরুল ইসলাম বলেন, লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধির পরপরই এ রুটে যাত্রীদের চাপ নেই। আজ দুই দিন ধরে যাত্রী সংকট চলছে। আমাদের সিঙ্গেল কেবিন ও ডাবল কেবিন খালি যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, লঞ্চ ভাড়া বৃদ্ধি না করে মালিকদের অন্য কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু এই ভাড়া বৃদ্ধির ফলে যাত্রী সংখ্যা কমে গেছে অনেক। তাই ভাড়া বাড়িয়েও লোকসান গুনতে হচ্ছে।
দৌলতখান বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল লঞ্চঘাট ইজারাদার মাকছুদুর রহমান বাহার বলেন, হঠাৎ করে আকস্মিক ভাকে ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ঘাটে যাত্রীদের চাপ কমে গেছে। এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়েছি। তিনিও সরকারের কাছে ভাড়া কমনোর দাবি জানান।
ভোলা বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদাই করলে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ভাড়া কমানোর কোন এখতিয়ার নেই আমাদের।
