সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : ৮৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : কব বলল, জানিস কুসুম, দোলারা কিন্তু মন্ট্রিলে শীঘগির চলে যাবে। প্রশান্ত দা বললেন। কুসুম বলল, সেত যাবে জানিই, একয়দিন যা হৈ- চৈ করে কাটান হল তা অনেক দিন মনে থাকবে। আকাশ বলল সত্যি, খুব ভাল লাগল, ওনারা থাকাতে। আবার আমাকে ভার্জিনিয়ায় গিয়ে চুপচাপ কাটাতে হবে। আকাশ বলল, কুসুম তুমি কিন্তু বেশী দিন এখানে থেকনা। আমি ভার্জিনিয়ায় গিয়ে এপার্টমেন্ট ঠিক রলেই তুমি চলে এসো। কুসুম বলল, বড়দার কাছে কয়েকদিন থেকে চলে আসব। তুমি গিয়ে সব ঠিকঠাক কর। এইত বলতে বলতে দিন চলে যাবে। আকাশ বলল, তোমারত এখানে বড়দা বৗদি কচ সব আছে, আমার ওখানে কেউ নেই। কিন্তু নেই বৌদি ফোড়ন কেটে বললেন, নিয়ে গেলেইত হয়। বা-বা একয়দিনই এত ? কুসুম বলল, বৌদি কিযে বল ? বৌদি বলল, কুসুম রাগ করেছিস ? ঠাট্টা কলামরে। কুসুম হেসে বলল না বৌদি রাগ করিনি লজ্জ্বা পাই। গল্প করতে করতে অনেক রাত হল। প্রশান্ত বলল উমা, অনেক রাত হল। উমা বলল, তাইত এই দোলা চলনা রাত অনেক হল। কচ বলল, রাত হল, মোটে ১১টা-এ। এটা রাত নাকি ? এই টরেন্টোতে গল্প করতে করতে রাত ৩-৪টা বেজে যায়।
উমা বলল, তা ভাই তোমার যদি এত গল্প করার সখ হয়ে থাকে তবে যেও, আমার বাসায় অনেক গল্প করতে পারবে। আর দোলাত চলে যাচ্ছে শীঘগির। কচ চুপ করে থাকল। কি আর বলবে, দোলাও কিছু বললনা। দোলার কথায় যেন একটা ছন্দপতন হয়েছে। আমি বুছতে পারছি, দোলা আমাকে না বললেও আমি সব বুঝি ভালবাসা মানুষের ধর্ম। দোলার মত বয়সের প্রেম বড় গভীর। আর কচ এত মত এত সুচেহারার ছেলেকে ভাল না বেসে পারা যায় না। সুশান্ত আবার তারা দিতে লাগল। উমা তোমরা চল, খুবত খানাপিনা হল, গান হল। তোমাদের কোনটা বাকী আছে ? উমা বলল, আমরাত যাবার জন্য তৈরী হয়ে আছি চল চল। দোলাকে কে যেন জোর করে এখান থেকে নিয়ে যাচ্ছে। আমি কয়েক বার ওর মুখের পানে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলাম। দোলা যেন এখানেই থাকতে চায়। ওর মুখের স্বচ্ছল সহজ ভাব কে যেন কেঁেড় নিয়েছে। ওর মনের সেই অফুরতœ চঞ্চলতা কোথায় যেন হারিয়ে গেল।
আমি জানতাম দোলাকে বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। কিন্তু এত তাড়াতাড়ি কচের মনের অরণ্যে ও হারিয়ে যাবে, যা আমার চিন্তার অতীত ছিল। আমরা বাসায় এলাম, কচ অনেক দূর পর্যন্ত আমাদের বাসা পর্যন্ত এগিয়ে দিল। তারপর দিন সুশান্তকে বললাম, সুশান্ত আমি কালই মন্ট্রিলে যেতে চাই। সুশান্ত বলল, সেকিরে; এত তাড়াতাড়ি যাবি ? আমি বললাম অনেক দিন হলত। অনেকদিন কোথায় ? এইত অল্প ক’দিন মাত্র। বললাম, আর ভালো লাগছেনা। সুশান্ত বলল, আর দ’দিন থেকে যানা ? উমা বলল, সত্যি একয়দিন যা ভাল লাগছে। আপনারা গেলেত আমার দিন কাটান মুষ্কিল হয়ে দাঁড়াবে। আর দোলার সন্নিধ্য আমাকে আমার জীবনের একাকী থেকে অনেক সাহায্য করেছে। ও এখানে আসার পর থেকে আমি যেন আনন্দেও সাগরে ডুবে আছি। আপনাদের যাওয়ার কথা শুনলে আমার ম চমকে উঠে। মনে হয় দোলাকে আমার কাছে রেখে দেই।

 

(চলবে———-)।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।