অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে প্রবাসীর নেশা

মানবসেবা, বা সৃষ্টিসেবা সবসময় মানুষের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করছে এমন মানুষ খুঁজলে হয়তো খুবই কম পাওয়া যাবে। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রবাসে ব্যবসা তার পেশা হলেও পাশাপাশি অসহায় দরিদ্র, অবহেলিত, শিক্ষা বঞ্চিত শিশু কিশোর, অসুস্থ্য চিকিৎসাহীন, বাস্তহারা ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার নেশা হয়ে দাড়িয়েছে।সকলের প্রতি অগাদ ভালোবাসায় জড়িয়ে যান নিজ এলাকা সহ দেশের অনেক অসহায় মানুষদের সঙ্গে। এদেশে হাজারো কোটি টাকার মালিক থাকলেও গরীবকে ভালোবেসে বুকে টেনে নেওয়া বা সহযোগীতা করার মতো মানুষ কিন্তু হাতে গোনা। আর সেই সব হাতে গোনা মানুষের মধ্যে তিনিও একজন আলোকিত মানুষ আবুল কাশেম মিয়া।

আমি বলছি দ্বীপ জেলা ভোলা সদর উপজেলার উত্তরদিঘলদীর ইউনিয়নের কৃতি সন্তান সৌদিআরব প্রবাসী আবুল কাশেম মিয়ার কথা। যিনি দীর্ঘ বছর ধরে প্রবাসে বসবাস করছেন। প্রবাসে হার ভাঙ্গা উপার্জিত অর্থ ব্যয় করছেন নিজ জন্মস্থান এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামের দুস্থ অসহায় মানুষদের জন্য। জাতিগোষ্ঠী কিংবা দলমত নয় দুস্থ অসহায়, গরীব মানুষের সহযোগীতা চেয়েছে বা কষ্টে আছে এমন দৃশ্য নজরে পড়লেই নিজের সামর্থ্য অনুযারী দান করবেন রেমিট্যান্স যোদ্ধা আবুল কাশেম মিয়া।

আবুল কাশেম মিয়ার স্ত্রী একজন ব্যাংককার হলেও তিনি একজন দানশীল ব্যক্তি, স্বামী স্ত্রী দুইজনই তৃপ্তি পায় সমাজের দুস্থ অসহায় মানুষের মুখে হাঁসি ফুটিয়ে।

নিজ এলাকা উত্তরদিঘলদী নয় শুধু ভোলা সদরের পশ্চিম ইলিশা,পূর্ব ইলিশা, রাজাপুর ও ধনিয়া দক্ষিনদিঘলীসহ বেশ কিছু এলাকার দুস্থ অসহায় এবং চিকিৎসাহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক অন্যদৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন আবুল কাশেম।

মানুষ কে খুশি করার জন্য নয় আল্লাহ কে সন্তুষ্ট করাই কাশেম মিয়ার মুললক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। প্রচার প্রসারে তার রয়েছে নিষেধাজ্ঞা এদিকে তার দানশীলতা দেখলে হইতো অন্য প্রবাসী বা বিত্তশালীরা এগিয়ে আসতে পারে অসহায়দের জন্য তার জন্যই তার ইচ্ছার বাহিরে শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

চিকিৎসা হচ্ছে না টাকার অভাবে, বাবাহীন মেয়ের বিবাহ হচ্ছে না আবার টাকার জন্য ফরমপুরণ করতে পারছে না এমন শত শত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নজির তৈরি করেছেন সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেম।

উত্তরদিঘলদী সন্তান সংবাদকর্মী মাঞ্জুরুল ইসলাম কামরুল বলেন, উত্তরদিঘলদীতে কাশেম ভাইয়ের মত আর একজন দানশীল মানুষ থাকলে এই এলাকায় কোন দুস্থ অসহায় মানুষরা কষ্টে থাকতো না, একজন আবুল কাশেম প্রতিটা গ্রামে গ্রামে জন্ম হওয়া উচিত।

রাজাপুরের সফিক খান বলেন, আমাদের রাজাপুরে অসংখ্য মানুষ কে সহযোগিতা করেছেন কাশেম ভাই, তার টাকায় অনেকের চিকিৎসা হয়েছে, অনেকের মেয়ের বিবাহ হইছে, অনেক গরীব ছাত্র ফরমপূরণ করেছে।

দক্ষিণ দিঘলদীর শিক্ষক ও সংবাদকর্মী এরশাদ বলেন, কাশেম ভাই এক উদার মনের মানুষ, প্রবাসীরা নাকি টাকা খরচ করে কম কিন্তু কাশেম ভাই ব্যতিক্রম, গত পরশুদিন ও আমাদের এলাকায় এক ক্যান্সারে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছে। এমন অসংখ্য প্রমাণ আছে।

ভোলার এক কলেজ শিক্ষক বলেন, এই মানুষটির অবদান শুনে অবাক হয়েছি। সবার উচিত এমন মানুষকে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করে দেওয়া।’

দৈনিক ভোলার বাণীর সম্পাদক মাকছুদুর রহমান জানান, প্রত্যেক এলাকায় এমন দানশীল ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি থাকলে দেশের চেহারা পাল্টে যেত।

ভালো থাকুক কাশেম ভাই, ভালো থাকুক তার পরিবারবর্গ।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।