চরফ্যাশনে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, দুর্ভোগে ৩০ হাজার মানুষ
ছবি: সংগৃহীত।

ভোলার চরফ্যাশনে পূর্ণিমার প্রভাবে নদ-নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে তিন-চার ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে উপজেলার নিম্মাঞ্চলের ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছে ।
জানা গেছে, জোয়ারের ঢেউয়ের ঝাপটায় চরমানিকা ইউনিয়নের চর কচ্ছপিয়া, চর ফারুকী, চর লক্ষিসহ বেড়িবাধেঁর বাহিরের বেশ কিছু এলাকার সড়ক নষ্ট হয়ে গেছে। জোয়ারের কোমরপানিতে ডুবে রয়েছে ঢালচর, চরপাতিলা, চরনিজাম, চরমাদ্রাজ, হাজারীগঞ্জ, জাহানপুর, মুজিবনগর, নজরুল নগর, চরমানিকা, রসুলপুর, এওয়াজপুর ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল এলাকা। দিনে-রাতে দুবার জোয়ারের পানি প্লাবিত হওয়ায় বেড়ির বাইরে থাকা পরিবারগুলো রান্নাবান্না করতে কষ্ট হয়। এসব পরিবারগুলো মানবেতর জীবনযাপন করছে।
চর মানিকা ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বাহিরের মো. জাকির হোসেন, সিদ্দিক ও কবির বলেন, গত দু- দিন ধরে জোয়ারের পানিতে বসতঘর ডুবে রয়েছে। শিশুসহ গবাদিপশু নিয়ে খুব বিপদে রয়েছি। গরু, ছাগল কোনো মতে ঘরের মধ্যে বেঁধে রেখেছি। আবার অনেকের হাঁস, মুরগি, পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। দিনের তুলনায় রাতে জোয়ারের পানি বেড়ে যায়। এতে পরিবার নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। জোয়ারের পানি বেড়ে রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। পানির কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের এখানে বেড়িবাঁধ না থাকায় নদীর পানি খুব দ্রুত প্রবেশ করে এসব এলাকায়, বেড়িবাধ নির্মাণের দাবি জানান তারা।
চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ড (ডিভিশন-২) নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ জানান, বেড়িবাঁধের বাহিরে পানি প্রবেশ করলে আমাদের কোনো ধরনের ভূমিকা নাই,তবে বেড়িবাঁধের ভিতরে পানি প্রবেশ করলে দেখবাল করা হবে বলে জানান।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল নোমান রাহুল বলেন, মূলত পূর্ণিমার কারণেই নদীর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চলসহ নদীসংলগ্ন এলাকাগুলোর খোঁজখবর নিয়ে তালিকা করা হবে এবং যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষী পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত আছি।
