মধ্যরাত : পর্ব-৭৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : আমি ভদ্র লোকের মুখের পানে চেয়ে চেয়ে মুচকি মুচকি হাসছিলাম। ভদ্রলোক বলল, হাসছেন যে বড় ? আরে ভাই বোনকে বিয়ে দিয়ে আজ আমার ঘরের আনন্দ সুখ সব গেল। কচ সেই যে বিছানা নিয়েছে বুঝলেন এখন পর্যন্ত দানাপানি খায়নি। দুজনে পিঠাপিঠি ছিল। কচ যে কুসুমকে এত ভালবাসত আমি বুঝিনি, এখন দেখছি ওর সমস্ত পৃথিবী অন্ধকার। কুসুম ছাড়া ও কিছুই বোঝেনা। তাছাড়া সেদিন কুসুমকে আমি দেখতে গিয়েছিলাম, ও ভাল আছে। আকাশ খুব শিগগির ভার্জিনিয়ায় চলে যাচ্ছে, কুসুমের শ্বাশুরি বলল, ওকে কয়দিন পর নিয়ে যান। এখন কুসুম কদিন আমার কাছে, ভাই বৌদির কাছে বেড়িয়ে যাক।
আমি বললাম আকাশ ? কুসুমের দাদা হেসে ফেলল, ও কুসুমের স্বামীর নাম। আমি বললাম, খুব সুন্দর নাম দুটো মানিয়েছে-ত। আকাশ-কুসুম। কুসুমের দাদা বলল, ভবিতব্যের আদেশ। কচ যাবে আকাশ আর কুসুমকে নিয়ে আসতে, কচ কে আমি বুঝিয়ে ঠিক করতে পারছিনে যে। বোন থাকলে সে বড় হলে ভাইর কর্তব্য তাকে ভাল ঘর, ভাল বর দেখে বাবা-মা বা বড় ভাইর কর্তব্য বিয়ে দিয়ে স্বামীর ঘরে পাঠান। সেদিন সুশান্ত বাবুর বৌ এসে যা উপকারই করল। তা আর বলাল মত না। না হলে-ত কচ উপোস হয়ে পরেছিল। মা-বাবা নেই, এই দুটো ভাই বোন নিয়ে আমি বড় মাঝে মাঝে বে কায়দায় পরে যাই।
অনেকক্ষণ পর্যন্ত ভদ্রলোকের মনের আকুতি আমি শুনলাম। আমিও নিজে একজন বাবা-মা হারা ভালবাসার কাঙ্গাল। চা নাস্তা খেয়ে কুসুমের বাড়ী থেকে বিদায় নিয়ে সুশান্তর বাসায় এলাম। দোলা বলল, দাদু তুমি কোথায় গিয়েছিলে ? বললাম, রাস্তায় বেড়ালাম আর কুসুমের দাদার সাথে দেখা হলো, ওনি বাসায় নিয়ে গেল। দাদু কুসুম আসবে ? কেন ? আমি গল্প করতে পারব। আমি বললাম, কুসুমকে তোমার ভাল লাগে ? দোলা মাথা দোলাল। আমি বললাম, কুসুমত ওর স্বামীর সাথে ভার্জিনিয়ায় যাবে। মাত্র সপ্তাহ খানেক থাকবে। আর আমরাত শীঘ্রই এখান থেকে চলে যাব। দোলা কিছু বললনা, চুপ করে শুনল। তারপর বলল, দাদু এখনও দু’মাস ছুটি আছে। আর একমাস থেকে গেলে ভাল লাগত। আমি বললাম তুমি যদি থাকতে চাও থাকব, আমার ত কাজ কাম নেই। সুশান্তর এখানে বসে বসে খাচ্ছি, উমার কষ্ট হচ্ছে।
উমা বলল, প্রশান্ত দা আপনি কিযে বলেন। আমার কি যে ভাল লাগে বিশেষ করে দোলার জন্য। আমার যেন ছোট বোনের মত, কাছে কাছে ঘোরে। আপনারা চলে গেলে আমার কি যে খারাপ লাগবে। এখনও দু’মাস ইউনিভার্সিটি বন্ধ। না হয় আরও মাস খানেক থাকেন। আমি এ কয়দিন ভুলে গেছি। আমি একা। আপনার বন্ধু ও কি যে খুশী আপনারা আসতে। সব সময়ে যেন মুখে খুশীর বান লেগেই আছে। আজ আমাদের কেউ নেই। আপন বলেন, পর বলেন আপনারাই। উমার দুচোখ জলে ভলে গেল। আমি বললাম, উমা তুমি আমাদের দাদু নাতনীর ভিতর এলে কেন ? আমি এমনিতে দোলার মনের ভাব জানতে চেয়েছিলাম। দোলা মুখ টিপে হেসে চলে গেল। উমা বলল, প্রশান্ত দা একদিন চলুন না সকলে মিলে পিকনিকে যাই। বললাম, দেখ সুশান্ত কি বলে কখন ওর সময় হবে।
(চলবে———–)
