সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-৭৫

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

 (গত পর্বের পর) : বৌদি এতদিন মায়ের স্নেহে কুসুমকে মায়া-মমতা, শত আবদার দিয়ে তিলে তিলে ওকে ঘিরে রেখেছিল। আজ কুসুমকে বিদায় দিতে তার স্নেহ  প্রবণ মনে ভীষণ লাগছে। তবু যেতে দিতে হবে, এক হাতে কুসুমের হাত, আর এক হাতে বরের হাত ধরে বললেন, ভাই যতেœ রেখ, ভগবান সাক্ষী করে তোমাকে দিলেম। কুসুম চলে গেল। অনেক এর মনের কুসুম আকাতরে ম্লান হয়ে ঝিমিয়ে পরল। কচ বিছানা নিল। বড়দা অফিসে গেল। বৌদি খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে কুসুমের ঘরে কুসুমের বই-কলম নেড়ে চেড়ে দেখে হা-হুতাস করে দিন গুনছে কবে কোনদিন আবার কুসুম এ বাড়ীতে আসবে।
দোলা সেদিনের মত কুসুমের বাড়ী থেকে এসে, আর কয়েকদিন ওদের বাড়ী যায়নি। প্রশান্ত সুশান্ত উমা টরেন্টোর প্রসিদ্ধ জায়গাগুলি ঘুরে ঘুরে দেখছিল। দোলার মনটাও তেমন ভাল ছিলনা। কুসুমের কান্না-কাটি, কচ এর ফুলে ফুলে কাঁদা, ওকে বড় বিচলিত করে তুলছিল। টরেন্টো প্রকান্ড শহর মন্ট্রিলের চেয়ে অনেক বড়। অনেক ঝাক-ঝমক, অনেক শাড়ীর দোকান, সুশান্ত উমা দোলাকে শাড়ীর দোকানে নিয়ে গেল।
দোলা কিছুতেই শাড়ী নেবেনা। উমাও পছন্দ করে দোলাকে দুটো শাড়ী উপহার দিল। দোলা লজ্জায় নিতে সংকোচ বোধ করছে। তবু নিতে হবে, না হলে উমাদি মনে কষ্ট পাবে। লাইন লাইন ধরে শাড়ীর দোকান। কোনটা ছেড়ে কোনটা দেখবে ঠিক পাচ্ছেনা। সেদিন সকালে কুসুমের বৌদি এসে বলল জানেন দিদি, কুসুম চলে যাওয়ার পর কচ আর উঠেনা, খায়না, ইউনিভার্সিটিও যায় না, কেন ? উমা বলল, বৌদি বলল, বলে কুসুম এলে পর খাওয়া-দাওয়া করবে। কিযে——করব, কচকে নিয়ে। এত পড়াশুনোয় ভাল ইউনিভার্সিটি এত কামাই করলে পরীক্ষায় রেজাল্ট-ত ভীষণ খারাপ হবে। উমা বলল, কুসুম কবে আসবে ? বৌদি বলল, দিন দশেক পর। জামাই ওকে এখানে রেখে ভার্জিনিয়ায় যাবে। উমা বলল, সেকি এতদিন না খেয়ে থাকলে অসুস্থ হয়ে পরবে। বৌদি বলল, আমি কিযে বলব, ওর দাদার কথাও শুনেনা, আপনি একটু চলুন না ?
উমা বলল, আমার কথাকি কচ শুনবে ? আচ্ছঅ দোলাকে নিয়ে যাই একটু সুপারিশ করার জন্য। দোলা হেসে উঠল, উমাদি তুমি কি যে বল ? আমার কথাকি কচ শুনবে। উমাদি হেসে বলল, কে জানে দেবযানির কথা কচ শুনতেও পারে। আমি তখন পাশের ঘরে শুয়ে টরেন্টোর জার্নালটার উপর চোখ বুলিয়ে যাচ্ছিলাম। দেবযানি কচ শুনে চমকে উঠলাম। কচ দেবযানী, রবীঠাকুরের বিদায় অভিশাপ। সঞ্চয়িতার ভিতর এ কবিতাটি আছে। উমা দোলাকে নিয়ে কুসুমের বৌদির বাড়ীতে গেল। আমি চুপ করে শুয়ে থাকলাম। একবার ভাবলাম দোলাকে কেন নিষেধ করলাম না। আবার ভাবলাম, উমা কি ভাববে। আমি ঘুমিয়ে পড়লাম। দুপুরে লাঞ্চের সময় পার হয়ে যাচ্ছে তবু দোলাকে নিয়ে উমার আসার নাম নেই। খাবার টেবিলে দেয়াই ছিল, আমি নিয়ে খেতে শুরু করলাম। এমন সময় উমা হন্ত দন্ত হয়ে দোলাকে নিয়ে ঘরে ঢুকল।

(চলবে————–)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।