মজনু সভাপতি, টুলু সিনিয়র সহ-সভাপতি, বিপ্লব সম্পাদক
বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মতো নেতা বিশ্বে বিরল : তোফায়েল আহমেদ

ভোলা জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী, ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদ বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের দেশরতœ। তিনি কিভাবে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে আজকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে করেছেন। পৃথিবীতে অনেক নেতা এসেছে-আসবে, কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার মতো নেতা বিশ্বে বিরল। তার নেতৃত্বে পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে। যখন বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর টাকা বন্ধ করে দিয়েছে; তখন তিনি বলেছিলেন, আমরা নিজস্ব অর্থায়নে পদ্ম সেতু নির্মাণ করবো। আগামী ২৫ জুন যার উদ্বোধন করবেন শেখ হাসিনা নিজেই। দেশী-বিদেশী অনেক ষড়যন্ত্রের মধ্যেও নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। আমরা শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সুজলা সুফলা, শস্য শ্যামলা সোনার বাংলা গড়তে এগিয়ে আসি। শনিবার (১১ জুন) সকালে ভোলায় আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ৬ বছর পর শনিবার (১১ জুন) শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভার্চ্যুয়ালি সংযুক্ত হয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

(নব নির্বাচিত সভাপতি ফজলু কাদের মজনু, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মমিন টুলু, সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব)
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগ কখনই কারও বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগ বার বার ষড়যন্ত্রের স্বীকার হয়েছে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে দাঁড়িয়ে সৃষ্টির পতাকা উড়িয়েছে। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাংলাদেশ আজ স্বল্প উন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। এগিয়ে যাওয়ার নাম বাংলাদেশ। ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বাংলার মাটি এখনও রক্তাক্ত হয়ে আছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার অভিমুখে উন্নয়নের পতাকা হাতে দাঁড়িয়েছে। যারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে ইতিহাস থেকে মুছে দিতে চেয়েছিল, তারা আজ নিজেরাই ইতিহাস থেকে মুছে যাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদকসেবক আওয়ামী লীগের নেতা হতে পারে না। দূষিত রক্ত থাকলে ফেলে দিতে হবে। আওয়ামী লীগে ভালো লোকের অভাব নেই, এখানে খরাপ লোক আনার দরকার নেই।
সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রী পদ মর্যাদার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও বরিশাল-১ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বাংলাদশে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য এ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দীন নাছিম, কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম রাব্বানী, আনিসুর রহমান, ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মুকুল প্রমূখ।
প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মমিন টুলুর সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন ভোলা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম গোলদার, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব প্রমূখ।
দুপুর ২টার দিকে সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রী পদ মর্যাদার পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে প্রধান অতিথি তোফায়েল আহমেদ এমপির অনুমতিক্রমে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম নব নির্বাচিত কমিটির সভাপতি ফজলুল কাদের মজনু মোল্লা ও সিনিয়র সহ-সভাপতি আবদুল মমিন টুলু এবং সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব এর নাম ঘোষণা করে আগামী ৩ বছরের জন্য জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়। সম্মেলনে ডেলিগেট ও কাউন্সিলরসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনকে ঘিরে সম্মেলনস্থল ভোলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ ভোলা সদর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।
