মধ্যরাত : পর্ব-৬৮

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : কি অসীম সন্ন্যাস ব্রত এই নশিার, কি অসীম মহত্ব, ত্যাগ তিতিক্ষা আদর্শের সাগর কুলে দাঁড়িয়ে, এক যৌবন লালিত্যের শিখরে নিশা নারী জীবনের শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। সেদিন মোটেলে ওর ছেলে মেয়ে দুটিকে ওর স্বামীকে নিয়ে এসেছিল। বেশ হাঁসি খুশি উচ্ছল, চঞ্চল কোন বেদনার লেশ মাত্র ওর চোখে মুখে নেই। একখানা তাঁতের আকাশ নীল শাড়ী ওর শ্যামল দেহ ভারি মানিয়েছে। তাঁতের শাড়ী বাংলার মাটিতে বৈশিষ্টের স্থান দখল করেছে। বাংলাদেশের মেয়েরা বড় বড় ফাংশনে তাঁতের শাড়ী ও জামদানী শাড়ীর বেশী মার্যাদা দেয়। নিশার কাছে দেখলাম এর বেশ মূল্য আছে।
মোটেলে এসে অনেকক্ষণ দোলা ও উমার সাথে গল্পে মেতে উঠল। খাওয়া দাওয়া করল। ক্যাসেট প্লেয়ারে আমার একটি ইন্টারভিউ বাজিয়ে শুনল। আমার লেখা দুটো বইও নিয়ে গেল। আর ও বার বার বলল, সকালে খুব ভোওে ডিজনীতে যাবে। ওখানে কোথাও নাকি বা ডেটোনা সি-বিচের কাছে ওরা পিকনিক করবে। কোন ক্লান্তি নেই, শ্রান্তি নেই, হতাশা নেই, উজ্জ্বল স্বপ্নে ভরা দিনগুলির আশায় যেন উৎফুল্ল। নিশা রাত ১১টার সময় ওর স্বামী ছেলে মেয়ে নিয়ে চলে গেল। কি শান্ত, কি অসীম ধৈর্য্য, কি কর্তব্য নিষ্ঠা, এক তরুনী প্রেম ভালবাসা, ভালোলাগা, রোমাঞ্চ এর পৃথিবীতে, ওর কাছে কর্তব্য ত্যাগ অনেক অনেক বড়।
আমরা তার পরদিনই ডিজনীতে যাওয়ার জন্য তৈরী হয়ে নিলাম। সকালে গাড়ী ড্রাইভ করে আমরা আধা ঘণ্টার ভিতরই ডিজনী ওয়ালর্ডে পৌছে গেলাম। তেমনি আগের মতই লোকে লোকারণ্য। দোলা ও উমা শিশুর মত দৌড় ঝাপ করছে, সাবমেরিনে চড়ছে, সাবমেরিন সাগরের অতল তলে ডুব দিল। আবার কিছুক্ষণ পর উঠে এল, কেবল এ চড়ল, ঘোড়ায় চড়ে কতক্ষণ ঘুরল। কতক্ষণ বাদাম খেল, আইসক্রীম খেল, চাঁদে যাওয়ার জন্য বায়না ধরল। আমি বললাম, যাবে যাবে অত অস্থির হয়োনা। তখন আকাশে প্রচন্ড মেঘ করে বৃষ্টি। একটি ডেকোরেশনের দোকানের বাইরে কয়টা চেয়ার পাতা ছিল। সেখানে বসে আমি, দোলা, সুশান্ত, উমা গল্প করছিলাম। দোলা সিনডারেলা পুতুল, কৃষ্টালের ফ্লাওয়ার ব্যাজ কিনে আরও আজে বাজে যা দেখে তাই কিনতে চায়।
উমা রবেশী কিছু কোনার সখ নেই, ধীর শান্ত চিন্তিত। বার বার চাঁদে যাওয়ার বায়না ধরছিল। ও জায়গাটায় সত্যি বলতে কি আমারও ভয় হয়। যে গাড়ীটায় করে উঠি সে টা নশ্বর পৃথিবীতে নেমে আসবে কি না সন্দেহ হয়। আকাশ তখন বেশ পরিস্কার হয়ে এসেছে। আকাশে অসংখ্য তারা ঝিক ঝিক করছিল। শুল্ক পক্ষের বড় চাঁদটা নীল আকাশের কোনে উকি দিল। অনেক অনেক লোকজন ঘোরাফিরা করছিল। রাত প্রায় ১১টা, তবু লোকের যেন দেখার শেষ নেই। অসীম অনন্ত সে পিপাসা। মানুষের চোখের ক্ষুধা, মনের ক্ষুধা, দোখার ক্ষুধা। আমি সকলকে নিয়ে লিফটে উঠলাম। লিফট একটি ঘড়ের মাঝে আমাদের নামিয়ে দিল। তারপর বিরাট একটি ব্রীজের উপর চড়ে, অনেকখানি পথ হেটে গিয়ে আমরা চাঁদে যাওয়ার ট্রেনে চড়ে বসলাম। দোলা আমি পাশাপাশি বসলাম। সুশান্ত উমার পাশে বসেছিল। গাড়ী চলছে-ত চলছেই, কত তারা, কত চাঁদ উকি দিল। কত দস্যু আক্রমন করতে এল তীর-ধনুক নিয়ে। কত পাহাড়-পর্বত ডিঙ্গিয়ে তবে গিয়ে চাঁদে পৌছেছিলাম।
(চলবে——–)
