মধ্যরাত : পর্ব-৬৬

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

(গত পর্বের পর) : আমি সম্মতি জানিয়ে দিলাম। মেয়েটি চলে গেল। আমি কিচমিতে এসে খুব ব্যস্ত ছিলাম। এখানকার আবহাওয়ায় আমি দেশের মত অনুভব করছিলাম। প্রায়ই মোটেল থেকে সুন্দর সুন্দর লেক এর পাড় ঘুরে বেড়াই। কি যেন ভাবি, কোন অনাদি অনন্ত কালের স্বপ্ন মন্দিরে আমি অবস্থান করছি। সেদিন মোটেলে শুয়ে ছিলাম। ক্রিং ক্রিং করে ফোন বেজে উঠল। হ্যালো, আমি নিশা বলছি। এলেন না ? বললাম, আসব আসব ভাবছি। কল এখানে আমার বাংলাদেশের এক বান্ধবীর বিয়েতে আপনাদের দাওয়াতের কথা বলতে বলে দিয়েছি। নিশা বলল, আপনার মোটেলের রুম নং কত বলুন-ত ? আমি বললাম ৪-৫। আচ্ছা বিয়ের খাওয়ার অনুষ্ঠানে আসবেন কিন্তু। আমি বললাম, নিমন্ত্রণ পেলে আসতে চেষ্টা করব। ফোন ছেড়ে দিল।
আমি বিকেলে ইজি চেয়ারে শুয়ে বই পড়ছিলাম। এক ভদ্রলোক বললেন, আসতে পারি ? বললাম, নিশ্চয়ই। ভাদ্রলোক সৌম্য শান্ত নিরীহ মুখ নিয়ে এসে একটি বিয়ের কার্ড এগিয়ে দিলেন। আমি বললাম, ধন্যবাদ। আমাদের সকলকেই নিমন্ত্রণ করেছে। তারপর দিন হোটেল রামাডাইন-এ আমরা সকলেই গেলাম। অনেক লোক, বেশী রকমই বাঙ্গালী। সাদা লোকও কিছু কছিু আছে, তবে খুব কম। বরপক্ষের কি যেন লেন-দেন নিয়ে একটু খটর-মটর চলছিল। মেয়ের বাবা অশ্রুসজল চক্ষে দুহাত জোর করে বার বার ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছেন। ছেলে (বর) বার বার বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছিলেন। মেয়ে লাজন¤্র নেত্রে মাটির দিকে তাকিয়ে ছিল।
মেয়ের বাবা বলল, আপনারা দয়া করে মুখে কিছু দিন। তারপর কথা হবে। ছেলে পক্ষরা সব চেয়ার দখল করে ব্যস্ত হয়ে পড়ল। মেয়েকে দুটি মেয়ে ধরে বরের পাশের চেয়ারে বসিয়ে দিল। মেয়ে প্লেটে হাত ঢুকিয়েই বসে থাকল। তুলে খেতে চাইছেনা। এত লোক জনের হৈ-চৈ তে আমি খুব ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। তবুও সেই বিয়ের আসরে মেয়েটিকে আমি খুঁজে পেতে বের করলাম। সেদিন পথে আমি ওকে ভালকরে লক্ষ্য করিনি। বেশ অল্প বয়সের একটি ছিম-ছাম মেয়ে। বেশ সরল-সহজ আরম্বর বিহীন। মুখের কোথাও যেন একটু ভারী লাবন্যের আভা আছে। যেন দেখলে বার বার ঘুরে ঘুরে দেখতে ইচ্ছে করে। আমি দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। মেয়েটি আমাকে একটি চেয়ারে বসার জন্য অনুমতি করছিল। মেয়েটি আমাকে অনেক কথা বলল। ওর মায়ের কথা, আত্মীয়-স্বজনের কথা, দেশের অনেক খবর জানতে চাইল।
আমি যতটুকু ওর বাবার কাছে শুনেছি, ততটুকু জানালাম। আমি আবারও বললাম এসনা ? বলল ফোন করে জানাবে। বললাম, তোমার নাম কি ? বলল, নিশা। বললাম ছেলে-মেয়ে কয়টি ? বলল, এক ছেলে, এক মেয়ে। বয়স কত ? বড়-টির ১০, ছোট-টির ৮। বললাম, তোমার স্বামী কোথায় ? ডাক না ? একটু আলাপ করি। ও স্বামীর কাছে কয়েকবার এল ও গেল কিন্তু পরে এসে বলল, ও আপনাদের সাথে মোটেলে গিয়ে দেখা করবে। একদিন পরে আমি ওদের সাথে যোগাযোগ করে দোলা-উমা-সুশান্তকে নিয়ে ওর বাসায় গেলাম। আমাদের নীচ থেকে এগিয়ে এসে নিয়ে গেল। উপরে উঠে ঘরে ঢুকে যাকে দেখলাম। বেশ বয়স্ক ভদ্রলোক। নমস্কার বিনিময় করলাম। বুঝলাম ইনিই গৃহস্বামী। কথা বার্তায় বেশ সামাঞ্জস্য রেখে বলছিলেন, খুব ভদ্র ও বিনয়ী, মেয়েটির উপর খুব নির্ভরশীল।

(চলবে———)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।