মধ্যরাত : পর্ব-৫৭

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),
(গত পর্বের পর) : আমি যেন ধ্যান মগ্ন হয়ে ভাবছিলাম অনেক অনেক কথা। দোলা কাছে এসে বলল, দাদু তোমার শরীর ধারপ ? আমি হেসে উঠলাম, নাওে; এমনিতেই চুপ করে ভাবছিলাম। আমি বললাম, দোলা জুনের প্রথম সপ্তাহে আমাদের ইউনিভার্সিটি প্রায় তিন-চার মাসের জন্য ছুটি হবে। চলনা সুশান্তটা বার বার লিখছে একবার টরেন্টো থেকে ঘুরে আসি। দোলা বলল, তাই চল দাদু। একেবারে এমেরিকায়ও যাওয়া যাবে। আমি যেন চমকে উঠলাম, বললাম তোর পড়াশুনা সব গুছিয়ে নে।
বললাম, হ্যাঁরে বড়দি’র চিঠি এসেছে ? দোলা বলল, না দাদু। দোলা বলল, জান দাদু; অনেক দিন মার কোন চিঠি পাইনি। আমি বললাম, আসবে মন খারাপ করিসনা। এখানে চিঠি আসতে অনেক দেরী হয় রে। তুই ভাল করে পড়াশুনো কর। তোর ভালো রেজাল্ট এর কথা শুনলে আমি বড় আনন্দ পাব। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। তাড়াতাড়ি ফোন ধরলাম। সুশান্তর গলা, হ্যাঁরে-প্রশান্ত কেমন আছিস ? অনেক দিন তোর সাথে কথা বলিনা ভালত ? বললাম ভাল, তুই ও উমা কেমন আছিস ? বলল, ভাল বাবা সব ভাল। আমি হেসে উঠলাম, সুশান্ত বলল বড় হাসছিস যে। আমি বললাম, এমনি-ই। সুশান্ত বলল, তা তুই কবে আসবি আমার এখানে ? বললাম, জুনের প্রথম সপ্তাহে। দোলা আসবেতো ? আমি বললাম, নিশ্চয়। সুশান্ত বলল, তা মিস ডোরার চিঠি পেয়েছিস ? না ভাই অনেক দিন হয় পাইনি। আমার কাছে উমার কাছে চিঠি দিয়েছে। লিখেছে তোদের নিয়ে ভার্জিনিয়ায় গিয়ে বেড়িয়ে আসতে। ডিজনী ওয়ালর্ডে বোধ হয় সময় পেলে যেতে পারে। লিখেছে, এবার আর অন্য সাথী নেওয়ার প্রয়োজন হবে না, আপনারাইত আছেন।
সুশান্তর কথাগুলো যেন আমি দম বন্ধ করে শুনলাম। ডোরা আমাকে চিঠি দেয়না, জিভে স্বাদ এসে গিয়েছিল। লিখেছে, প্রশান্তর ওখানে, আমার বড়দিনের ছুটিটা স্বপ্নের মত কেটেছে। আমি বললাম, চিঠি দিস- ফোন রাখি। অনেকক্ষণ চুপ করে ভাবলাম। তারপর মন থেকে সব কিছু মুছে ফেলে ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার জন্য তৈরী হলাম। ইউনিভার্সিটিতে গেলাম বিকেলে ফিরে এলাম। সেদিন একটা বাংলা বই কম্বোডিয়াতে নষ্টনীড়। রবীঠাকুরের লেখা দুটো টিকেট নিয়ে এলাম।
(চলবে—-)
