সর্বশেষঃ

মধ্যরাত : পর্ব-৫০

ড. তাইবুন নাহার রশীদ (কবিরত্ন),

 (গত সংখ্যার পর) : ছেলেটি খুব চঞ্চল, স্থিরতা খুব কম। বৌদি অনেক গল্প করল, ভাইয়ের একমাত্র ছেলে। বাবা-মার খুব আদরের, ছোট বেলা থেকেই স্কলারশিপ এ পড়াশুনা করেছে। বোন ৫টি সকলেরই বিয়ে হয়েছে। বাবা-মা খুব বৃদ্ধ। বাবা এখন চলা ফেরা করতে পারে না। বাতে একেবারে পঙ্গু হয়ে গেছে। বাড়ীর অবস্থা মোটামুটি। এখানে কেউ খারাপ বলেনা, সকলেই বিরাট বড় লোকের মেয়ে, এত এত বাড়ী-গাড়ী। সকলের মুখেই তাই শুনি, কেউ গরীব বলতে শুনিনি।
শ্যামল কোন কথাই বললনা, শুধু বড় বড় চোখ দিয়ে তাকিয়ে দেখল। কথা শুনল, কথা বলার চেয়ে বোধ হয় শুনতে ভালবাসে, মনে হল জ্ঞানী। দোলাকে বললাম, চা দেবার জন্য। দোলা চা নিয়ে এল। ওরা চা খেল, গল্প করল, চলে গেল। কয়েকদিন কলেজে ঘোরাঘুরি করলাম দোলার ভর্তির ব্যাপার নিয়ে, বলল সময় লাগবে।
দোলাকে বললাম, দোলা পড়াশুনা করো। অস্থিও হয়োনা। সেদিন ভবতোষ বেড়াতে এল। ওর এক ভাই স্পন্সার-এ এখানে বেড়াতে এসেছে। ওকে আমার বাসায় নিয়ে এল। ও নাকি আরও উচ্চ ডিগ্রী নেওয়ার জন্য মন্ট্রিলে বেড়াতে এসেছে। দেখবে এখানকার পড়ার মান কতটুকু উন্নত। ছেলেটি বেশ স্থির শান্ত, বসল চা খেল কোন কথা বললনা। ভবতোষ অনেক গল্প করল। শ্বশুর বাড়ীর গল্প, শ্বশুর মশায় খুবই গরীব ছিল। ও নিজে যেচে গিয়ে বিনা পণে বৌকে গ্রহণ করেছে। সেজন্য ওর শ্বশুর ওকে খুব পছন্দ করতেন ও অনেক আশ্বির্বাদ করেছেন। ভবতোষ বলল, ভাই মেয়েকে আমি পণ দিয়ে বিয়ে দেবনা। বিনা পণে যদি কেউ বিয়ে করে করবে, না হয় পড়াশুনা করাব, মেয়ে চাকরী-বাকরী করবে।
এই পণ প্রথা তুলে দেওয়া উচিত। ভবতোষ বলল, আমি নিজে খুব গরীবের ছেলে। আমার দিদি’র বিয়েতে বাবা পণ দিতে পারেনি বলে, আমার দিদি’র বর বিয়ের পিড়ি থেকৈ উঠে গেলেন। আমার দিদি আর বিয়ে করেননি, সারা জীবন মিস ছিল। স্কুলে টিচারী করে বুড়ো হয়েছিল। আমাদের সংসারে সেই ছিল অধিষ্ঠাত্রী। তার কথামত কে কোনটা পড়বে, কে কোনটা খাবে, কার কখন বিয়ে হবে, সব দিদি’র কথা মত চলবে। বাবা বলতেন, তোমার দিদি যা বলবেন- আমার অনেক রাগ ছিল দিদিও কথা মত সব ? তোমরা মা-বাবা তোমরা দেখবেনা, তোমরা কি জন্য আছে ? বাবা বলতেন, আমার দারিদ্রতার জন্য ওর জীবনের সাধ আল্লাদ নষ্ট হয়ে গেল। ওর স্বামীর সোহাগ ভালবাসা ওর জীবনে আসেনি। তোরা যারা যাচ্ছিস সাধ করতে, সখ মিটাতে দিদিও আশ্বির্বাদ আমরণ পর্যন্ত নিয়ে যাবি। আমি ওকে বাড়ীর গুরু দায়িত্বের অধিকার দিয়ে গেলাম।
দিদি আমাদের খুব ¯েœহ করেন, নিজে না খেয়ে খাওয়াবেন। আমার বিয়ের সময় দিদিই বললেন, ভদ্রলোক যখন এত গরীব থাক পণ আমরা নেব না। সুষমাকে স্বাদরে বরণ করব। দিদির কথা মত সব হল বাড়ীতে একটি কথা বলার কারও ক্ষমতা হলনা, দিদির আদেশ-
ভবতোষ বলল, দিদিও যখনি বয়ে হচ্ছিল আমি তখন সিকসে পড়ি। দিদি বিয়ের পিড়িতে জামাই বাবুও বিয়ে পিড়িতে। ঠাকুর মন্ত্র পাঠ করছেন। জলতপ চলচে সামনে আগুন জ্বলছে। তখন বরের বাবা এসে বলল সত্যব্রত চলে আয়। আগে সব রাজী হয়ে এখন বলছে মাফ করবেন, আমি অক্ষম। না তা হয়না, আমরা এখনই বিয়ের মঞ্চ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। সত্যব্রত চলে গেল পরণে বাবার দেওয়া ধুতী, গায়ে চাদর, কপালে চন্দনের তিলক। দিদিও পরণে বেনারসী, গায়ে হালকা গহনা, কপালে স্বেত চন্দনের আল্পনা।

 (চলবে—-)

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।