ভোলায় এক দিনে ৬৩ হাজার ৯০০ জনকে দেওয়া হবে করোনার টিকা

উপকূলীয় দ্বীপ জেলা ভোলায় এক দিনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৮ বছর উর্ধ্ব ৬৩ হাজার ৯০০ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হবে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি সিনোভাইক এ টিকা দেওয়া হবে। ওই দিন দেশে এক দিনে এক কোটি মানুসকে এ টিকা দেওয়া হবে। এর জন্য গ্রাম পর্যায়ে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্য অস্থায়ী টিকাদানকেন্দ্রগুলোকেও কাজে লাগানো হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মীরাও টিকাদান কার্যক্রমে অংশ নেবেন। প্রয়োজনে অতি বয়স্ক এবং যাঁরা চলাফেরা করতে পারেন না, তাঁদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরো সহজতর হবে। শুধুমাত্র জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বরটা নিয়ে এসব কেন্দ্রে হাজির হলেই পাওয়া যাবে টিকা। এরই মধ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে। কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে সারা দেশে। প্রচার প্রচারনার জন্য মাইকিংও করা হচ্ছে। পাশাপাশি কভিড টিকা ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও বেরিয়ে পড়েছেন মাঠের প্রস্তুতি দেখতে।
ভোলার সিভিল সার্জন ডা. কে এম শফিকুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করে বুধবার জানান, আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ম্যাগা ক্যাম্পেইন কর্মসূচির আওতায় প্রথম ডোজ হিসাবে দেশে এক দিনে এক কোটি মানুষকে টিকা দিবে স্বাস্থ্য বিভাগ। সেই লক্ষে ভোলা জেলার সাত উপজেলার ৬৮ ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডসহ মোট ২১৩ টি ওয়ার্ডে টার্গেট রয়েছে ৬৩ হাজার ৯০০ জনকে টিকা দেওয়ার। এমনকি ভোলার দুর্গম চরাঞ্চলেও দেওয়া হবে এ টিকা।
তিনি আরও জানান, এর জন্য ইতিমধ্যেই সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। করা হচ্ছে প্রচার প্রচারনা। একটি ওয়ার্ডকে ৮ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে ৮ জন করে জেলায় মোট ২১৩টি ওয়ার্ডে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ ১ হাজার ৭০৪ জন স্বেচ্ছাসেবক কর্মী কাজ করবেন। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারির পাশাপাশি স্থানীয় জন প্রতিনিধি, রাজনেতিক নেতৃবৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, রেড ক্রিসেন্টের ভলেন্টিয়ার, ক্লাব প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে টিকা দেশে আসা এবং টিকা দেওয়ায় গতি বাড়াতে এসব পরিকল্পনা সাজানো হলেও উপকূলীয় এ জেলার অধিকাংশ মানুষ মৎস্যজীবী পেশায় জড়িত থাকায় তারা এখন পর্যন্ত টিকা নিতে পারেননি। প্রয়োজনে ঘরে ঘরে গিয়ে খুঁজে খুঁজে করোনার টিকা দেওয়া হবে। এ বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম।

ফেসবুকে লাইক দিন

আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ।